বেপরোয়া অপরাধীরা অপরাধ ঢাকতে পুলিশের বিরোদ্ধে মামলা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৮ | আপডেট: ৯:২৭:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৮
বামে জানে আলম, নুরে আলম, আলমগীর, ছবি: দি বাংলাদেশ টুডে

এম এ মেহদী, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর আকবরশাহ থানাধীন ফিরোজশাহ কলোনি ১নং ঝিল এলাকায় বসত গড়ে ধনু মিয়া ভাণ্ডারী তার দুই ছেলে নুরে আলম, জানে আলম, মেয়ে রুবি বেগম ও মেয়ের জামাই আবুল কাসেম আলমগীর, কুমিল্লা থেকে এসে চট্টগ্রামের ফিরোজশাহ কলোনী ১নং ঝিল এলাকায় বসতি গড়ে। এর পর থেকে ধনু মিয়ার ছেলে নুরে আলম নুরু মাদক অস্ত্র কারবার চুরি ডাকাতি লুটপাট পাহাড় কাটাসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কাজে জড়িয়ে পড়ে, গড়ে তুলে অপরাধের সাম্রাজ্য।

নুরে আলম নুরু এলাকার চিহৃিত মাদক ও অস্ত্রের কারবারি, চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় মাদক ও আস্ত্র কারবার, চুরি, ডাকাতি, লুটপাট, পাহাড় কাটাসহ বিভিন্ন অপরাধে ২০১২ সাল থাকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আকবরশাহ থানা ও খুলশী থানায় ১৮ টি মামলা রয়েছে।সে আকবরশাহ থানায় সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত ১নং আসামী, বর্তমানে সে পলাতক পুলিশ, র‍্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। নুরে আলমের ছোট ভাই জানে আলম বিভিন্ন থানায় হামলা, ভাংচুর, ছিনতাই, মাদক ব্যাবসা, অস্ত্র চালান, পাহাড় কাটা, লুটপাট, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কাজে জড়িত থাকায় তার বিরোদ্ধে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১০টি মামলা হয়েছে। আকবরশাহ থানায় ৩নং সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত আসামী জানে আলম। নুরে আলম ও জানে আলমের ভগ্নিপতি রুবি বেগমের স্বামী আবুল কাসেম আলমগীর, ২০০৯ সালের ১০ জুন নারী নির্যাতন, ঘরবাড়িতে হামলা, লুটপাটের, অভিযোগে লক্ষীপুর সদর থানায় তার বিরোদ্ধে প্রথম মামলা দায়ের হয়। ২০১৬ সালের ১৩ জুন বসত ঘরে অগ্নিসংযোগের মামলা দায়ের হয় আকবরশাহ থানায়।এই মামলায় তার শ্যালক জানে আলম ১নং, নুরে আলম নুরু ২নং, এবং আলমগীর ৩নং আসামী।

এর আগে ২২ এপ্রিল ২০১৩ সালে আলমগীর তিন কেজি গাঁজাসহ পাহাড়তললী থানা পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়। আলমগীরের বিরোদ্ধে লক্ষীপুর ও আকবরশাহ থানায় ০৪ টি মামলা রয়েছে। সর্বশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর ফিরোজ শাহ কলোনি ১নং ঝিল এলাকা থেকে একটি এলজি দুই রাউন্ড গুলিসহ আলমগীরকে গ্রেফতার করে আকবরশাহ থানা পুলিশ। আলমগীরের স্ত্রী রুবি বেগমের বিরোদ্ধে অস্ত্র ও পুলিশের উপর হামলার ২টি মামলা রয়েছে রুবি বেগমও বর্তমানে এই ২টি মামলায় পলাতক রয়েছে। নুরে আলমের পিতা ধনু মিয়া ভাণ্ডারী ও মা আনোয়ারা বেগমের নামেও মামলা রয়েছে। এত অপরাধের অভিযোগ যাদের বিরোদ্ধে। তারা তাদের অপকর্ম ঢাকতে , এবার লেগেছে খুদ পুলিশের বিরোদ্ধে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর আকবরশাহ থানাধীন ফিরোজ শাহ কলোনির ১নং ঝিল এলাকা থেকে একটি এলজি ও দুই রাউন্ড গুলিসহ আলমগীরকে গ্রেফতার করে আকবরশাহ থানা পুলিশ পরের দিন আদালতে প্রেরণ করে। এই ঘটনার ২০ দিন পর ১৮ অক্টোবর আলমগীরের স্ত্রী দুই মামলার আসামি রুবি বেগম এ মামলাকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে আকবরশাহ থানার ওসি জসিম উদ্দিনসহ ছয় পুলিশ সদস্যের বিরোদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ করে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধার আদালতে। এই অভিযোগে অন্য সদস্যরা হলেন এসআই আলাউদ্দিন, এসআই আশহাদুল, এএসআই সাইফুল ইসলাম, আবু বক্কর সিদ্দিক, ও কনস্টেবল নুরুল আলম।

অভিযোগে আকবরশাহ থানার ওসি জসিম উদ্দিনের বিরোদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির কথা বলা হয়। চাঁদা না পেয়ে আলমগীরকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আকবরশাহ থানার ওসি মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন রুবি বেগম নিজে দুই মামলার আসামি এসব মামলায় সে পলাতক। তার ভাই নুরে আলম ১৮ মামলার আসামি। তাকে পুলিশ র‍্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হন্যে হয়ে খুঁজছে। ওসি আরো বলেন, আমার বিরোদ্ধে অভিযোগে বলেছেন নুরুর কাছে আমি দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছি। আপনারা চিন্তা করুন! ১৮ মামলার আসামি যাকে পুলিশ র‍্যাব খুঁজছে সে ১৮ মামলার আসামি আমার সামনে আসবে কিভাবে?

থানায় সিসি টিভি ক্যামেরা আছে। এসব ক্যামেরা দিয়ে সিএমপি থেকে মনিটরিং করা হয়।নুরুকে গ্রেফতারের জন্য আকবরশাহ থানা পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে র‍্যাবও অভিযান চালিয়েছে। তিনি আরো বলেন অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হওয়া আবুল কাসেম আলমগীরের বিরোদ্ধে মানুষের ঘরবাড়িতে হামলা, লুটপাট, নারীদের শ্লীলতাহানি, জমি দখল,মাদক পাচারসহ বিভিন্ন ঘটনায় ৪টি মামলা রয়েছে।

ওসি বলেন রুবি, নুরে আলম, ও জানে আলমের পিতা ধনু মিয়া ভাণ্ডারী এবং মা আনোয়ারার বিরোদ্ধেও মামলা রয়েছে তারা মূলত অস্ত্র ও মাদকের কারবারি। মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে।এ অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ ও পুলিশের মনোবল দুর্বল করতে সন্ত্রাসীরা পুলিশের বিরোদ্ধে আদালতে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে বলে ওসি দাবি করেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে রুবি বেগমের আইনজীবী এডঃ ফখরুল ইসলাম বলেন যে কারো বিরোদ্ধে মামলা থাকতে পারে। তারা যদি অপরাধী হয় আদালতে বিচার হবে। অপরাধী না হলে মামলা থেকে খালাস পাবে। আলমগীরকে যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে তাতে অনেকগুলো অসঙ্গতি রয়েছে। আমরা সেগুলো আদালতে তুলে ধরেছি। আদালত চাইলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করতে পারেন।