বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হওয়ার জন্য আবেদন!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৩২:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৮
ফাইল ছবি

এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও গাজীপুর জেলা তথ্য কর্মকর্তা বরাবর গাজীপুর-৩ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য (এমপি) হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এক ব্যক্তি।

আবেদনপত্রগুলোতে কাজী মো. আবুল হোসেন মাস্টার নামের ওই ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার যুবলীগ সভাপতি ও ভাওয়াল মির্জাপুর বাজার পোস্ট অফিসের বিবেকবাড়ীর তালতলী তার ঠিকানা। তিনি মৃত ইসলাম উদ্দিন কাজীর সন্তান।

২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট সিইসি, চলতি বছরের ৭ অক্টোবর গাজীপুর জেলা তথ্য কর্মকর্তা এবং ১৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী বরাবর এই আবেদন করেন আবুল হোসেন।

সিইসি বরাবর আবেদনপত্রে আবুল হোসেন লেখেন, ‘আমি বিশস্ত সূত্রে জানি যে, আপনার বরাবর আবেদন করিলে গাজীপুর-৩ আসনে এমপি পদপ্রার্থী হিসেবে আবেদন করিলে পাওয়া যাবে। উক্ত আবেদন মঞ্জুর করিতে আপনার সু-আজ্ঞা হয়।’

প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা আবেদনের বিষয় ‘দিন, তারিখ, সময়, নির্ধারণ করে গাজীপুর-৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দীতা পদপ্রার্থী হিসেবে সাক্ষাৎ ইচ্ছুক’ উল্লেখ করে আবুল হোসেন বলেছেন, ‘আমি আপনার কাছে জানতে চাই সংসদ সদস্য হইতে কি কি লাগবে ও কত টাকা লাগবে আর সংসদ সদস্য কার্ড বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পেতে চাই।’

২৫ অক্টোবর সকালে আবুল হোসেন মাস্টার জানান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশন থেকে এখন তার চিঠির কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। তবে তার আবেদন জমা নেওয়ার পর একটি করে কপি তার কাছে দেওয়া হয়েছে। এবং বলা হয়েছে, পরবর্তীতে চিঠি দিয়ে তাকে আবেদনের উত্তর দেওয়া হবে। এখন তিনি সেই অপেক্ষায় আছেন।এসব নিজের প্রচারের জন্য করছেন না বলে দাবি করেন আবুল হোসেন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চান কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এক-দুই বছর যাবৎ প্রচার করে আসতেছি। তখন কেউ এখান থেকে নির্বাচন করার মতো ছিল না। এখন অনেকে আসতেছে, তারা আসলে নির্বাচন করব অসুবিধা নাই।’

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তো আবেদন করলেন, এ বিষয়ে আবুল হোসেন বলেন, ‘আমি তো আবেদন কইরা ফেলছি। আমি ভুল করি নাই, উনারা আবেদনের পরে আসছে।’

নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী, তফসিলের পর একজনের বেশি কেউ আবেদন না করলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। তফসিলের আগে এভাবে সাংসদ হওয়ার আবেদন করা যায় না। এই বিষয়ে আবুল হোসেনের দাবি, এই অঞ্চলের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্যরা তাকে লিখিত দিয়েছেন। অন্য কেউ নির্বাচন করবেন না। তাই তিনি নিজে থেকে মনে করেছেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হতে তার আবেদন করা দরকার।