বিধবা বৃদ্ধাকে পেটানো সেই কনস্টেবল ক্লোজড, তবে এখনও বহাল ওসি

প্রকাশিত: ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৫৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা: ওসির বিরুদ্ধে রেঞ্জ ডিআইজির কাছে নালিশ করার অপরাধে প্রকাশ্যে থানার বাইরে বিধবা বৃদ্ধাকে মারধরের ঘটনায় বরিশালের উজিরপুর মডেল থানার পুলিশ সদস্য জাহিদুল ইসলামকে ক্লোজড করা হয়েছে।

তবে এখনও বহাল রয়েছে অফিস কক্ষে ও থানা কম্পাউন্ডে প্রকাশ্যে ওই বিধবা বৃদ্ধাকে মারধরে অভিযুক্ত উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পাল। নির্যাতিতা বৃদ্ধার অভিযোগ ওসি শিশির কুমার পাল থানায় বহাল থাকায় প্রত্যক্ষদর্শী কেউ তার বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিতে রাজি হচ্ছে না।

বিষয়টি গতকাল সোমবার বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির হয়ে অবহিত করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান ওই নারী। এদিকে পুলিশ সদস্য (কনস্টেবল নং-৯৬৮) জাহিদুল ইসলামকে গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থানা থেকে ক্লোজড করে বরিশাল জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

তাকে ওই বৃদ্ধাকে মারধরের অভিযোগে ক্লোজড করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকায় বিষয়টি প্রাথমিকভাবে গোপন রাখা হয়েছিলো। তবে সোমবার বিকেলে উজিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মোঃ হেলাল উদ্দিন খান কনস্টেবল জাহিদুল ক্লোজড হওয়ার কথা স্বীকার করেন।

আরও পড়ুন: নিজেকে বাঁচাতে বৃদ্ধাকে পেটানো সেই ওসির মিডিয়ায় দৌঁড়ঝাপ, তদন্ত নিয়েও সংশয়

মাদারীপুর সদর উপজেলার পানিচত্বর এলাকার মৃত মঈন উদ্দিন মাতবরের স্ত্রী বৃদ্ধা রাশিদা বেগম (৬২) তার অপহৃত মেয়ে ও ভাড়া বাসায় আটকে রাখা মালামাল উদ্ধার প্রসঙ্গে থানায় একাধিক অভিযোগ দিয়ে কোন বিচার না পেয়ে ওসির বিরুদ্ধে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কাছে অভিযোগ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হন উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পাল। এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ওই বৃদ্ধাকে থানায় ডেকে আনেন।

বৃদ্ধা থানায় দেখা করতে গেলে ওসি তাকে চায়ের দোকানে বসতে বলেন। ওসির কথামতো থানার সামনে বাচ্চুর চায়ের দোকানে গিয়ে ওই বৃদ্ধা বসলে সেখানে গিয়ে প্রথমে কনস্টেবল জাহিদুল ইসলাম তাকে থাপ্পর-চোপারসহ মারধর করে এবং গালে সিগারেটের আগুন চেপে ধরে পুড়িয়ে দেয়। পুলিশ কনস্টেবলের হাতে মার খেয়ে ওসির কাছে বিচার দিতে গেলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে ওই বৃদ্ধাকে গালাগাল করে ও দুই গালে থাপ্পড় দিতে দিতে রুম থেকে বের করে দেন।

এ ঘটনার পরে নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা থানা সংলগ্ন ওই চায়ের দোকানের সামনে দাড়িয়ে চিৎকার করে কান্নায় ভেঙে পড়লে প্রত্যক্ষদর্শীরা স্থানীয় সাংবাদিকদের খবর দেন। এ সময় নির্যাতনের বর্ননা দেয়া ওই বৃদ্ধার কান্নাজড়িত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসুবকসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে ভাইরাল হলে টনক নড়ে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।

পরে এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ নাইমুল হককে (বিশেষ শাখা) প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি আজ মঙ্গলবার জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা রয়েছে। জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কনস্টেবল জাহিদুল ইসলামকে থানা থেকে ক্লোজড করে বরিশাল পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নিজেকে বাঁচাতে বৃদ্ধাকে পেটানো সেই ওসির মিডিয়ায় দৌঁড়ঝাপ, তদন্ত নিয়েও সংশয়

এদিকে নির্যাতিতা বৃদ্ধা রাশিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমি মার খেয়ে উজিরপুর থেকে চলে এসে বরিশালের গড়িয়ারপাড় এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়েছি। গত রোববার দুপুরে ওসি শিশির কুমার পাল, পুলিশ কনষ্টবল জাহিদুল ইসলাম কতিপয় সাংবাদিক, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকে নিয়ে উপস্থিত হয়ে আমাকে গড়িয়ারপাড় বাসস্ট্যান্ডের একটি ক্লাব ঘরে ডেকে নেয়।

সেখানে ওসি আমাকে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে ভয় ভীতি দেখায় আমি আমার সিদ্বান্তে অনড় থাকলে ওসি কৌশল পরিবর্তন করে টাকার প্রলোভন দেখান। বিনিময়ে বরিশাল পুলিশ সুপার ও বরিশালের ডিআইজির কাছে গিয়ে তারা (ওসি ও পুলিশ) নির্দোষ কথাটি বলতে হবে। আমি বিষয়টি রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপার স্যারকে জানিয়েছি। তিনি আরো বলেন, ওসি থানায় বহাল তবিয়তে থাকায় তার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষদর্শী কেউ স্বাক্ষী দিতে রাজি হন না। ক্লোজড হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশ কনস্টেবল জাহিদুল ইসলাম কথা বলতে রাজি হননি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পাল বলেন, আমি এসব কিছুই জানি না। বরিশাল পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম বিপিএম’র সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি।