যার হাত ধরে হয়েছিল #MeToo-র আত্মপ্রকাশ

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৮ | আপডেট: ৮:১৯:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৮
তারানা ব্যুর্ক। ছবি: ডেমোক্রেসি নাও

#MeToo; যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও নির্যাতনকারীর মুখোশ খুলে দিয়ে তাকে শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করার একটি সামাজিক প্ল্যাটফর্ম। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই এই আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার অনেকেরই কুকর্ম প্রকাশ হয়ে পড়তে হয়েছে প্রশ্নের মুখে।

#MeToo আন্দোলনে একটু একটু করে সরব হয়েছেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই ঝড় উঠছে এই #MeToo-র। আর সেই ঝড়ে একটার পর একটা উইকেট পড়ছে। তা সে ছবির জগতই হোক বা ক্রীড়া জগত অথবা রাজনৈতিক মহল, কেউই এই আঁচ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। কিন্তু এই #MeToo-র নেপথ্যে অর্থাৎ এই আন্দোলনের পথিকৃৎ কে ছিলেন জানেন?

২০০৬ সালে প্রথমবার #MeToo প্রকাশ্যে আসে। তারপর থেকেই এই অভিযান শুরু। আমেরিকার জনপ্রিয় সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট তারানা ব্যুর্ক এই আন্দোলন প্রথম শুরু করেন। যৌন হেনস্তা এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে হওয়া অন্যায়ের কথা প্রকাশ্যে তুলে আনার জন্য তিনিই প্রথম উৎসাহিত করতে শুরু করেন সকলকে। যে মেয়েরা কোনও না কোনও সময় এই যৌন হেনস্তার মুখে পড়েছেন তাদের এই #MeToo-তে সাড়া দেওয়ার অনুপ্রেরণা দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, #MeToo নামের একটি ডকুমেন্টারি ফিল্মও তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে ১৩ বছরের এক নাবালিকা জানিয়েছিল সে কিভাবে যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিল। তারানা বুর্কও এমন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। তিনি জানান, ৬ বছর বয়সে তাঁর ওপর যৌন অত্যাচার চলে। প্রতিবেশী একটি ছেলে তাঁকে ধর্ষণ করেছিল। এবং বেশ কয়েক বছর ধরে তার ওপর এই যৌন অত্যাচার হয়েছিল।

২০১৭ সালে #MeToo ফের একবার উঠে আসে। হলিউডি সেলেব এলিসা মিলানো #MeToo-কে সঙ্গী করে মহিলাদের বিরুদ্ধে হওয়া এই হেনস্তায় সরব হয়েছিলেন। তিনি ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর ট্যুইট করে লিখেছিলেন, যদি আপনিও যৌন অত্যাচারের শিকার হয়েছেন, তাহলে বলুন এবং লিখুন #MeToo অর্থাৎ ‘আমিও’।

এরপরেই হলিউড থেকে তা ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এবং ২০১৮ অর্তাৎ চলতি বছরে ভারতে যেন এক ঝড় হিসেবেই দেখা দিয়েছে এই #MeToo।