যে দলই ক্ষমতায় আসুক সরকারে থাকতে চান এরশাদ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:০৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ | আপডেট: ৪:০৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুস্বেনি মোহাম্মদ এরশাদ। ফাইল ছবি

জীবনের শেষ বয়সে বিরোধী দলে থাকতে চান না জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আগামী নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক তার সঙ্গে যে কোন মূল্যেই সরকারে থাকতে চান সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। এরশাদের চেয়ে একধাপ এগিয়ে স্ত্রী রওশন এরশাদ। জাতীয় পার্টিকে এবার ক্ষমতায় দেখতে চান তিনি। কারো ক্ষমতার সিঁড়ি হতে চান না তিনি। গত বুধবার বনানীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের এমন কথাই বলেছেন এরশাদ ও রওশন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, যৌথসভায় স্যার পরিস্কার করে বলেছেন, আগামীতে সরকারে থাকতে চান। সরকারে থাকার বিষয়টি মাথায় নিয়ে তিনি নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন।

প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম এমপি জানান, যৌথসভায় নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী নেতা দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে স্ব স্ব এলাকায় দলকে শক্তিশালী করতে হবে, নির্বাচনের জন্য ভালভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেছেন।

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে রাজধানীর বনানীতে তার কার্যালয়ে দলের প্রেসিডিয়াম ও এমপিদের নিয়ে যৌথসভা আহ্বান করেন এরশাদ। তার ডাকে সাড়া দিয়ে দলের অধিকাংশ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সভার শুরুতে জাতীয় পার্টির ডিজিটাল নির্বাচনী প্রচার নিয়ে দুই ঘন্টার একটি প্রেজেন্টেশন হয়। আরো কিভাবে তৃণমুলে জাতীয় পার্টিকে তুলে ধরা যায় তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয় যৌথসভায়। আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতেও বলা হয় নেতাদের।

যৌথসভায় সিনিয়র নেতারা পার্টির চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্য করে বলেন, মহাজোট গঠন করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলেও তারা কথা রাখেনি। নির্বাচনে অনেক প্রার্থী দাড়িঁয়ে যায়। সমঝোতার আসনে তাদের একাধিক প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফলে জাপা প্রার্থী জয়ী হওয়া মুশকিলে পড়েন। তারা সরকার গঠনেও আমাদের মূল্যায়ণ করেননি। তাই এবার যার সঙ্গে জোট হোক না কেন, আগে সবকিছুর ফয়সালা করে নিতে হবে। আসন ভাগাভাগি থেকে শুরু করে সরকার গঠন কিভাবে হবে, কয়টি মন্ত্রিত্ব থাকবে, সব বিষয়ে ফয়সালা করে নির্বাচনে যেতে হবে। এসময় তারা

জবাবে এরশাদ বলেন, নির্বাচনী জোট যার সঙ্গে হোক না কেন, এবার সবকিছু হিসাব করেই জোট হবে। নির্বাচনের আগেই সবকিছুর ফয়সালা করা হবে।

বিরোধী নেতা রওশন পার্টির চেয়ারম্যানের মহাজোটে যাওয়ার প্রস্তাবের বিরোধীতা করে বলেন, আমরা কেন অন্যের কাছে জোট করার কথা বলব, আসন চাইব, মন্ত্রিত্ব চাইব? এবার আমরা কারো কাছে যাব না, ক্ষমতার সিড়ি হব না। যার দরকার হবে আমাদের কাছে আসবে। তখন প্রয়োজনে সমঝোতা হবে। এবার আমরাই সরকার গঠন করে জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।

এসময় দলটির নেতারা করতালি দিয়ে রওশনের বক্তব্য সমর্থন করেন। স্ত্রী রওশনের প্রশংসা করে এরশাদ বলেন, তার (রওশন) কথায় আমি উৎসাহিত হয়েছি। তার কথায় ঠিক। এবার আমরা সরকার গঠন করব। কারো কাছে যাব না। যে দলই ক্ষমতায় আসুক আমরা সরকারে থাকতে চাই। আর বিরোধী দল হতে চাই না।

নেতাদের উদ্দেশ্যে এরশাদ বলেন, ভালভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নাও। এবার আগের মত, আগের পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে না। বৃহত্তর জোট করে নির্বাচন হতে পারে। যুক্তফ্রন্টের আদলেও সরকার আসতে পারে। সর্বদলীয় সরকারও হতে পারে, তবে যে পদ্ধতিতেই নির্বাচন হোক, সরকার আসুক, এবার আমরা সরকারে থাকতে চাই। আর বিরোধী দলে থাকবো না।

যৌথসভায় নেতারা এখনই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে গ্রীণ সিগন্যাল দেওয়ার অনুরোধ জানালে পার্টির চেয়ারম্যান তাতে রাজি হননি। জবাবে এরশাদ বলেন, তফসিল ঘোষণার পর সংসদ সদস্য প্রার্থী মনোনয়নের জন্য আহ্বান করা হবে, বায়োডাটা নেওয়া হবে। তখন যারা ৪০ হাজার টাকা জমা দিয়ে ইন্টারভিউতে আসবেন, পাস করবেন, এলাকায় যাদের অবস্থান ভালো, যাকে যোগ্য মনে করব তাকেই চূড়ান্ত করা হবে।

যৌথসভায় এরশাদ, রওশন এরশাদ ছাড়া বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য এম এ সাত্তার, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, ফখরুল ইমাম এমপি, জিয়াউদিদ্ন আহমেদ বাবলু এমপি, প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন খান, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, সাহিদুর রহমান টেপা, সুনীল শুভ রায়, এস এম ফয়সল চিশতি, সোলেয়মান আলম শেঠ, এম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মশিউর রহমান রাঙ্গা, মুজিবুল হক চুন্নু, নুর-ই হাসনা লিলি চৌধুরী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, মেজর অব: খালেদ আখতার, আজম খান মুজিবুল হক সেন্টু, আব্দুর রশীদ সরকার, নাসরিন হাওলাদার এমপি, ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার, মাসুদা এম এ রশিদ চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, পীর মেজবাহ এমপি, জিয়াউল হক মৃধা এমপি, নুরুল ইসলাম মিলন এমপি, নুরুল ইসলাম ওমর এমপি, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, ইয়াহহিয়া চৌধুরী, সেলিম উদ্দীন এমপি প্রমুখ।

বৈঠকে জাপার কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও তারা বক্তব্য রাখেননি।

এদিকে শুক্রবার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন পরিদর্শনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, আমরা আর বিরোধী দলে থাকতে চাই না, এবার আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই। সংসদে দুই নম্বর চেয়ারে বসতে চাই না।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেন, পার্টির যৌথসভায প্রমাণ হবে, আমরা শক্তি অর্জন করেছি। আমরা ক্ষমতায় যেতে প্রস্তুত। নির্বাচনকে সামনে রেখে, নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।

শনিবার সকাল ১০টায় এখানে জাতীয় পার্টির যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে। দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলা, উপজেলা ও মহানগর ছাড়াও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এতে উপস্থিত থাকবেন। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, এসএম ফয়সাল চিশতী, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম নুরু, কেন্দ্রীয় নেতা আলমগীর শিকদার লোটন, গোলাম মোহাম্মদ রাজু, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, আমানত হোসেন আমানত, জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, ফখরুল আহসান শাহজাদা, বেলাল হোসেন, মনিরুল ইসলাম মিলন, সুলতান আহমেদ, মিল্টন মোল্লা, রেজাউল করিম, মিজানুর রহমান দুলাল, ফজলে এলাহি সোহাগ, আমন রফিকুল আলম সেলিমসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।