বিমানবন্দরে হারানো লাগেজ বাড়ি পৌঁছুবে বিনা খরচে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০১৮ | আপডেট: ১২:০৭:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০১৮

উন্নত বিশ্বের আদলে এবার বাংলাদেশের সব থেকে বড় বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হারিয়ে যাওয়া কিংবা দেরিতে আসা কোনও লাগেজ ও ব্যাগ বিনা খরচে সরাসরি পৌঁছে যাবে বিদেশ ফেরত যাত্রীর বাড়িতে।

এজন্য হোম সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। কোনও এয়ারলাইন্স হোম ডেলিভারি না দিলে সেই এয়ারলাইন্সকে গুণতে হবে জরিমানা। হোম ডেলিভারি চালুর ফলে ব্যাগেজ লেফ্ট-বিহাইন্ড হওয়ার ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, গতকাল সোমবার (১ অক্টোবর) এ হোম ডেলিভারি সার্ভিস চালুর ফলে কোনও যাত্রীর ব্যাগ লেফ্ট-বিহাইন্ড হলে এয়ারলাইন্স নিজের খরচে যাত্রীর বাড়িতে পৌঁছে দেবে। এজন্য যাত্রীকে বিমানবন্দরে ব্যাগ না পেলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সে অভিযোগ জানিয়ে ঠিকানা দিতে হবে। তবে কোনও যাত্রীর ব্যাগে শুল্ক আরোপ হতে পারে, এমন কোনও পণ্য থাকলে সেটি বিমানবন্দরে এসে শুল্ক পরিশোধ করে সংগ্রহ করতে হবে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, দেশের বিমানবন্দরগুলোয় হারানো লাগেজ খুঁজে পেতে বিমানযাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ ছিলো না। একটি খোয়া যাওয়া লাগেজ ফিরে পেতে একজন যাত্রীকে বিমানবন্দরে দিনের পর দিন আসা-যাওয়া করতে হতো। এই পরিস্থিতি উত্তরণে নতুন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

এই সেবা চালুর ফলে বিমানবন্দরে আসা কোনো যাত্রীর ব্যাগ লেফট বিহাইন্ড হলে তার বাড়িতে ব্যাগ পৌঁছে দেবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স। কোনও এয়ারলাইন্স হোম ডেলিভারি না দিলে সেই তাদেরকে গুণতে হবে জরিমানা। ব্যাগ না পেলে যাত্রীকে বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সে অভিযোগ জানিয়ে নিজের ঠিকানা দিতে হবে।

জানা গেছে, লেফ্ট-বিহাইন্ড ব্যাগেজ ঠিকমতো দিতে না পারা সালামএয়ার ছাড়াও কাতার এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া, মালিন্দো, মালায়শিয়ার এয়ারলাইন্সসহ অনেক এয়ারলাইন্সকে জরিমানা গুনতে হয়েছে। বাজেট (লো কস্ট ক্যারিয়ার) এয়ারলাইন্সগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যাগেজ লেফ্ট-বিহাইন্ড হয়। সর্বশেষ ১২ সেপ্টেম্বর যাত্রীদের ব্যাগ দিতে না পারায় সালামএয়ারকে ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেদিন ফ্লাইটে ৬১ জন যাত্রীর ১০৮টি ব্যাগ লেফ্ট বিহাইন্ড হয়।

বিমানবন্দর সূত্র জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভ্রাম্যমাণ আদালতে অন্যান্য অভিযোগের পাশাপাশি যাত্রীদের অভিযোগ বেশি ব্যাগেজ লেফ্ট-বিহাইন্ড নিয়ে। দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে এ সংকট নিরসনে চেষ্টা চালান বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ।

এ ব্যাপারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ ব্রেকিংনিউজকে জানান, কোনও এয়ারলাইন্স হোম ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুসারে যাত্রী প্রতি ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দেওয়ার নিয়ম করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন ১৩০-১৫০টি ফ্লাইট ওঠানামা করে।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন দেশ থেকে এসব ফ্লাইটে বিদেশি, প্রবাসী বাংলাদেশিসহ হাজার হাজার যাত্রী ঢাকায় আসেন। এইসব যাত্রীদের তখনই বিপত্তিতে পড়তে হয়, যখন ব্যাগেজ বেল্টের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে জানতে পারেন তার ব্যাগেজ একই ফ্লাইটে আসেনি। এরপর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সে অভিযোগ জানিয়ে অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীকে। ব্যাগেজ ফিরলে যাত্রীকেই ফের বিমানবন্দরে গিয়ে তার ব্যাগেজ সংগ্রহ করতে হয়। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় ঢাকার বাইরের যাত্রীদের। এই সিস্টেম চালু হলে এ সমস্যা আর থাকবে না। যাত্রীরাও পাবে স্বস্তি।