ফের জামালপুরের অবন্তীর বাজিমাত, প্রশংসায় ভাসালেন নিজেকে!

টিবিটি টিবিটি

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০১৮ | আপডেট: ১১:০১:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০১৮

টিবিটি বিনোদনঃঅবন্তি দেব সিঁথি। কিছুদিন ধরে তার লুকানো প্রতিভায় মুগ্ধ সবাই। বাংলাদেশের জামালপুরে বড় হয়েছেন তিনি। নিজের গানের সঙ্গে নিজেই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন দেখিয়ে সবার মন জয় করে নিয়েছেন।

অবন্তি ক্লোজআপ-ওয়ান দিয়ে দেশের দর্শকের মন স্থান পেয়েছেন অনেক আগেই। মিষ্টি শিস বাজানো ও কাপ সং নিয়ে এবার ভারতে, জি বাংলার ‘সা-রে-গা-মা-পা-’ অনুষ্ঠানে অতিথি শিল্পী হিসেবে গান করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন নতুন করে। তবে তার এই চমক বেশ দাগ কেটেছে দুই বাংলায়।

যেখানে প্রতিযোগিতার বিচারক-উপস্থাপক-দর্শক সবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অবন্তির সেই পারফরম্যান্সের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে বেশ জোরেশোরে। অনেকে সেদিন থেকে মাতাল হয়েছেন তার সুরে।

জি বাংলায় অনুষ্ঠানটি প্রচারের পর থেকেই প্রশংসায় ভাসছেন অবন্তি। সা-রে-গা-মা-পা-র সেই এপিসোডে কিশোর কুমারের ‘আকাশ কেন ডাকে’ গানটি পরিবেশন করেছিলেন অবন্তি। গানের সঙ্গে দু’টি কাপের তালে ও শিস বাজিয়ে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিলেন তিনি।

এদিকে এবার সেই অবন্তী প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও বাজিমাত করেছেন। গতকাল রোববার রাতে প্রচার হওয়া পর্বে দেখা যায় কোনো রকম ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই একটি চায়ের কাপ, দুটি চামচ, একটি হারমোনিয়ামের খোল আর শিস বাজিয়ে তিনি পরিবেশন করেন শ্যামল মিত্রের বিখ্যাত গান ‘আমি চেয়ে চেয়ে দেখি সারাদিন’ গানটি।

তার পরিবেশনার সেই গানটি শুনে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন শ্রীকান্ত আচার্য, শান্তনু মৈত্র, কৌশিকী চক্রবর্তী, মোনালী ঠাকুর ও পণ্ডিত তন্ময় বোস। তারা সবাই অবন্তির পারফরম্যান্সের পর দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানান। শান্তনু মৈত্র্য অবন্তিকে ‘বিস্ময়কর’ গানের প্রতিভা বলেও সম্বোধন করেন।

আর এই পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ‘সা-রে-গা-মা-পা-’ র ২য় রাউন্ড পেরিয়ে মূল পর্বে চলে গেলেন জামালপুরের মেয়ে অবন্তি। তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিযোগী যিনি প্রথমবারের মতো এই অনুষ্ঠানের মূল পর্বে লড়াই করার যোগ্যতা অর্জন করলেন।

অবন্তির এই সাফল্যে তাকে শুভেচ্ছায় ভাসাচ্ছে দেশের কোটি কোটি দর্শক। বাংলাদেশে তার গানের ভিডিওটি শেয়ার দিয়ে সবাই অবন্তির সাফল্যও কামনা করছেন।

জি বাংলার এই অনুষ্ঠানে আগের পর্বে তাকে ‘শিস প্রিয়া’ উপাধি দেয়া হয়। তিনি স্কুলে পড়ার সময়ই শিসের আওয়াজ শুনতে বেশ পছন্দ করতেন। ক্লোজআপ ওয়ানের মঞ্চে এসে শিষ বাজিয়ে বুঝেছিলেন এটাও একটা শিল্প।

ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি ভালোবাসা অবন্তির। বড় বোন গান শিখতেন, আর ছোট্ট অবন্তি তার পাশে বসে থাকতেন। পরে ওস্তাদের উৎসাহে নিজেও গানের তালিম নিতে শুরু করেন। গানের জন্যে অসংখ্য পুরস্কারও পেয়েছেন। ২০০৬ সালে ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছিলেন, তবে বেশিদূর যেতে পারেননি।

২০১২ সালে আবারো একই মঞ্চে ফিরেছিলেন অবন্তি, ক্লোজআপ ওয়ানের সেই আসরে সেরা দশ প্রতিযোগীর একজন ছিলেন তিনি। সেই প্রতিযোগিতাতেই ‘হুইসেল কুইন’ খেতাবও পেয়েছিলেন এই মেয়ে। মুখ দিয়ে নানা রকমের শব্দ করতে পারেন অবন্তী, সেটারই কিছু ঝলক সেই আসরে দেখিয়েছিলেন।

আইয়ুব বাচ্চুর ‘সেই তুমি’ গানের সঙ্গে নিজস্ব ধাঁচে তার দারুণ সংগীতায়োজন মন কেড়ে নিয়েছিল বিচারকদের। পার্থ বড়ুয়া তো তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেনই সেই সময়।

ক্লোজআপ ওয়ান দিয়ে নিজের খানিকটা পরচিতিও পেয়েছিলেন অবন্তী। এরপরে দুটি সিনেমায় তিনি প্লেব্যাকও করেছেন। এরপরেই এলো এখন পর্যন্ত অবন্তির জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অর্জন ‘কাপ সং’।

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করা অবন্তি গত বছরের জানুয়ারিতেও অংশ নিয়েছিলেন সা-রে-গা-মা-পা-’র একটা পর্বে। ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যাওয়া তার কাপ গানগুলো দেখেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন সা-রে-গা-মা-পা- অনুষ্ঠানের প্রশিক্ষক রথিজিত ভট্টাচার্য।

প্রথমে খানিকটা নার্ভাস থাকলেও, পরে ওই বাংলার এই প্রতিযোগিতায় অতিথি প্রতিযোগী হিসেবে অংশগ্রহণে রাজী হয়েছিলেন অবন্তি। তার পারফরম্যান্সে সেবারের বিচারক কুমার শানু খুব প্রশংসা করেছিলেন।