এখনও বন্ধ হয়নি লেগুনা, যেখানে-সেখানে থামছে বাস

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:০৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ | আপডেট: ৪:১০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামানের ঘোষণা অনুযায়ী রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোয় হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলের তেল মিলছে না। এতে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলের চালক তেল কিনতে এসে বিপাকে পড়লেও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ট্রাফিক পুলিশ ও সাধারণ জনগণ। তবে বন্ধ হয়নি রাজধানীতে লেগুনা চলাচল, বাসও থামছে যেখানে-সেখানে। এতে ডিএমপি কমিশনারের ঘোষণা বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত স্থানে যাত্রী ওঠা-নামা, গাড়ি চালানোর সময় গেইট লক রাখা, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়ের হেলমেট ব্যবহার, বাসে চালকের ছবি ও মোবাইল নাম্বার লাগানো, বেতনভিত্তিক পরিবহন চালানো এবং যত্রতত্র রাস্তা পারাপার না হওয়ার নির্দেশনা মানছেন না অধিকাংশ চালক ও পথচারী।

সড়কে মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সচেতনতার জন্য ১০ দিনের বিশেষ ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহ পালন করেছিল ডিএমপি। কিন্তু তারপরও সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার সংবাদ সম্মেলন করে ফের ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বর মাসব্যাপী (৫-৩০) চলমান ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও বেগবান করা হবে। সেসময় তিনি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেসব না মানা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হবে ঘোষণা দিয়েছিলেন কমিশনার।

কিন্তু ঘোষণার পরদিন বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর গুলিস্তান, মালিবাগ, মুগদা, মিরপুর, আজিমপুর, মহাখালী, ফার্মগেইট ও মোহাম্মদপুর সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কমিশনারের নির্দেশনা অধিকাংশই মানছেন না। যত্রতত্র যাত্রী ওঠা-নামা করানো হচ্ছে, গাড়ির গেইট লক রাখা হচ্ছে না। তবে সড়কে দায়িত্বরত পুলিশ কিংবা ট্রাফিক সার্জেন্টের দেখলে সেগুলো মানলেও তাদের আড়াল হলেই আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে তারা।

সরেজমিনে মহাখালীতে স্কাইলাইন, গুলিস্তান-গাজীপুর, বলাকা ও ৬ নম্বর মতিঝিল পরিবহনসহ বেশ কয়েকটি পরিবহনকে দেখা যায়, ট্রাফিক মোড় অতিক্রম করে যে যেভাবে পারছে যাত্রী উঠাচ্ছে-নামাচ্ছে। একই অবস্থা ছিল আসাদ গেইট থেকে নিউমার্কেট ও আজিমপুরগামী পরিবহনেও।

এসময় কোনো পরিবহনে চালকের ছবি ও মোবাইল নাম্বারও ছিল না, যেটি না মানলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছিলেন ডিএমপি কমিশনার। এমনকি সরকার নিয়ন্ত্রিত বিআরটিসি বাসও এসব নিয়ম মানছে না। তারাও যেখানে যাত্রী পাচ্ছে সেখানেই বাস থামিয়ে যাত্রী তুলছে।

এদিকে, রাজধানীর সড়কগুলোতে লেগুনা চলতে পারবে না এমন ঘোষণার পর সকাল থেকে বাড্ডা-মহাখালী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় কোনো লেগুনা চলতে দেখা যায়নি। কিন্তু ঘোষণার পরও অন্যদিনের মতো লেগুনা চলেছে রামপুরা ব্রিজ থেকে দক্ষিণ বনশ্রী-মাদারটেক, বাসাবো থেকে মুগদা, মালিবাগ ও গুলিস্তান, গুলিস্তান থেকে আজিমপুর, ইসলামবাগ, সোয়ারিঘাট ও ফার্মগেইট থেকে জিগাতলা এবং নিউ মার্কেট এলাকায়।

গুলিস্তান থেকে আজিমপুরের একটি লেগুনার চালক লোকমান বলেন, ‘লেগুনা না চালানোর ঘোষণা শুনেছি কিন্তু আমাদের এখানে কেউ কোনো নির্দেশ দেয়নি। তাই আমরা এখনও চালাচ্ছি। নির্দেশ এলে হয়তো চালাবো না কিন্তু আমরা পেট চালাবো কিভাবে?’

একই কথা বললেন রামপুরা ব্রিজ এলাকার লেগুনা চালক রুবেল উদ্দিন। তিনি সাররাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো নির্দেশ পাইনি এটা না চালানোর জন্য। কিন্তু নির্দেশ পেলেও কি এসব কেউ মানবে? আর এটার কারণে তো লোকজন অল্প টাকায় যাওয়া-আসা করতে পারে। কিন্তু এটা না থাকলে তো বেশি টাকা দিয়ে রিকশা করে যেতে হবে তাদের।’

মাদারটেকের একজন যাত্রী রানী বলেন, ‘আমাদের এদিকে তো কোনো বাস চলে না। যদি লেগুনা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আমাদের প্রতিদিন দেড় থেকে দুইশ টাকা চলে যাবে রিকশা ভাড়া। যদি লেগুনা বন্ধ করে তাহলে আমাদের কথাও চিন্তুা করতে হবে সরকারকে। আমাদের জন্য অন্য ব্যবস্থা করে দিক।’

রামপুরার ট্রাফিক পুলিশের একজন পরিদর্শক (টিআই) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কমিশনারের কাছ থেকে আমাদের কাছে লেগুনা বন্ধের ব্যাপারে লিখিত কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি লেগুনা বন্ধ করা হবে।’

বাংলাদেশ হালকা যানবাহন চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বোরহান হালদার বলেন, ‘ডিএমপি কমিশনারের ঘোষণার পর রুট পারমিট না থাকায় এবং অধিকাংশ চালকদের লাইসেন্স না থাকায় আমরা লেগুনা চালানো বন্ধ রেখেছি। আমরা চেষ্টা করছি এ পরিবহন খাতেও যেন একটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়।’ এজন্য তাদের যেন রুট পারমিট দেওয়া হয় সে বিষয়টি বিবেচনায় আনতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

ডিএমপির পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘লেগুনা বন্ধের বিষয়টি কোথায় কোথাও হয়েছে, তবে যেসব জায়গায় এখনও চলছে সেগুলোও পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে। সেই সঙ্গে আজ থেকে শুরু হওয়া বিশেষ ট্রাফিক অভিযানের মাধ্যমে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইন মানার প্রবণতা সৃষ্টি করাই এ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। কেউ আইন না মানলে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে।’