ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ মোকতাদির চৌধুরীকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০১৯ | আপডেট: ৬:১৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০১৯
এমপি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। ফাইল ছবি

এস এম জহিরুল আলম চৌধুরী (টিপু), বিজয়নগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের এমপি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে নতুন মন্ত্রীসভার মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় জেলার দলীয় নেতাকর্মী, সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে সারাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

তিন লাখ ৯৩ হাজার ৫২৩ ভোট পেয়ে টানা তৃতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মোকতাদিও চৌধুরী। ছাত্রলীগের এক সময়ের দুঃসময়ের কান্ডারী ছিলেন মোকতাদির চৌধুরী। ৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সঙ্কটকালে জেল-নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন তিনি। এছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধে তার রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা।

তিনি একজন যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা। পরবর্তীতে সরকারের সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা হিসেবে একজন সফল আমলা হিসেবে সাফল্য ও কৃতিত্বের দাবিদার তিনি। ১৯৯৬ সালের আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোকতাদির চৌধুরী। এ সুবাধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উন্নয়নে ঈর্ষণীয় ভূমিকা রাখেন তিনি।

বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে দলকে সুসংগঠিত করার ব্যাপারে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তার আমলেই জেলা সদর ও বিজয়নগর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে বলে দাবি জেলা আওয়ামী লীগের। এছাড়া আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরকে উপজেলা করার ব্যাপরে তার ভূমিকা সর্বজন স্বীকৃত।

সাবেক এই আমলা ২০১১ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য এড. লুৎফুল হাই সাচ্চুর মৃত্যুর পর শুন্য হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনগণ তাকে মন্ত্রীসভায় স্থান দেয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালেও দলের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত তিনি।

জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের শাসনামলে সদর আসন থেকে নির্বাচিত কাউকেই মন্ত্রী করা হয়নি। গত ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা এ বি তাজুল ইসলামকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে নির্বাচিত হওয়া শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর মরহুম ছায়েদুল হককে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) থেকে নির্বাচিত হয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পান এড. আনিসুল হক। এবার দলকে সুসংগঠিত করা ও উন্নয়নে অবদানের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার মূল্যায়ন মোকতাদির চৌধুরী পাবেন বলে আশা করছেন জেলার দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সাধারণ জনগণ জেলা সদরের এমপি হিসেবে মোকতাদির চৌধুরীকে মন্ত্রী বানানোর জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর দাবি জানিয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার জন্য যেখানেই গিয়েছি সেখানেই মানুষ প্রত্যাশা জানিয়েছে মোকতাদির চৌধুরী বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে মন্ত্রীসভায় স্থান পাবেন। দলে তার অনেক অবদান রয়েছে। তিনি দলের সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে সুসংগঠিত করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক পীযূষ কান্তি আচার্য বলেন, মোকতাদির চৌধুরীর আমলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় চার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি তাকে মন্ত্রী বানালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান হবে। একই ধরনের দাবি জেলার প্রত্যেক উপজেলাসহ তৃণমূল আওয়ামী লীগ ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গের।