যে অপরাধে যুবকের ২ হাতের কব্জি কেটে নেয়া হলো!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:১৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ | আপডেট: ৭:১৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
সংগৃহীত

চাঁপাইনবানগঞ্জের শিবগঞ্জে রাতের আাঁধারে এক যুবককে তুলে নিয়ে ছুরি দিয়ে তার দুই হাতের কব্জি কেটে নিয়েছে ইউপি চেয়ারম্যানের ক্যাডাররা। রুবেল হোসেন (২৮) নামের ওই যুবকে আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানাগেছে, পদ্মা নদীর একটি ফেরী ঘাটকে কেন্দ্র করে শিবঞ্জের উজিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফয়েজ উদ্দীন ও তার ক্যাডাররা এমনটা করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর স্বজনদের। ভুক্তভোগী রুবেল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার রানিহাটি বাজার এলাকার মৃত খোদাবক্সের ছেলে।

রুবেলের চাচাতো ভাই ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল সালাম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, বুধবার রাতে রুবেল তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির দিকে আসছিলো। এসময় শিবগঞ্জের উজিরপুর বেড়ি বাঁধের কাছে কয়েকজন তাদের পথ রোধ করে ও পাশেই অবস্থিত চেয়ারম্যান ফয়েজের চেম্বারে গিয়ে দেখা করতে বলে।

রুবেল তার বন্ধুদের নিয়ে চেম্বারে গেলে, তার দুই বন্ধুকে ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে রুবেলের মুখ ও চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে পদ্মা নদীর বাঁধের নিচে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্যাতন করে ধারালো ছুরি দিয়ে দুই হাতের কব্জি কেটে নেয়া হয়।

রাত আনুমানিক একটার দিকে খবর পেয়ে পরিবারের লোকেরা তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে। এসময় অবস্থা গুরুতর হলে সেখান থেকে রুবেলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

ফয়েজ চেয়ারম্যন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এমনটা করেছে উল্লেখ করে সালাম জানান, নিউ পদ্মা ফেরি ঘাট নিয়ে বেশ আগ থেকেই চেয়ারম্যান ফয়েজের সাথে তাদের দ্বন্দ্ব চলছিল।

এই নিয়ে এমপি ও তার ভাইয়ের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ মিলেমিশে ঘাটটি চালিয়ে আসছিলো। এর মাঝে ফয়েজ ফেরি ঘাটটি পুরোটা নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে রুবেলের সাথে এমনটা করেছে।

এবিষয়ে উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফয়েজ উদ্দীন মোবাইল ফোনে জানান, আমি সকালে ঘটনাটি শুনেছি। আমি এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নই, শত্রুতাবশত আমাকে এই ঘটনার সাথে জড়িত করা হচ্ছে।

শিবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। বিয়ষটি জানার পর আমরা ঘটনাস্থলে আছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি, আমরা খোঁজ রাখছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মুজহিদুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত এঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। তবে ঘটনাটি জানার পুলিশের কয়েকটি টিম অভিযানে নেমেছে। আমরা অভিযুক্তদের ধরার পর মিডিয়ার সাথে কথা বলব।