‘বেতন’ নেন না, মানুষের ভালোবাসাতেই তুষ্ট প্রতিবন্ধী শিক্ষক

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:২১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ২:২১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮

জন্ম থেকেই সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না প্রবীর। দুই পায়ের ওপর ভরসা করে হাঁটতেও পারেন না। তবে পিছিয়ে পড়তে চান না ভারতের হাওড়া-হুগলির চাতরার প্রবীরকুমার পাল।

অদম্য উৎসাহে কাজ করে যান তিনি। স্কুলের কাজ, কখনো শিক্ষক, কখনো বাগানের কাজ। প্রয়োজন হলে স্কুল চত্বর পরিষ্কার করতে ঝাঁটাও ধরেন গ্রামের এই ‘মাস্টার মশাই’।

রোজগার বলতে প্রাইভেট পড়িয়ে হাজার তিনেক টাকা আর সাতশ ৫০ টাকার প্রতিবন্ধী ভাতা। তা দিয়েই চলে মা-ছেলের সংসার।

প্রতি বছর শিক্ষক দিবসে গাছ লাগান নিজের স্কুল গোঘাট-১ ব্লকের চাতরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শুধু তাই নয় ৫ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে আশপাশের গ্রামের স্কুলগুলোতেও যান প্রবীর, গাছ লাগাতে।

এ বছর বালিবেলা প্রাথমিক স্কুলে গিয়েছিলেন তিনি। নিজ হাতে গাছ লাগিয়েছেন স্কুলের বাগানে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিজয় রায় বলেন, প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে গ্রামে শিক্ষা এবং পরিবেশ সচেতনতায় একটা নজির গড়ে চলেছেন প্রবীর। বৃক্ষরোপণ করে স্কুলে খুব সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করছেন। শিক্ষক দিবসে সেরা প্রাপ্তি আমাদের।

চাতরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ২০ বছর ধরে পড়াচ্ছেন ৪২ বছর বয়সী প্রবীর। তখন তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। স্কুলে শিক্ষকের অভাব ঘোচাতে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক বিভূতি সামুই গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করে স্কুলে পড়ানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রবীরকে।

সেই শুরু। ২০০৬ সালে চারজন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে ওই স্কুলে। কিন্তু প্রবীর রয়েই গেছেন। বর্তমান প্রধান শিক্ষক মানিকচন্দ্র ধাড়া বলেন, প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ছাত্র পিছু পাঁচ টাকা করে নিয়ে তহবিল তৈরি করে প্রবীরকে সামান্য সম্মান-দক্ষিণা দেওয়া হবে। কিন্তু তা নিতে অস্বীকার করেন প্রবীর। আসলে তার মানসিকতাটাই একটা বড় শিক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে। উনি হলেন সত্যিকারের মাস্টারমশাই।

তার বাবা তারাপদ পাল মারা যাবার পর প্রবীরের পাঁচ ভাই আলাদা হয়ে গেছেন। মা হীরা রানি পালকে নিয়ে থাকেন প্রবীর। পৈতৃক ৯ কাঠা জমি, টিউশন আর ভাতা নিয়ে সন্তুষ্ট প্রবীর।

হালকা হেসে বলেন, কারো কাছে কিছুই দাবি নেই আমার। কাজ করতে ভালো লাগে। কাজ করতে চাই। মাকে ভালো রাখতে চাই। প্রতিবন্ধকতা আমাকে কাবু করতে পারেনি, পারবেও না কখনো।

গ্রামের মানুষ মাস্টারমশাইকে নিয়ে খুবই গর্বিত। তারা জানান, সব সময় পাশে আছি। তারাই ২০০১ সালে একটি হুইল চেয়ার কিনে দিয়েছেন প্রবীরকে। দুই বছর আগে গোঘাট থানা থেকে তাকে একটি মোবাইল ফোনও দেওয়া হয়।

প্রবীর বলেন, সবই মানুষের ভালোবাসা।