বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো ছেড়ে শুধু বাংলায়ই কেন এনআরসি তোড়জোড়?

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৪৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৪৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯
অধীর রঞ্জন চৌধুরী। ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি’র আগে কেন বিজেপি শাসিত রাজ্যে এনআরসি করা হচ্ছে না – এ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তার দাবী দেশে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করছে মোদী সরকার। আর রাজ্য সরকার রাজ্যের সব রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ধ্বংস করছে।

বুধবার বারাসাতের এক বিশেষ আদালতে হাজিরা দিতে এসে তিনি এই কথা বলেন।

পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে ল্যাজেগোবরে অবস্থা কেন্দ্রের। ওই অংশকে ভারতবর্ষের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ১৯৯৪ সালে কংগ্রেস সরকারই প্রথম লোকসভা ও রাজ্যসভায় প্রস্তাব পাশ করেছিল। বুধবার বারাসতে বিশেষ আদালতে হাজিরা দিতে এসে এমনই মন্তব্য করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরী।

এনআরসি নিয়ে অধীর চৌধুরীর দাবি, ইসরোর বিজ্ঞানীর নাম এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন যে চন্দ্রযান নিয়ে এত মাতামাতি চলছে, সেই চন্দ্রযান বানানোর বিজ্ঞানীকে মোদি সরকারের এনআরসি বাদ দিয়ে দিয়েছে তালিকা থেকে।

জানা গেছে, ইসরোর এক বিজ্ঞানী জিতেন্দ্র নাথ গোস্বামী এনআরসি তালিকায় বাদ পড়েছেন। অধীর চৌধুরী তাকে ‘বিদেশী’ বলে বিজেপি দলকে শুনিয়েই পরোক্ষে কটাক্ষ করেছেন। এখানেই থেমে থাকেননি অধীর চৌধুরী। তাঁর দাবি, এনআরসি তালিকা থেকে প্রচুর ভারতীয় সেনা বাদ পড়েছে, যে সেনা নিয়ে মোদি সরকারের এত গর্ব। এনআরসি নিয়ে বিজেপি কে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেছেন অধীর চৌধুরী এদিন।

এদিন তিনি কাশ্মীর প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘লোকসভায় কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল নিয়ে আমিই প্রথম প্রশ্ন করেছিলাম। অমিত শাহ তার জবাব দিয়েছেন। ৩৭০ ধারা বাতিলে কাশ্মীর সমস্যার কী সমাধান হয়েছে? দেশের লোকই সেখানে যেতে পারছেন না। ২৫ হাজার হোটেলের বুকিং বাতিল হয়েছে। বাঙালিরা প্রতিবছর দুর্গাপুজার সময় কাশ্মীরে যান। এবার যেতে পারছেন না।’

দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় প্রসঙ্গে অধীর বলেন, অর্থনীতির বিপর্যয়ের জন্য কেবল দেশের অর্থমন্ত্রী একা দায়ী নন। গোটা বিজেপি সরকারটাই ধামাকায় বিশ্বাসী। সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা শোনার সময় এদের নেই। মোদি সরকার টিভিতে বিজ্ঞাপন দিতেই ব্যস্ত। দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় নোটবন্দির সময় থেকে শুরু হয়েছে। সেদিন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনোমোহন সিং যা বলেছিলেন, আজ তা সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।’

কলকাতার মেট্রো প্রকল্প নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নেন অধীর। তিনি বলেন, ‘মেট্রো প্রকল্পের পথ পরিবর্তন করাতেই কলকাতায় বিপদ দেখা দিয়েছে। মেট্রোরেল পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি ৷’