বিপিএল চলে মিরপুরে জুয়া চলে মোবাইল ফোনে

প্রকাশিত: ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০১৯ | আপডেট: ১১:২৩:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০১৯
সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) রোববারের প্রথম ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে খেলা চলছিল সিলেট সিক্সার্সের। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে খেলা চলাকালে ইন্টারনেটভিত্তিক দেশি-বিদেশি বেটিং সাইটে জমে উঠে জুয়ার আসর।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে কতরান করবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস? এ নিয়ে জুয়াড়িদের বহুল ব্যবহৃত বেটিং সাইটে খন্দকার পলাশ নামের এক ব্যবসায়ী বাজি ধরেন ৪৫ থেকে ৫০ রানের পক্ষে, আর অফিসে বসে স্মার্টফোনে আবু বকর নামের আরেক চাকরিজীবী সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে বাজি ধরেন ৬০ রানের পক্ষে। পলাশ বাজিতে হেরে যান ।

<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>

সঙ্গে সঙ্গে টাকার বিনিময়ে কেনা ৫ হাজার টাকার বিট কয়েন অ্যাকাউন্ট থেকে খোয়া যায়। এভাবেই ভার্চুয়াল জগতে চলছে রমরমা জুয়া।

জানতে চাইলে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি ও সোস্যাল মিডিয়া স্পেশালিস্ট অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম  বলেন, যেসব সাইটের বিষয়ে তথ্য পেয়েছি সেসব বন্ধের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>

পাশাপাশি সাইটগুলোর ওপর সাইবার নজরদারি অব্যাহত আছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে এক ধরনের প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে বাজিকররা সাইট ব্যবহার করছে। এসব সাইটে জুয়াড়িরা আর্থিক লেনদেন করছে বিভিন্ন দেশের অন্তত ২৮টি বৈদেশিক মুদ্রায়।

তিনি জানান, বাজিকররা ব্যাংক থেকে শুরু করে পেপাল, পেওনিয়ার, মাস্টার, ডেবিট ও ক্রেডিটসহ বিভিন্ন দেশের অনলাইনভিত্তিক কার্ডে অর্থ লেনদেন করে। আবার ক্রিপকারেন্সিতেও চলছে বাজিমাতের লেনদেন। সম্প্রতি ক্রিকেট জুয়াড়িদের ইন্টারনেটভিত্তিক অন্তত ১২টি আন্তর্জাতিক বেটিং সাইট (বাজি ধরা) চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়া হয়েছে বিটিআরসিকে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দুর্নীতি দমন ইউনিট ও পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশন এ চিঠি দেয়। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এসব সাইট বন্ধ করে দেয়া হয়।

<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>

তবে প্রক্সি সার্ভারে এখনও ওই সাইট ব্যবহার হচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, তরুণ প্রজন্ম অনলাইনে জুয়া খেলায় ঝুঁকে পড়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ একটি ভীতিকর পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নেয়া হলে ভবিষ্যতে উঠতি তরুণরা আরও বেশি সংখ্যায় বিপথগামী হবে।

চিঠিতে ক্রিকেট বোর্ড ১২টি সাইট চিহ্নিত করে তা বাংলাদেশে বন্ধের অনুরোধ জানায়। বিসিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিহ্নিত তালিকায় আছে যুক্তরাজ্যের ক্রীড়া বিষয়ক বেটিং সাইট বেট ৩৬৫ ডটকম। স্পোর্টস গেম্বলিং সাইট বা ক্রীড়া বিষয়ক বাজির (জুয়া) সাইট হিসেবে এটি জনপ্রিয়। বিশ্বের ২০০টি দেশের ১৯ মিলিয়নেরও (১৯০ কোটি) বেশি বাজিকর রয়েছে এই সাইটে। বাজিকররা ক্রিকেট ছাড়াও বিভিন্ন খেলাধুলা নিয়ে বাজিতে অংশ নেয়। আর এর মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন হয়।

এসব সাইটের সঙ্গে আন্তঃদেশীয় অপরাধীচক্র জড়িত। বেট ৩৬৫ ডটকম ছাড়া অন্য সাইটগুলো হল- ৮৮ স্পোর্টস ডটকম, রেবটওয়ে ডটকম, বেটফ্রিড ডটকম, ডাফাবেট ডটকম, বেটফেয়ার ডটকম, ইউনিবেট ডটকম, বেট ভিক্টর ডটকম, নেটবেট ডটকম, টাইটানবেট ডটকম, উইনার ডটকম ও পেডি পাওয়ার ডটকম। সাইটগুলো বাংলাদেশের অনলাইনভিত্তিক জুয়াড়িদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থও লুটে নিচ্ছে।

<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>

সিটিটিসি ইউনিট সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময় স্পোর্টস গেম্বলিং সাইটে ক্রীড়া বিষয়ক বাজির (জুয়া) অভিযোগে অন্তত ২৫০ জনকে আটক করা হয়। কিন্তু এ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট আইন না থাকায় তাদের প্রত্যেকেই জামিন পেয়েছেন। তবে ১৮৬৭ সালে প্রণীত আইন অনুযায়ী, যে কোনো ঘর, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে অভিযুক্তকে তিন মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

ক্রীড়া জুয়ার ক্ষেত্রে এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, সাইটগুলো কয়েকবার বন্ধ করা হলেও প্রযুক্তির যুগে নানা ধরনের প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে আবারও সাইটগুলো সক্রিয় করা হয়। বিকল্পপন্থায় বাজিকররা সাইট খুললেও কয়েক দফায় বন্ধ করা হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নজরদারি অব্যাহত আছে।

<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>

অপরদিকে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা সাইটগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, বড় দাগের অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা উচিত। যাতে ক্রীড়া বাজিকরদের ভেতরে ভীতির সঞ্চার হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।

যেভাবে ব্যবহৃত হয় বেটিং সাইট : অ্যালেক্সা ডটকমের তথ্যানুযায়ি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সেরা ২৫ সাইটের একটি হল বেট ৩৬৫। বর্তমানে এটি ২৫তম অবস্থানে রয়েছে। ভারতে এ সাইটের অবস্থান ৫৭তম। শুধু বাংলাদেশ থেকে এ সাইটে দৈনিক অন্তত লক্ষাধিক (আনুমানিক হিসাব) মানুষ ব্রাউজ করছেন। যেকোনো বড় ক্রীড়া আসরের সময়টায় বাংলাদেশে এ সাইটের ব্যবহার বেড়ে যায়।

<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>
<figure><img src=”https://image.ibb.co/krfgjn/roooy.jpg” /></figure>

কেবল নিজেই অ্যাকাউন্ট খুলে জুয়ায় অংশ নেয়া বা বাজি ধরা হচ্ছে এমনটা নয়। বেট ৩৬৫ সাইটের অ্যাকাউন্ট কেনাবেচার ব্যবসাও জমে উঠছে দিনকে দিন। এ ব্যবসায় প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা (মূলত ছাত্ররা) অংশ নিচ্ছেন। যেহেতু ১৮ বছরের নিচে কেউ এখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন না, তাই অন্যের অ্যাকাউন্ট কিনেই জুয়ায় বা বাজিতে অংশ নিচ্ছেন তারা।