রাজশাহী কেন গ্রীন সিটি?

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৫১ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২১ | আপডেট: ১:২৬:অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২১

মন চাইলো কাল থেকে মটর চালিত রিক্সা বন্ধ! কিন্ত কেন?
এরা চোর? এরা গরীব! এদের কেউ নেই!

কিভাবে চোর: এরা টাকা দিয়ে এলাকার রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবশালী সদ্য গজিয়ে ওঠা মাস্তানদের তত্বাবধানে তাদের রিক্সায় চার্জ দেয়। আবার বৈধ পন্হাতেও চার্জ দেয়। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা তো ঘটতেই পারে। এটি কে মূখ্য বা ইস্যু করবার সুযোগ খোঁজা অন্যায়। অনিয়ম কারীদের পুলিশ ধরেনা ছোঁয় না কেন? এ-ই দোষ কি ঐ গরীব মানুষ গুলোর?

এরা জন্মগতভাবেই গরীব। গরীব দেশের গরীব। জন্মই এদের আজন্ম পাঁপ। জন্ম মৃত্যু, ১/২/৩ বিয়ে, খাওয়া না খাওয়া সব কিছুই বিধাতার হাতে এদের । এদের চাচা, মামা,খালা, বড় ভাই ছোট ভাই নেতা, নেত্রী, রাষ্ট্র, থানা, পুলিশ, কেউ এদের সাথে নেই।

এরা কারো বন্ধু নয়! হতেও পারেনি কেউ! তাই এরা অসহায়। এদের পাশে দাঁড়াবার কেউ কি নেই দেশে? এরা স্বপ্ন দেখে দিবা রাত্রি: অল্প পরিশ্রমে একটু ভালো থাকার চেষ্টা করছে এরা। এতেই যত গাত্র দাহ হচ্ছে জনাব জনাবাদের। ভাত দেবার মুরোদ নেই, কিলাইবার গোসাই যেনো। এ-ই হঠকারী সিদ্ধান্ত কাদের স্বার্থে অচিরেই তা স্পষ্ট হবে আশাকরি।

এ-ই মটর চালিত বাহনটি কি পরিবেশ ও জনবান্ধন নয়? এ-ই রিকশা তো পরিবেশ বান্ধব। কার্বন নিঃসরণ করে না? রাজশাহী গ্রীন সিটি কেন? এদের জন্যেই তো !! মেয়র লিটন সাহেব এদের ড্রেস কোড, নাম্বার প্লেট ও জবাবদিহিতার আওতায় এনেছেন। সে কারনেই সাফল্য এসেছে।

এ-ই রিক্সা গুলো ড্রাই ব্যাটারীতে চলে। তেলে না। ব্যাটারী গুলো নিরীহ। এসিড লাগে সামান্য পরিমান। নির্মাণে পরিবেশের কোন খতিই হয়না কারন একফোঁটা এসিড ও মাটিতে পরার সুযোগ নেই। পনের থেকে বিশ হাজারের মধ্যে একসেট ৪টি ব্যাটারী কিনে ৮/৯ মাস ব্যাবহার করার পর এ-ই ব্যাটারী বিক্রি করে ৭/৮ হাজার টাকা ফেরৎ পান। এভাবেই এরা ভালো থাকেন।

সরকারী ভূর্তুকি এদের দিতে হয় না । প্রয়োজন ও নেই। তবে এ-ই মানুষ গুলোর শ্রমটুকুই সম্বল। জীবনটা আছে এ-ই আর কি !! অনেক কষ্টে উচ্চ সুদে এ-ই বাহনটি কিনে তারা একটুখানি বাঁচার আশা জাগিয়ে তুলেছেন। রাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত সত্যিই অমানবিক।

এই খাত থেকে সরকার লাভবান হতে পারে কিভাবে ? এদের পরিকল্পিত ভাবে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে গোটা রাষ্ট্রতেই উন্নয়নের – কর্মসংস্থানের সু-বাতাস বইয়ে দিতে পারতেন। এ-ই বাহনে মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে চলাচল করতে পারছে, দূর দূরান্তে। একগ্রাম থেকে আর এক গ্রাম এক ইউনিয়ন থেকে আর এক ইউনিয়ন।
প্যাডেল চালিত রিক্সা চালকের অমানুষিক পরিশ্রম অমানবিক কষ্ট আমরা কি করে অস্বীকার করবো?

এরা বিশ বছরে এ পেশায় এলে টেনেটুনে তিরিশ বছরে ৫০ এ-র অচল মানুষ। এ-ই শক্তির নিঃশেষ কি রাষ্ট্রের খতি মনে করা যায়না /? সরকার জনমন বান্ধব হলে
এমন তো হবার-করবার কথা নয় !!

মাথা ব্যাথা তো মাথা কেটে ফেলো:

এতো হবুচন্দ্র রাজার কথা হলো। সারাদেশে প্রায় ৩০ লাখ অটোরিক্সা চলে বলে অনুমান। স্হানীয় সরকার প্রশাসনিক জবাবদিহিতায় এদের আনলে এবং প্রতিমাসে যদি এদের
১০০/ একশত টাকা হারে রাজস্ব দিতে বলা হয় তবে এ খাত থেকে সরকার বার্ষিক রাজস্ব পাবে ৩,৬০,০০,০০০০০০/-(তিনশত ষাট কোটি টাকা)।

কর্মসংস্হান হলো তিরিশ লাখ পরিবার প্রধানের। ৩০ লাখ গুন ০৫ জন হলে ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ হবে এ-র সুবিধা ভোগী। এ-ই সেক্টরে কর্মরত আরো ১ কোটি মানুষ হবে এর সুবিধাভোগী। এ-ই হিসেব থেকে যা দাঁড়ালো, আড়াই কোটি মানুষ বেঁচে আছে এ-ই পেশা আঁকড়ে ধরে।

বলা নেই কওয়া নেই ভাবনা নেই চিন্তা নেই হুট করে কাল থেকে মটর চালিত রিক্সা বন্ধ !! কি আশ্চর্য! কি ভয়ংকর কথা এটি? রোহিঙ্গারা জামাই আদরে বসে বসে খাবে
ঘর পাবে! আনন্দে ডিম ফুটাইবে। সন্এাস নৈরাজ্যে, আপরাধে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে? আার আমাদের এ-ই অসহায় ভাগ্য বিড়ম্বিত স্ব-দেশী মানুষ গুলোর সহায় সম্বল রুটি রুজি কেড়ে নেওয়া হবে কেন /?

পার্সেন্টেজ ভোগী মুনাফা খোর রাষ্ট্র যন্ত্রের এসবে কোন ভ্রক্খেপ থাকে না থাকবে না এটাই সত্যি !! এটিই ইতিহাস। এ-ই অতি মারী কালে সারা পৃথিবীর রাষ্ট্র যন্ত্র গুলো যথা সাদ্ধ্য চেষ্টা করছে মানুষ বাঁচানোর আর আমাদের দেশে মানুষের জীবন জীবিকা কেড়ে নিতে অমানবিক অবিবেচকের মতো ফরমান জারি করছেন !! মানুষের বাঁচার প্রানপ্রণ চেষ্টা কে উপহাস করছেন !

এ-ই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে এদের শৃঙ্খলায় আনুন। আইন কানুন মেনে চলার দীক্ষা দিন এটিই হবে মানবিক জনমন বান্ধব রাষ্ট্রের কাজ। দমনপীড়ন নয়।

লেখক: আতিক এইস খান