‘বিশ্বাসঘাতক’ লেখককে খুঁজে বের করার ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশিত: ১:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ | আপডেট: ১:৫১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের উপ-সম্পাদকীয় পাতায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আক্রমণ করে একটি লেখা ছাপা হয়। ওই মতামতের লেখক একজন উচ্চ পদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা বলে দাবি করা হয়। তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

লেখাটির মূল বক্তব্য হচ্ছে, ট্রাম্প রিপাবলিকান হলেও দলটির মূল্যবোধ মেনে কাজ করেন না তিনি। তার নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো স্থিরতা নেই। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি যখন তখন মত বদলান। আর তাই ট্রাম্পকে পদচ্যুত করতে তার প্রশাসনেরই কতিপয় কর্মকর্তা গোপনে সংবিধান সংশোধনে কাজ করছে বলেও দাবি করা হয় ওই নিবন্ধে।

লেখাটি নিয়ে অভিযোগের তীর ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও-র দিকে। কিন্তু তারা একে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে উল্টো ট্রাম্প বিরোধী নিবন্ধের কড়া সমালোচনা করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তার বরাতে নিবন্ধটি প্রকাশিত হলেও, এখন ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাই বিষয়টি স্বীকার করছেন না।

এ অবস্থায় নিবন্ধের রচয়িতাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে তাকে খুঁজে বের করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই ঘোষণার পর নিজের ঘরেই বিশ্বাসঘাতককে খুঁজে ফিরছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বর্তমান অবস্থান নিয়ে এমনটাই লিখেছে সিএনএন।

বৃহস্পতিবার মন্টানায় এক জনসভায় এ নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় যা প্রকাশ করা হয়েছে, তা স্রেফ বিশ্বাসঘাতকতা। এ নিয়ে বলতে গেলে অনেক কিছুই বলা যায়। তবে মুখ্য বিষয় হচ্ছে এটা কে লিখলো, তা যে কোনো মূল্যে আমাকে জানতে হবে। সে নারী না পুরুষ? জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম খুঁজে বের করত হবে। নিউইয়র্ক টাইমসের উচিত নামটি প্রকাশ করা। এ নিয়ে তারা উদ্যোগ নিলে বেশ ভালো হবে।’

ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেন, ‘নিউইয়র্ক টাইমসের এমন লেখা প্রকাশ মানহানির শামিল। তাদের অবশ্যই এ নিয়ে লজ্জিত হওয়া উচিত। সবার জেনে রাখা উচিত, আমরা ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, প্রশাসনের প্রত্যেকেই তা পালন করতে কাজ করে যাচ্ছে।’

এদিকে, ভারত সফরে গিয়েও এ অভিযোগ খণ্ডন করতে হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও-কে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে এবিষয়ে কথা বলেন তিনি।

পম্পেও বলেন, ‘এটা আমার লেখা নয়। নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার উচিত হয়নি ধোঁকাবাজ কোনো কর্মকর্তার লেখা ছাপানো। এই লেখার মধ্যদিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে অবমাননা করা হয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী স্টিভেন নুচিন উপ-সম্পাদকীয়-এর লেখককে ‘দায়িত্বহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস্টজেন নিয়েলসনও ওই মতামতের দায় অস্বীকার করেন। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের অন্য সব কর্মকর্তাই এ বিষয়টির দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন।