বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু রাষ্ট্র হচ্ছে পাকিস্তান

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ৫:১৫:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮

পাকিস্তানে বর্তমানে ১৪০ থেকে ১৫০টি পরমাণু বোমা রয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকলে দেশটির পরমাণু বোমার সংখ্যা ২০২৫ সাল নাগাদ বেড়ে হবে ২২০ থেকে ২৫০টি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।

এর আগে ১৯৯৯ সালে মার্কিন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বলেছিল, ২০২০ সাল নাগাদ পাকিস্তানের পরমাণবিক বোমার পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ৫০-৮০টি। কিন্তু বর্তমান পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এই সংখ্যা মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি।

‘পাকিস্তান নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ২০১৮’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন হ্যান্সস এম ক্রিস্টেনসেন, রবার্ট এস নরিস এবং জুলিয়া ডায়মন্ড নামের তিন মার্কিন লেখক।

তারা বলছেন, ‘আমরা হিসেব করে দেখেছি দেশটির পরমাণু বোমা তৈরির চলমান প্রক্রিয়া বজায় থাকলে, ২০২৫ সাল নাগাদ এর পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ২২০-২২৫০য়ে। ফলে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম পরমাণু অস্ত্রের দেশ হিসেবে আবির্ভুত হবে পাকিস্তান।’

প্রসঙ্গত, প্রতিবেদনের প্রধান লেখক হ্যান্সস এম ক্রিস্টেনসেন ওয়াশিংটনের ‘ফেডারেল অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’(এফএএস) সংস্থার পরমাণু তথ্য প্রকল্পের পরিচালক।

প্রতিবেদনটি বলছে, পাকিস্তানে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পদ্ধতিতে আরো উন্নতি হয়েছে। দেশটির চারটি প্লাটিনিয়াম উৎপাদন চুল্লি এবং এর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সুবিধার প্রসারণ ঘটায় তারা দ্রুত পরমাণু বোমা তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে। ফলে আগামী ১০ বছরে পাকিস্তানের এই সুবিধাদি আরো বাড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর ঘাঁটিগুলোর একাধিক স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে এই ধারণা পাওয়া গেছে যে, দেশটিতে মোবাইল লাঞ্চার এবং ভূগর্ভস্থ সুবিধাদি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এসব কিছুই পরমাণু বোমা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত।

প্রতিবেদনের লেখকদের মতে পরমাণু শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টির সঙ্গে অনেকগুলো ফ্যাক্টর জড়িত। তাদের মতে, সাড়ে ৩শ পরমাণু বোমা তৈরি করতে পারলেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে আবির্ভুত হতে পারবে পাকিস্তান। যদিও তাদের ধারণা, এই পরিমাণ বোমা বানানোর সক্ষমতা এখনও অর্জন করতে পারেনি দেশটি।

তারা আরো বলছেন, স্বল্পমাত্রার পরমাণু অস্ত্র পদ্ধতি তৈরির মাধ্যমে নিজেদের পরমাণু শক্তিকে আরো উন্নত করার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। কেবল বাইরের পরমাণু হামলা মোকাবেলাই নয়, প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছ থেকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই পরিচালিত হচ্ছে দেশটির পরমাণু কার্যক্রম।

কিন্তু পাকিস্তানের এই পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে স্বভাবতই উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। কেননা তাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।