রংপুরে লাখ টাকার পশুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়

প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২১ | আপডেট: ১১:৩১:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২১

রউফুল আলম, রংপুর ব্যুরো: অনেকে কোরবানি দেওয়ার জন্য ১ লাখ বা এর বেশি দামে পশু কিনেছিলেন। তাঁরা সে পশুর চামড়া বিক্রি করেছেন ১০০ টাকায়। পশুর চামড়ার কম দাম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালকেরা। কারণ, এসব এতিমখানার বার্ষিক আয়ের অন্যতম উৎস এলাকাবাসীর দান করা কোরবানির পশুর চামড়া।

রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী জেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামগুলোর অনেকে কোরবানি দেওয়ার জন্য ১ লাখ বা এর বেশি দামে পশু কিনেছিলেন। তাঁরা সে পশুর চামড়া বিক্রি করেছেন ১০০ টাকায়। বড়ভিটা পাইকারটারী গ্রামের বকুল হোসেন, সাদেকুল, গোলাম আজম জানান, তাদের কোরবানির পশুর চামড়াও এই দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

ডিমলার রামডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস জানান, সময়মতো চামড়া বিক্রি করতে না পারলে সংরক্ষণের অভাবে তা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই ক্রেতাদের সঙ্গে দর–কষাকষি করলেও কম দামেই বিক্রি করতে হয়।

ডিমলা বাবুরহাটের রুবেল পারভেজ জানান, তাঁর ১ লাখ ২ হাজার টাকার গরুর চামড়া ১৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন। টুনিরহাটের বাসিন্দা লিপন জানান, কেনা গরুর দাম ছিল ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। চামড়া বিক্রি হয় ২০০ টাকায়। কিশোরগঞ্জ যদুমনি গ্রামের জয়নাল আবেদীন জানান, ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় কেনা গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ১৮০ টাকায়।

গ্রামে গ্রামে ঘুরে কোরবানির পশুর চামড়া কেনেন মৌসুমি ব্যবসায়ী মোঃ মোজাম্মেল ও আলিম উদ্দিন। তাঁর বাড়ি দঃ বড়ভিটায়। তিনি তাঁর গ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা দামে পশুর চামড়া কিনেছেন। জলঢাকার শহিদুল ইসলাম ১ হাজার গরুর চামড়া কিনেছেন। সব কটির দাম গড়ে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা।

এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, গ্রামে গ্রামে ঘুরে একটি চামড়া ১০০ টাকায় কিনলেও সংরক্ষণের খরচসহ গড়ে দাম পড়ে ২০০ টাকা। ঢাকায় নিতে প্রতি চামড়ায় ৩৫ টাকা খরচ হয়। লাভের আশায় তাঁরা পশুর চামড়া কিনে গত দুই বছর লোকসান দিয়েছেন।

এদিকে পশুর চামড়ার কম দাম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালকেরা। উপজেলার দঃ বড়ভিটা বাইতুল উলুম ঈদগাহ কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মাওলানা বজলুর রশিদ বলেন, এতিমখানায় এলাকাবাসীর দেওয়া চামড়াগুলো কিনতে এক ব্যবসায়ী এলে ৩৫০ টাকা দাম হাঁকা হয়। জুতসই না হওয়ায় ওই ক্রেতা চলে যান। নিজের পছন্দমতো দাম বলতেও ক্রেতা আর ফিরে আসেননি। এখন এসব চামড়া ঢাকায় নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।