ফিস্টুলার লক্ষণ, প্রতিকার সম্পর্কে ডা. আহমেদ তানভীরের চমৎকার পরামর্শ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ১১:১৮:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮
ছবিঃ সংগৃহিত

টিবিটি স্বাস্থ্য-কথাঃ পায়ুপথের সঙ্গে চামড়ার অস্বাভাবিক সংযোগই হচ্ছে ফিস্টুলা বা ভগন্দর৷ এই ফিস্টুলা হওয়ার আগে রোগীর মলদ্বারের আশপাশে প্রথমে ফোঁড়া হয় ৷

এই ফোঁড়া অযত্নে-অবহেলায় নিজে নিজেই ফেটে যেতে পারে কিংবা অধিকহারে পুঁজ বের হওয়ার দরুন ফোঁড়া বৃদ্ধি পেয়ে মলদ্বারের ভেতর ও বাইরের মধ্যে অস্বাভাবিক সংযোগ স্থাপন করে ৷

ফিস্টুলা দুই ধরণের

আমাদের কাছে যেসব রোগীরা আসেন তারা সাধারণত দুই ধরনের ফিস্টুলা নিয়ে আসেন। এর একটিকে আমরা (ডাক্তার) বলি সাধারণ ফিস্টুলা। এটি মলদ্বারের মাংসপেশির খুব একটা গভীরে প্রবেশ করে না। ফলে এর চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে সহজ।

আরেকটি হলো জটিল ফিস্টুলা। এটি বেশ কয়েক রকমের হতে পারে। এটা নির্ভর করে ফিস্টুলার শেকড় মলদ্বারের মাংসের কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে তার উপর। ফিস্টুলার শেকড় যদিন অনেক ভেতরে পৌঁছায় এবং অপারেশন ব্যর্থ হয় তাহলে রোগী মল আটকে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।

লক্ষণ

রোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মলদ্বার ফুলে যায়, মলদ্বার ব্যথা হয়, পুঁজ বা আঠাল পদার্থ বের হয়।

এমতাবস্থায় আমরা ( ডাক্তার) রোগ নির্ণয়ের জন্য বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করি। প্রক্টস্কপি, সিগময়ডস্কপি, কোলনস্কপি, বেরিয়াম এক্স-রে, ফিস্টুলো গ্রাম, এনাল এন্ডোসনোগ্রাফি ইত্যাদি।

তবে অনেক রোগীরই ফোঁড়া ফেটে গিয়ে পুঁজ বের হয়ে গেলে ব্যথা এবং ফোলা কমে যায়। তখন অনেকেই ভাবেন, রোগ ভালো হয়ে গেছে। কিন্তু মাস দুয়েকের ভেতর আবার সমস্যা দেখা দেয়।

পেশা জীবনের অভিজ্ঞতায় দেখি, আমাদের কাছে যারা ফিস্টুলার সমস্যা নিয়ে আসেন তাদের বেশিরভাগ নানা ক্ষেত্রে অপচিকিৎসার শিকার হয়ে আমাদের কাছে আসেন।

এমনও দেখা যায়, তারা হয়তো কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করেন যা শেষ পর্যন্ত মলদ্বারের ক্ষতি করে। ঘা হয়ে যায়। মলদ্বার এত সরু হয়ে যায় যে পায়খানাই করতে পারছে না। খুব খারাপ অবস্থা নিয়েই এলে আমাদের কাছে আসেন।

তাই ফিস্টুলা হলে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে। এ রোগ বেশিদিন বয়ে বেড়ানো ঝুঁকিপূর্ণ।

**পরামর্শদাতা : কনসালটেন্ট, জাপান- বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হসপাতাল
শ্রুতি লেখক: আলী আদনান