ফরিদপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রসূতির সন্তান ‘জয়িতা’ পেল মায়ের কোল

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০১৯ | আপডেট: ১২:২৪:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০১৯

শাহজাহান হেলাল,ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ ৫ জানুয়ারী শনিবারঃ ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রসূতির সন্তান ‘জয়িতাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে দত্তক দিল বোয়ালমারী উপজেলা প্রশাসন।

২১ ডিসেম্বর রাস্তায় প্রসব কাতর মানসিক ভারসাম্যহীন একজন প্রসূতিকে নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মী গাজী রাহাতুজ্জামান সেতু, মো. আল আমিন, মো. রাজিব মিয়া যখন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন তখন এগিয়ে আছেন বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন দায়িত্ব নেন মানসিক ভারসাম্যহীন প্রস‚তির।

ভর্তি করিয়ে দেন বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে প্রসূতিকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস বিশ্বাস। প্রসব সমস্যার সাথে অনুসঙ্গ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে চিকিৎসকগণ তিন দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখেন, প্রসূতির অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়। ২৫ ডিসেম্বর ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে সিজারের মাধ্যমে ভ‚মিষ্ঠ হয় জয়িতার ।

বোয়ালমারী উপজেলা প্রশাসন ঘোষণা দেন জয়িতার অভিভাবকত্বের। বেশ কয়েকটি দম্পতি জয়িতার অভিভাবকত্ব গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। আগ্রহীদের স্বাক্ষাতকার শেষে আলফাডাঙ্গা উপজেলার মিঠাপুর গ্রামের সন্তান হীন সাহিদুল ইসলাম দম্পতির কোলে শর্ত সাপেক্ষে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন ও জয়িতার পৃথিবীর আলো দেখাতে সহায়তা প্রদান কারি স্বেচ্ছাসেবকগণ। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক ভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের কার্যালয়ে সাহিদুল ইসলাম দম্পতির কোলে তুলে দেওয়া হয় জয়িতাকে।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহধর্মিণী নাসরিন ফেরদৌস চৌধুরী, সাংস্কৃতিক কর্মী গাজী রাহাতুজ্জামান সেতু, আল্ আমিন, রাজিব, ঘুরিফিরি ফরিদপুরের মডারেটর শুভঙ্কর শুভ সাংবাদিকবৃন্দ প্রমুখ। এ সময় জয়িতার দত্তক পিতা-মাতার হাতে জয়িতার জন্য উপহার সামগ্রী তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহধর্মিণী নাসরিন ফেরদৌস চৌধুরী এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

জয়িতার জন্য প্রবাসী কমরেড খন্দকারের পাঠানো পাঁচ হাজার টাকাসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার দশ হাজার টাকা তুলে দেন জয়িতার দত্তক পিতা-মাতার হাতে। তিনি এ সময় জয়িতার মাকে উদ্ধারকারী, চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী ও আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।