বুয়েটের ‘অক্সিজেট’ প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনুন : হাইকোর্ট

প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২১ | আপডেট: ৭:২৮:অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২১

করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে বুয়েটের উদ্ভাবিত ‘অক্সিজেট’ নামক স্বল্প মূল্যের সি-প্যাপ ভেন্টিলেটর ডিভাইসের অনুমোদনের বিষয়ে ব্যবস্থার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত আইনজীবীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইনোভেটিভ মাইন্ডের।

বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার জন্য তার মুখ্য সচিবকে লিখিতভাবে জানান। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকেও জানান।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর সংশ্লিষ্ট সংস্থা এটির অনুমোদন দিচ্ছে না-এ বিষয়টি সোমবার (৫ জুলাই) আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অনিক আর হক। তখন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক বেঞ্চ এমন পরামর্শ দেন।

সম্প্রতি বুয়েটের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডক্টর তওফিক হাসানের নেতৃত্বে তৈরি করেছে ‘অক্সিজেট’ নামে একটি ডিভাইস। যা দিয়ে হাসপাতালের সাধারণ বেডেই ৬০ লিটার পর্যন্ত হাই ফ্লো অক্সিজেন দেওয়া যায়।

বিষয়টি আজ হাইকোর্টের নজরে এনে ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে অক্সিজেটের। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন করোনা রোগীকে এই যন্ত্র দিয়ে হাইফ্লো অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডিজিডিএ এটা ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না। তারা বলেছে, কোস্পানির উৎপাদিত পণ্য না হলে অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।’

এ পর্যায়ে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘আমরা সবসময় বিদেশ থেকে সরকারি জিনিসপত্র কেনাকাটা করতে বেশি আগ্রহী হই। দেশীয় উদ্ভাবিত জিনিসে অতটা আগ্রহী হই না।’

আইনজীবী বলেন, ‘হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার সংকটে প্রাণহানি বাড়ছে। সেক্ষেত্রে অক্সিজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘এই ধরনের ডিভাইস নিয়ে পাবলিক ক্যাম্পেইন দরকার। আপনি (আইনজীবী) এ বিষয়ে নজরে আনার জন্য স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য ও ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালককে চিঠি দেন।

আদালত বলেন, ‘আমাদের আদেশ ছাড়াই যদি বিষয়টির সুরাহা হয় তাহলো তো ভালো। কারণ সরকারি জিনিসপত্র কেনাকাটা নিয়ে নানা নিয়মনীতি রয়েছে। রয়েছে নানা ঝামেলা। আমরা এখান থেকে বিষয়টি ভালো বা খারাপ দিক কী কী সেটা বুঝতে পারব না।’

প্রসঙ্গত, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ও আইসিউ স্বল্পতার কারণে অনেক রোগীকেই বেশি পরিমাণ অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হয় না। তখন এর বিকল্প হিসেবে অক্সিজেট ব্যবহার করা হলে চলমান আইসিইউ ও হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার সংকটে এই যন্ত্র করোনা রোগীদের প্রাণ রক্ষায় কাজে লাগবে।