রাজবাড়ীতে নদী চর মানুষের হাসি ফুটিয়েছে টমেটো চাষে

প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯ | আপডেট: ৫:৩৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯
ছবি:টিবিটি

এম,মনিরুজ্জামান,রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীতে এ বছর টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। আর ভালো ফলন ও বাজার দর পেয়ে দারুন খুশি টমেটো চাষিরা। শীতকালীন সবজি হিসেবে টমেটো অন্যতম। টমেটো রান্না ও সালাতসহ বিভিন্ন ভাবে ব্যবহৃত হয়। আর সেই টমেটো চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন রাজবাড়ীর চাষিরা।

রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর ফি বছর ভাঙ্গনের কবলে নিঃস্ব চাষিরা জেলে ওঠা চলা লে শীতের সজ্বি ব্যাপক টমেটে চাষ করেছে।নদী তীরবর্তী এলাকা হওয়ায় রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলায় টমেটোর চাষ বেশি হয়। কৃষকরা জানায়,নদী ভাঙ্গনের ফলে তাদের এখানের ধান ও গম খুব বেশি ফলে না। তাই তারা শীত কালিন এ সব ফসল ফলায়ে বন্যার সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেয়।

প্রতি বিঘা জমিতে টমেটো চাষে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মণ ফলন পাচ্ছেন চাষিরা। যা বাজারে পাইকারি দরে ৯শ থেকে ১ হাজার টাকা মণ হিসেবে বিক্রি করছেন। খরচ বাদ দিয়ে বিঘায় টমেটো চাষিদের প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা আয় হচ্ছে।

জেলার নদী তীরবর্তী চরা লসহ নিচু জায়গাগুলোর বেশির ভাগ অংশ জুড়েই এখন সবুজ শাক-সবজি ও শীতকালীন ফসলের আবাদ। চাষের মধ্যে রয়েছে টমেটো, ফুল কপি, বাঁধা কপি, বেগুন, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, শষা, মূলা, পালং শাক ইত্যাদি। জেলায় এবার প্রতিটি ফসলের ফলনই ভালো হয়েছে।তবে হাইব্রিট জাতের টমেটো ও বেগুন বেশি ভাগ এবং আগাম ফলন হওয়ায় এখানকার চাষিরা ভাল দাম পেয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গতবছর রাজবাড়ীতে ৮শ’২৫ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। আর এ বছর আবাদ হয়েছে ৮শ’৩৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে রাজবাড়ী সদরে ৩৭৫, গোয়ালন্দে ৩০০, পাংশায় ৮৫, কালুখালীতে ৩৮ ও বালিয়াকান্দিতে ৩৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। টমেটো চাষিরা জানান, প্রতিবছরই তারা টমেটো চাষ করেন বাড়তি লাভের আশায়।

এ বছরও করেছেন। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর নদীপাড়ের নিচু জমিতে টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করেছেন। এ বছর টমেটো চাষ করে তারা বেশ লাভবান হয়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান জানান, রাজবাড়ীতে দিন দিন টমেটোর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছর ৮শ’৩৫ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে। বেশির ভাগ চাষিই হাইব্রিড জাতের টমেটোর চাষ করেছেন।