পড়ানো হচ্ছে না বিনামূল্যের গ্রামার ও ব্যাকরণ, গাইড বই’র রমরমা ব্যবসা

প্রকাশিত: ১:২০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯ | আপডেট: ৪:০৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

আব্দুল্লাহ আল মামুন, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: নাজপুরের পার্বতীপুরে ২০১৯ শিক্ষা বছরে মাধ্যমিক, ইবতেদায়ী ও দাখিলে ২৬ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে মোট ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ কপি বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিকে ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০, এবতেদায়িতে ৬৯ হাজার এবং দাখিল ১লাখ ৩৪ হাজার ৯০০কপি।

৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৮ হাজার ৫০০, ৭ম শ্রেণিতে ৬ হাজার ৫০০, ৮ম শ্রেণিতে ৬ হাজার ও ৯ম শ্রেণিতে ৫ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে বই দেয়া হয়। বিতরণকৃত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলা ১ম পত্র, বাংলা ২য় পত্র, ইংরেজী ১ম পত্র ও ইংরেজী ২য় পত্র, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ইসলাম ও নৈতিকতা শিক্ষা, হিন্দু ধর্ম ও নৈতিকতা শিক্ষা, কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ অর্থনীতি এবং চারু ও কারুকলা।

নবম শ্রেনীতে এসব বই এর সাথে উচ্চতর গণিত, তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি, ক্যারিয়ার শিক্ষা, পদার্থ বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান ও রসায়ন, পৌরনীতি ও নাগরিকতা, অর্থনীতি, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, বিজ্ঞান, হিসাব বিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, ব্যবসায় উদ্দ্যোগ, ভূগোল ও পরিবেশ।

এসব বই উপজেলার ৬৭টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৬টি স্কুল এ্যান্ড কলেজ এবং ৩৯ মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীর হাতে তুলে দেয়া হয়। জানা যায়, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিগত বছরগুলোর ন্যায় এবারও উৎসব মূখর পরিবেশে বছরের প্রথম দিন (১জানুয়ারী) বই বিতরণ করা হয়। নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অনাবিল আনন্দ উচ্ছাস লক্ষ করা যায়।

কিন্তু নতুন বই প্রাপ্তির পর পরই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে গ্রামার, ব্যাকরণ ও গাইড বই কেনার জন্য যখন একটি করে চিরকুট ধরিয়ে দেয়া হয় ঠিক তখনই সব আনন্দ হাসি ম্লান হয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ৪/৫টি বিদ্যালয় ছাড়া সবগুলোতে বিনামূল্যে বিতরণকৃত পাঠ্যবই’র সাথে গ্রামার, ব্যাকরণ ও গাইড বই শিক্ষর্থীদের কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা বিনামূল্যের পাঠ্য বই’র মধ্যে বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজী গ্রামারও থাকে। কিন্তু কোন শ্রেনীতে বিনামূল্যের বই দুটি পড়ানো হয় না। যে কারণে গত ৯ বছরেও অভিভাবকদের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির অবসান হয়নি। অভিভাবকদের অভিযোগ ২০১০সাল পর্যন্ত পাঠ্যবই নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলেছে এখানে।

বাংলাবাজার ভিত্তিক কিছু প্রকাশনা নামে বেনামে গ্রামার ব্যাকরণ বই ছাপিয়ে এখানকার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসাধু ও দূর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষকদের যোগসাজসে এসব বই পাঠ্যভুক্ত করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছে। ২০১১সাল থেকে সব শ্রেণির জন্য পাঠ্যবই বিনামূল্যে বিতরণ করা হলেও এখনও নামধারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজী গ্রামার বই বিদ্যালয় সমূহ মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে পাঠ্যভুক্তকরণ চলছে।

এর ফলে এনসিটিবি’র যে মহৎ লক্ষ ছিলো শিক্ষার্থীদের অভিন্ন মেধাবিকাশ তৈরী তা পুরোপুরি ব্যহত হচ্ছে। এদিকে বিনামূল্যে বিতরণকৃত এসব গ্রামার ও ব্যাকরণ বই সরবরাহ করতে সরকারের অপচয় গুনতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকার ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পার্বতীপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবদুস সাত্তার সরকার দূর্নীতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সদ্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলমা নাহিদ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত গাইড বই নিষিদ্ধের পক্ষে দেশব্যাপি জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

তবে সংসদে এ সংক্রান্ত কোন বিল উত্থাপন ও পাশ না হওয়ায় গাইড বই দেদারছে চলছে। প্রতিটি শ্রেণিতে বিনামূল্যে গ্রামার ব্যাকরণ পাঠ্যভুক্ত না করার বিষয়টি দূঃখজনক বলে মনে করেন তিনি। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।