বিএসএফ’র গুলিতে নিহত ও আহতদের ৯ দিনেও ফেরত পায়নি পরিবার!

প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ | আপডেট: ৫:২১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

মোঃ সাদিকউর রহমান শাহ্ (স্কলার), নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক বাবুল মিয়ার (২৪) লাশ ও একই ঘটনায় বিএসএফ কর্তৃক আহত ভারতে আটকে রাখা কিশোর সাইফুল ইসলাম (১৪) কে নয় দিনেও ফেরত না পেয়ে এবং দ্রুত ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী সহ হতাহতের স্বজনেরা।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরের এই মানববন্ধনে জন প্রতিনিধি সহ এলাকার কয়েক শতাধিক মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ গ্রহন করেন।

মানববন্ধনে বাবুলের বাবা নুর মোহাম্মদ ও মা আছিয়া খাতুন আহাজারি করে বলেন,গত নয়দিন থেকে আমরা বিজিবি, জন প্রতিনিধি, প্রশাসন সহ বিভিন্ন মহলের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বাবুলের লাশ ফেরত পাইনি। আমরা সন্তানের মুখটি শেষ বারের মত দেখে দেশের মাটিতে তার দাফন করতে চাই। অঝরে কাঁদতে কাঁদতে স্বামীকে নিয়ে একই ইচ্ছে ব্যক্ত করেন নিহত বাবুলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রজিফা আক্তার।

বি.এস.এফের হাতে আটক কিশোর সাইফুলের বাবা গোলজার বলেন, আমার ছেলে নাবালক-অবুঝ,আমরা তাকে আমাদের মাঝে ফেরত চাই। হতাহতের স্বজনদের অভিযোগ,তারা ঘটনার পর থেকে ৫১ বিজিবির দ্বারে দ্বারে ঘুরেও একমাত্র তাদের (বিজিবির) আন্তরিকতার অভাবে এ পর্যন্ত নিহতের লাশ ও আহত কিশোরকে ফেরত পাননি।

প্রথমদিকে বিজিবি তালবাহানা মূলক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা বললেও পরে সাফ জানিয়ে দেন এ রকম কোনা খবর তাদের কাছে নেই। তবে হতাহতের এ ঘটনার পর থেকে বিজিবি’র পক্ষ থেকে ভারতীয় বিএসএফের সাথে আজও পতাকা বৈঠকও করা হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরাও বারবার এ ব্যাপারে বিজিবির সাথে একাধিক বার চেস্টা করেও তাদের কোনো বক্তব্য নিতে পারেননি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মানববন্ধনের দিন (বুধবার) বিকেলে কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চোরাচালান প্রতিরোধে জনসচেতনতায় ৫১ বিজিবির পক্ষ থেকে মতবিনিময় সভা করার কথা।সেখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো ৫১ বিজিবির কমান্ডিং অফিসারের (সিও)।

এজন্য প্রস্তুত করা হয়েছিলো সভা মঞ্চ। কিন্তু আসেনি সিও,হয়নি কোনো সভাও। উল্লেখ্যঃ গত মঙ্গলবাল (৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে ডিমলা উপজেলার কালীগঞ্জ গরুর বিট-খাটাল সংলগ্ন সীমান্তে ভারতীয় গরু পারাপারের সময় সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ডিমলার দুইজন হতাহতের ঘটনা ঘটে। তাদের মধ্যে নিহত যুবক বাবুল মিয়া (২৪) উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন কালীগঞ্জ বক্তার পাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে।

ওই ঘটনায় আহত কিশোর সাইদুল ইসলাম (১৪) উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড় সিংহেশ্বর গ্রামের গোলজার রহমানের ছেলে। ঘটনার পর হতাহতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় বিএসএফ।

এ ঘটনায় নিহতের লাশ ও আহত কিশোরকে ফেরত পেতে তাদের স্বজনেরা বিজিবি সহ বিভিন্ন মহলের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনো রকম সহযোগীতা না পেয়ে গত রোববার ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহারের মাধ্যমে বর্ডারগার্ড ৫১ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছে ও লিখিত আবেদন করলেও তা ফলপ্রসু হয় নি।