বিকল্প না রেখে লেগুনা বন্ধ, ভোগান্তি, ঝুঁকি দুটোই বেড়েছে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৩৮:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮

রাজধানীর যেসব সড়কে এলাকায় বাস সেবা নেই বা থাকলেও অপ্রতুল সেসব এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে অন্যতম বাহন লেগুনা হঠাৎ বন্ধ করে দেয়ায় তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রীরা। এতে ব্যাপক ক্ষোভও দেখা গেছে।

বিকল্প যানবাহন রিকশায় করে চলতে গিয়ে এক দিকে যেমন অতিরিক্ত ভাড়া খরচ করতে হচ্ছে, তেমনি সময় লাগছে বেশি। আবার এই পরিস্থিতিতে পণ্য পরিবহনের মিনি ট্রাক বা পিকআপ ভ্যান যাত্রী বহনে নেমে পড়েছে। তারা আবার সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। আর এসব যানবাহনে চলাচল যে ঝুঁকিপূর্ণ তা নানা সময়ই প্রাণঘাতি দুর্ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর থেকে ত্রুটিযুক্ত বাস এবং লাইসেন্সহীন চালকের বিরুদ্ধে বেশ কঠোর অবস্থানে আছে পুলিশ। এ কারণে এমনিতেই বাস সংকটে দিশেহারা যাত্রীরা।

এর মধ্যে আজ থেকে হঠাৎ নগরীর বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী লেগুনা বা হিউম্যান হলার বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, লেগুনার অনুমোদন আছে শহরের বাইরে চলাচলের। শহরের কোথাও এই গাড়িগুলো চলতে দেয়া হবে না।

রাজধানীতে গণপরিবহন এমনিতেই অপর্যাপ্ত। তার ওপর বিকল্প না রেখে গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চলাচলের ভোগান্তি বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি-বিএরটিএর হিসাব অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীতে অনুমোদিত লেগুনার সংখ্যা ২ হাজার ৫২৫টি। যদিও বাস্তবে সে সংখ্যা আরও বেশি। একেকটি ট্রিপে প্রতিটি লেগুনা ১২ জন যাত্রী বহন হয়। এই হিসাবে বিপুল সংখ্যক যাত্রীই চলাচল করে এসব যানবাহনে।

রাজধানীতে লেগুনার জনপ্রিয় রুটগুলোর মধ্যে আছে নিউ মার্কেট থেকে পুরান ঢাকার বিভিন্ন গন্তব্য, নিউমার্কেট থেকে ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর থেকে মিরপুর, মোহাম্মদপুর থেকে মহাখালী, মিরপুর থেকে মহাখালী, গুলিস্তান থেকে মুগদা, বাসাবো, খিলগাঁও, রামপুরা থেকে গুলিস্তান, প্রভৃতি।

পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনের আগেই সবগুলো রুটেই ট্রাফিক পুলিশের সক্রিয় অবস্থানে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে লেগুনা। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ সড়কের ঢাকা উদ্যানে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। ফলে এই রুটে লেগুনায় চলাচলকারী যাত্রীরা স্বল্প দূরত্বে হেঁটে বা রিকশায় বা পণ্যবাহী পিকআপ ভ্যানে করে যাচ্ছেন। এতে খরচ হচ্ছে বেশি।

অনুমোদনহীন বলে লেগুনা বন্ধ করে দিলেও পণ্য পরিবহনের পিকআপ ভ্যানে যাত্রী বহনে বাধা দিচ্ছে না পুলিশ। যদিও এতে ভাড়া, ভোগান্তি এবং ঝুঁকি দুটোই বেড়েছে। বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার মোড় থেকে ঢাকা উদ্যান পর্যন্ত ভ্যান গাড়িতে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ১০ টাকা। বন্ধ হয়ে যাওয়া লেগুনা এবং ইজিবাইকে এই ভাড়া ছিল পাঁচ টাকা।

একইভাবে লেগুনায় ১০ টাকার ভাড়া পিকআপ ভ্যানে ২০ টাকা গুণতে হচ্ছে গাবতলীমুখী যাত্রীদের। শিক্ষার্থী সুলতানা আক্তার বলেন, ‘বাসে, লেগুনায় যাওয়া আসা করি। আজ বাস খুবই কম, লেগুনা তো নাই। সকালে আসার সময়ও পিকআপে এসেছি, যাচ্ছিও পিকআপে।’

ঢাকা উদ্যান সরকারি কলেজের ছাত্র সাকিব বলেন, ‘কার লাইসেন্স নেই, কার গাড়ির কাগজ নেই, সেগুলো আমাদের দেখার কথা না। গাড়ির সমস্যা থাকলে মামলা দেবে। জরিমানার পরিমাণ বাড়াক। সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলার দরকার কী? আমরা গাড়ি পাচ্ছি না। তুলনামূলক কষ্ট করে যাচ্ছি আবার ভাড়াও ডাবল।’

যাত্রীরা বলছেন, অবৈধ এবং অনিরাপদ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতেই হবে। কিন্তু আগে বিকল্প ঠিক করে তা করতে হবে। নইলে ভোগান্তি কমবে না। তবে যাদের টাকা পয়সার সমস্যা নেই তারা ঝামেলায় না গিয়ে অ্যাপভিত্তিক রাইড সেবা ‘পাঠাও’ ও ‘উবারের’ মোটর সাইকেল বা গাড়ি ভাড়া করে যাচ্ছেন। সুত্র: ঢাকাটাইমস