যশোরের ৬ আসনেই নৌকার জয়জয়কার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রকাশিত: ১০:২৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ১০:২৮:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনেই নৌকার প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে এমনটাই জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। তবে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে অনিয়ম ও কারচুপি অভিযোগ এনে যশোরের চারটি আসনের ছয় প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

ভোট বর্জনকারী প্রার্থীরা হলেন, যশোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তি, যশোর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আবু সাঈদ মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন, যশোর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহুরুল হক জহির ও এনপিপির প্রার্থী মুহম্মদ আলী জিন্নাহ এবং যশোর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী কামরুল হাসান বারি ও ধানের শীষের প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস।

এদিকে, যশোর-১ আসনে ২ লাখ ৯ হাজার তিন ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শেখ আফিল উদ্দিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তি পেয়েছেন ৪ হাজার ৮০২ ভোট।

যশোর-২ আসনে তিন লাখ ৩২ হাজার ৯৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব:) নাসির উদ্দীন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকের পেয়েছেন ১২ হাজার ৯৮৮ ভোট।

যশোর-৩ আসনে তিন লক্ষ ৬১ হাজার ৩৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পেয়েছেন ৩১ হাজার ৭১০ ভোট।

যশোর-৪ আসনে দুই লাখ ৭১ হাজার ৬৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রণজিৎ কুমার রায়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী টিএস আইয়ুব পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯১৯ ভোট।

যশোর-৫ আসনে দুই লাখ ৪৩ হাজার ৩৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী স্বপন কুমার ভট্টাচার্য। এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জমিয়াতে মুদারেসিন দলের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস পেয়েছেন ২৩ হাজার ১১২ ভোট।

যশোর-৬ আসনে এক লাখ ৫৪ হাজার ৫৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ইসমাত আরা সাদেক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আবুল হাসান আজাদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৪৮ ভোট।

এদিকে, বিচ্ছিন্ন হামলা, অভিযোগ ও ছয় প্রার্থীর ভোট বর্জনের মধ্যে দিয়ে রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে যশোরে একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরের পর ৪ আসনের ৬ প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে ও গণমাধ্যমকে জানিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

যশোর-৩ সদর আসনে বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, তিনি শহরের বারান্দিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ছবি ও নৌকা প্রতীক নিয়েই প্রার্থীর লোকজন কেন্দ্রের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। পাশাপাশি নির্বাচন কর্মকর্তারাও আইন মানছেন না। তিনি এর প্রতিবাদ করলে নৌকার সমর্থকরা তার ওপর চড়াও হয়। দুর্বৃত্তরা তাকে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার গাড়ি ভাংচুর করে। পরে তিনি ওই কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখানে কন্ট্রোল রুমে গিয়ে অভিযোগ করেন। পরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও অভিযোগ করেছেন।

অমিত আরো অভিযোগ করে জানান, তিনি সকাল থেকে ১০/১২টি কেন্দ্রে ঘুরেছেন। সব কেন্দ্র থেকেই তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলো বোমাবাজি করা হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা কেন্দ্রগুলো দখল করে নিয়ে ভোট কাটছে। প্রশাসন অনিয়ম রোধের পরিবর্তে তাদের সহযোগিতা করছে। পরে অমিত যশোর ইন্সটিটিউট স্কুল কেন্দ্রে গেলে সেখানেও ক্ষমতাসীনদের রোষের মুখে পড়েন।

একই সময় বেলা ১১টার দিকে সেবা সংঘ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন যশোর-৩ আসনের নৌকার প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ। ভোট প্রদানের পর তিনি জানান, যশোরে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, হামলা-মামলা ও ভোট কাটার ইতিহাস, বিএনপির ইতিহাস।