মিনিস্টার ফ্রিজ কারখানায় ভয়াবহ আগুন

প্রকাশিত: ৬:২৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ | আপডেট: ৬:২৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯
প্রতীকী ছবি

গাজীপুরে মিনিস্টার ফ্রিজ তৈরির কারখানায় অগ্নিকান্ডে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খান রাজ। শনিবার সকালে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাটির সামনে ব্রিফিংকালে তিনি এ দাবি করেন। কারখানাটি তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান রাজ্জাক এম এ রাজ্জাক খান কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, কারখানাটি আমি তিল তিল করে গড়ে তুলেছি। এ কারখানায় প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কাজ করে। এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন আবার না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভবনের ষষ্ঠ তলা ও ছাদে মজুদ বিপুল সংখ্যক এলইডি টেলিভিশন ও হোম অ্যামপ্লায়েন্সসহ বিভিন্ন মালপত্র পুড়ে গেছে। এতে ভবনেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে শত কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে। এসময় তিনি আরও বলেন, কারখানাটি বিল্ডিং কোড মেনে এবং ফায়ার সার্ভিসের সমস্ত নীতিমালা অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে।

মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষকে স্বল্পমূল্যে টিভি-ফ্রিজ দেয়াার জন্য ২০০৯ সালে এ কারখানাটি স্থাপন করা হয়। বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এ কারখানার পণ্য বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে।

চেয়ারম্যান রাজ্জাক বলেন,বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হযয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের একটি নিজস্ব তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, কারখানাটির জন্য ১২৩ কাটি টাকার বিমা করা আছে।

এ ব্যাপারে তিনি বিমা কোম্পানিরও সহযোগিতা কামনা করেন। সবার সহযোগিতা পেলে আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হব। কারখানাটিতে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রেস ব্রিফিংকালে কারখানার পরিচালক (অপারেশন) হাজী গোলাম মোস্তফা খান, পরিচালক (অর্থ) মুজিবুর রহমান, কারখানার জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মনিরুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর শুক্রবার দুপুরে কারখানা চত্বরে ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল।

মালামাল ভর্তি ওই গোডাউন সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। মালামালগুলো এমনভাবে গাদাগাদি করে রাখা ছিল যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পক্ষে ভেতরে ঢোকা সম্ভব ছিল না। কারখানায় আগুন নেভানোর নিজস্ব পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনা ছিল বলে তাদের চোখে পড়েনি।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ধীরাশ্রম এলাকায় মিনিস্টার ফ্রিজ তৈরির কারখানার আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট ছয় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে দুপুর ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।