মোটর মেকানিক মিজানের অসাধারণ সব আবিষ্কার

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ | আপডেট: ৪:১৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮

টিবিটি দেশজুড়েঃ মিজানুর রহমান মিজান । মিজান মিস্ত্রি নামেই যিনি পরিচিতি। নিজ বুদ্ধিমত্তার কারণে দেশ সেরা উদ্ভাবকের সুনাম জুটেছে কপালে। নুতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করে ইতোমধ্যে দেশ সেরা উদ্বাবকসহ জিতে নিয়েছে ২৮ টি সনদ।

অতিসাধারন যন্ত্রপাতি দিয়ে তৈরী করেছে অটোমেটিক অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র, পরিবেশ দূষণমুক্ত করার যন্ত্র আর স্বয়ংক্রিয় সেচ যন্ত্রসহ ১০টি উদ্বাবন।

যশোরের শার্শা উপজেলার মোটর সাইকেল মেকানিক মিজান মিজানের একাডেমিক কোনো শিক্ষা না থাকলেও আজ সে নিজের আলোয় আলোকিত। নতুন চিন্তা আর গবেষণায় আজ তার আবিষ্কারের সংখ্যা ১০টি।

অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার কারণে থমকে যাচ্ছে তার নতুন নতুন উদ্বাবন প্রক্রিয়া। মিজানের দাবি আর্থিক সহায়তা পেলে সে আরো অনেক দূর এগিয়ে যতে পারবে ।

দারিদ্রতার কারণে লেখাপড়া শিখতে পারেননি মিজান। ৮/৯ বছর বয়সেই বেঁচে থাকার তাগিদে নেমে পড়েন দিনমজুরের কাজে। এক সময় মাঠে শ্যালো মেশিন চালানো এবং মেরামতের কাজ করতেন তিনি। পরবর্তীতে নাভারন বাজারে একটি মোটর সাইকেলের গ্যারেজে কাজ পান তিনি। সেখান থেকেই তার মোটর মেকানিক হিসেবে র্কমজীবন শুরু হয় ।

বর্তমানে শার্শা বাজারে ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওর্য়াকসপ নামে একটি মোটর সাইকেলের গ্যারেজ রয়েছে তার। ছোটবেলা থেকেই তার শখ ছিল নতুন কিছু করা, নতুন নতুন কিছু উদ্ভাবন করা।

বর্তমানে সে কাজ করছে ছোট একটি ডিভাইস কাছে থাকলে যে কোন শিশু পানিত ডুবে মরার হাত থেকে বেঁচে যাবে। পানিতে নামার সাথে সাথে ডিভাইসের সাথে সংযুক্ত ঘরে থাকো মেশিনটি জোর শব্দ করে বেজে উঠবে। যে স্থানে শিশুটি ডুবে থাকবে সেখানে পানির ওপর একটি সাংকেতিক চিনহ ভেসে উঠবে।

ইতিমধ্যে মোটর সাইকেলের ইঞ্জন দিয়ে তৈরী মিনি অ্যাম্বুলেন্স তৈরীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে আর্থিক সাহায়তা পেয়েছে। উদ্ভাবন করেছেন স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র। এটি বাসা বাড়ি, কলকারখানা, অফিস-আদালতে আগুন লাগলে যান মালের ক্ষয়ক্ষতি রক্ষার্থে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে আগুন নেভাতে শুরু করে। এটি বিদ্যুত না থাকলেও চলবে।

তারপর একইসাথে সংযুক্ত মোবাইল থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে ফোন করে দেয়, পাশাপাশি যন্ত্রটি পানির পাম্পকে সুইচ অন করে দেয়। যা আগুনের অবস্থান নিশ্চিতের ৫/৭ সেকেন্ডের মধ্যেই সম্ভব হয়।

অতঃপর পানির পাম্পের সাথে সংযুক্ত পাইপের মাধ্যমে আগুনের অবস্থান পৌঁছে দেয় এবং অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত ফাঁপা বলয়ের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আগুন নিভে যায়। পরবর্তীতে এটি বিভাগীয় এবং জাতীয় র্পযায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় প্রথম ও দ্বিতীয়স্থান অধিকার করেন।

দেশে পেট্রোল বোমায় যখন মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল ঠিক সে সময়ে মিজান উদ্বাবন করেন তার তৃতীয় উদ্ভাবন অগ্নিনিরোধ জ্যাকেট। এ জ্যাকেট পরে ড্রাইভার বা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিরাপদে কাজ করতে পারবেন। এতে করে আগুনের মধ্যে গিয়ে জানমাল রক্ষা করার সময় তার শরীরে আগুন র্স্পশ করবে না।

তার চর্তুর্থ উদ্ভাবন অগ্নিনিরোধ হেলমেট। এটি ব্যবহার করলে আগুনে গলার শ্বাসনালি পুড়বে না। তার পঞ্চম উদ্ভাবন হলো প্রতিবন্ধীদের জীবন-মান উন্নয়নে মোটরকার। এটা বিদ্যুত বা পেট্রোল চালিত।

কৃষকদরে জন্য স্বয়ংক্রিয় সেচ যন্ত্র উদ্ভাবন হলো তার ষষ্ঠ উদ্ভাবন। কৃষকরা দূর-দূরান্তের মাঠে জমিতে পানি দিতে আর ক্ষেতে যেতে হবে না। বাড়ি বসেই সেচযন্ত্রটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বন্ধ বা চালু করতে পারবেন। তাছাড়া এ যন্ত্রটি জমিতে পানির প্রয়োজন হলে নিজে নিজেই চালু হয় এবং পানির প্রয়োজন না থাকলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বন্ধ হয়ে যায়।

এ যন্ত্রটি উদ্ভাবনের পর ২০১৬ সালের ৫ জুন জাতীয় পর্যায়ে মিজান পরিবেশ পদক লাভ করেন। জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে মিজান মোট ১৭টি সাফল্য সনদ ছাড়াও পেয়েছেনে অসংখ্য ক্রেস্ট ও পুরস্কার।

এরইমধ্যে মিজানের আবিষ্কৃত দেশীয় প্রযুক্তির মোটরকার প্রধানমন্ত্রীর র্কাযালয়ের এ টু আই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হয়েছে। গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে ছোট আকারের অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করার পদক্ষপেও নেওয়া হয়েছে। মিজান জানান, তার স্বপ্ন দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা। তার বর্তমান উদ্ভাবন গবষেণা চলছে দূষিত বায়ু-শোধন যন্ত্র আবিষ্কারের।