বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী সবুজ গালিচায় মোড়া ‘মধুটিলা ইকোপার্ক’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০১৮ | আপডেট: ১:৫৭:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০১৮

শাহরিয়ার মিল্টন : শেরপুর জেলার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র ‘মধুটিলা ইকোর্পাক’। প্রতিবছর শীত মওসুমে এখানে ভ্রমনপিয়াসীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে। পার্কের সুউচ্চ পর্যবেক্ষন টাওয়ারে উঠে মেঘ-রৌদ্দুরের খেলা আর চারপাশে উচু-নিচু পাহাড়ি টিলা ও সবুজের সমারোহ দেখতে ইকোপার্কটিতে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থী ও ভ্রমনপিয়াসীরা ভীড় জমান।

শেরপুর জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার, নালিতাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার উত্তরে পোড়াগাঁও ইউনিয়ন। ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় এ ইউনিয়নের মধুটিলা ফরেষ্ট রেঞ্জের সমেশ্চুড়া বন বীটের আওতায় ৩৮৩ একর বনভূমিতে গারো পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে সরকারীভাবে ২০০০ সালে নির্মিত হয় ‘মধুটিলা ইকোর্পাক’।

ইকোপার্কের সৌন্দর্য্য :
পার্কটির প্রধান ফটক পেড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই প্রথমে চোখে পড়বে সারি সারি গাছ বামপাশে ডিসপ্লে মডেল ও তথ্য কেন্দ্র। রা¯তার ডান পাশে গাড়ী পাকিং জোন আর দু-পাশে রকমারি পণ্যের দোকান। সামনের ক্যান্টিন পার হলেই পাহাড়ী ঢালু রাস্তা । এরপরই হাতি, হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, কুমির, ক্যাঙ্গারু, মৎস্যকন্যা, মাছ, ব্যাঙ, কুমির ও পশু-পাখির ভাষ্কর্য। পাশের আঁকাবাঁকা পথে ঘন গাছের সারি লেকের দিকে চলে গেছে। তারপর ষ্টার ব্রিজ পেড়িয়ে পাহাড়ের চুড়ায় পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠলেই নজর কেড়ে নেয় ভারতের তুরা জেলার উঁচু নিঁচু পাহাড় আর সবুজের সমারোহ। প্রকৃতির নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন ভ্রমনপিয়াসীরা। এখানে রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা, বন্য প্রাণীর বিরল প্রজাতি পশু-পাখির ভাষ্কর্য। রয়েছে ওষুধি ও সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এবং ফুলসহ নানা রঙের গোলাপ বাগান।

ইকোপার্কটি থেকে ভারতের দুরত্ব মাত্র ১ কিলোমিটার। যুগযুগ ধরে সীমান্তবর্তী এ পাহাড়ে গারো উপজাতিরা বসবাস করে আসছেন। এখানে খুব কাছে থেকে গারোদের জীবনধারা ও সংস্কৃতি দেখার সুযোগ রয়েছে। ইকোপার্কের চারদিকে সীমানা প্রাচীর না থাকায় ভ্রমন করতে আসা দর্শনার্থীরা নিরাপওাহীনতায় ভোগেন।

প্রবেশ মূল্য :
ইকোপার্কে ঢুকতে বাস-কোচ প্রতি ৬শ’ টাকা এবং জনপ্রতি ১০ টাকায় টিকেট কাটার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে আলাদা আলাদা মূল্য দিয়ে টিকিট কেটে পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠার ও শিশু পার্কে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। শুধু দিনের বেলায় ব্যবহারের জন্য ৬ হাজার ৯শ টাকার বিনিময়ে পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে চার রুমের শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত সুসজ্জিত মহুয়া নামের রেষ্ট হাউজ। এ রেষ্ট হাউজ ব্যবহার করতে চাইলে মধুটিলা রেঞ্জ অফিস, ময়মনসিংহ অথবা শেরপুর বন বিভাগ অফিসে বুকিং দিতে হয়।

আসা যাওয়া :
রাজধানী ঢাকা থেকে মধুটিলা ইকোপার্কের দুরত্ব প্রায় ২শ ২১ কিলোমিটার। ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুর আসতে হবে। শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী বাজার পর্যন্ত লোকাল বাস ও লেগুনা পরিবহন রয়েছে। এছাড়া শেরপুর থেকে ভাড়ায় সিএনজি অথবা মোটর সাইকেল যোগে মধুটিলা ইকোপার্কে আসা যায়। অথবা নিজস্ব গাড়ীতে সরাসরি ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুর পৌঁছানোর আগে নকলা উপজেলা থেকে নালিতাবাড়ী সদর হয়ে ইকোপার্কে আসা সহজ হয়। শীত মওসুম ছাড়াও ইকোপার্কে সারাবছরই দেশি-বিদেশি পর্যটক ও ভ্রমনপিয়াসীদের ভীড় লেগেই থাকে।

স্থানীয়দের দাবি :
এ পার্ক থেকে ইজারা বাবদ প্রতিবছর সরকারের প্রায় ৪২ লাখ টাকা আয় হলেও পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য তেমন কোন অর্থ ব্যয় করা হয় না। নন্নী বাজার হয়ে মধুটিলা ইকোপার্ক পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্তকরণ, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনসহ পার্কটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপওা কর্মী রাখা জরুরী হয়ে পড়েছে। জীববৈচিত্র ও বিভিন্ন প্রাণীর সমাহার ঘটিয়ে যেভাবে ইকোপার্কটি সাজানোর কথা ছিল এখনও তার কিছুই হয়নি। কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টির অভাবে ইকোপার্কটির সম্ভাবনা ম্লান হতে বসেছে।

বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল করিম জানান, মধুটিলা ইকোপার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ভ্রমণপিয়াসীদের জন্য গোসল ঘরসহ টলেয়ট নির্মাণ, খাবার পানি সরবরাহের জন্য ডিপটিউবওয়েল বসানো, বসার জন্য বেঞ্চ ও রান্নার জন্য শেড তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

প্রকৃতির অপার নৈসর্গিক সৌন্দর্যের টানে ভ্রমণপিপাসী মানুষ বারবার এখানে ছুটে আসেন। পার্কটি বিনোদন ও পাহাড়ী এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য বিশাল ভূমিকা রাখছে। সম্ভাবনাময় মধুটিলা ইকোপার্কটি যদি বেসরকারী ব্যাবস্থাপনায় ছেড়ে দেওয়া হয় তবে এর সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পাবে। আর সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।