মুসলমানদের কোণঠাসা করতে চীনে নতুন আইন

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০১৯ | আপডেট: ৫:৩৮:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০১৯

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইসলামকে ‘চীনা ঘরানার’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে নতুন আইন করতে যাচ্ছে বেইজিং। দেশটিতে মুসলমানদের ধর্ম চর্চায় এটি নতুন বাধা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে ধারণা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার।

শুক্রবার আটটি ইসলামী সংস্থার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর নতুন আইনের এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছে চীনের ইংরেজি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস।

এদিকে, যে ‘আটটি ইসলামী সংস্থা’র সঙ্গে বৈঠকের কথা বলা হয়েছে সেগুলোর নাম পরিচয় জানা যায়নি।

চীন সরকার দাবি করেছে, বৈঠকে উভয় পক্ষই ‘ইসলামকে সমাজতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপায়ে পরিচালিত করা এবং চীনা ঘরানা অনুযায়ী তা বাস্তবায়নে একমত হয়েছে’।

চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশটির মুসলিমদের ওপর চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের ধর্ম পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

দেশটির কিছু স্থানে ইসলামের চর্চা নিষিদ্ধ। নামাজ-রোজার পাশাপাশি দাড়ি রাখা বা হিজাব পরার মতো কারণেও ধরপাকড়ের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে অনেককে। বিভিন্ন মসজিদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে গম্বুজ ও চাঁদ-তারার প্রতিকৃতি। মাদ্রাসা ও আরবি শিক্ষার ক্লাস নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে শিশুদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ১০ লাখেরও বেশি উইঘুর মুসলিমকে আটক রেখে তাদের ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বলপূর্বক তাদের কমিউনিস্ট পার্টির মতাদর্শে বিশ্বাস স্থাপন করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে নিজ ধর্মের সমালোচনা করতে তাদের ওপর জবরদস্তি করা হচ্ছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে নাস্তিক ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির আনুগত্যের শপথ করতে হচ্ছে তাদের।

ধারণা করা হচ্ছে, সরকারের এ পদক্ষেপ মুসলমানদের ধর্ম চর্চায় নতুন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।