বিদেশিদের সমর্থনের ওপর আমি নির্ভর করি না: প্রধানমন্ত্রী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৩৬:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০১৮

বিদেশিদের সাহায্য-সমর্থনের ওপর আমাদের নির্বাচনে জয়লাভ করে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদানের অর্জন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

বুধবার বিকাল ৪টায় গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সফরের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন অর্জনের বর্ণনা দেন।

তিনি বলেন, বিচারপতি সিনহা প্রথমবারের মতো সংখ্যালঘুদের মধ্য থেকে প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তার দায়িত্ব ভালোভাবে শেষ করতে পারেন নি। তার সমস্যা তৈরি হয় বিচারপতিদের সঙ্গে। তার সঙ্গে তার সহকর্মীরা একই বেঞ্চে বসতে চান। এটা তাদের সমস্যা আমাদের নয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি অনুরোধ করেছেন আমাকে নির্বাচনে সমর্থন না দেওয়ার জন্য। এটা তো বিএনপিসহ অনেকেই করে আসছে। কারা কাকে সমর্থন না দিতে অনুরোধ করেছে, সেটা তো আমাদের দেখার বিষয়।

তিনি বলেন, আমার জোর হচ্ছে আমার জনগণ। আমাদের জনগন আমাদের চায় কিনা সেটাই আমার কাছে বিবেচ্য বিষয়। বিদেশীদের সমর্থনের আমরা মুখাপেক্ষি নয়, এটা হলে আমরা ২০০১ সালেই ক্ষমতায় আসতে পারতাম।

তিনি আরও বলেন, কারো সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় থাকার কথা বললে, সেই ক্ষমতায় আমার না থাকায় ভালো। এই ক্ষমতা আমার দরকার নেই।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সরকারের ওপর পৃথিবীর সব দেশ চাপ সৃষ্টি করেছে। এই বিষয়ে যেসব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দেখা করেছি, সবাই চেয়েছেন আমি যেনো আবার ফিরে আসি। তারা চেয়েছেন আমি যেনো আবার নির্বাচিত হই। কিন্তু আমি তাদের একটা জবাব দিয়েছি, দেশের মানুষ ভোট দিলে আছি, নইলে নাই।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগদান শেষে সোমবার সকালে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসের রানী ম্যাক্সিমা, এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্রেস্টি কালজুলেইদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেইওর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকট, সাইবার নিরাপত্তা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষা এবং বৈশ্বিক মাদকদ্রব্য সমস্যা নিয়ে কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।