‘শপথ গ্রহণ’ নিয়ে টালমাটাল ঐক্যফ্রন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রকাশিত: ৫:১৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০১৯ | আপডেট: ৫:১৭:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০১৯

সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’র (বিএনপি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। জানা গেছে নীতিগতভাবে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তবে এতে দ্বিমত ঐক্যফ্রন্ট তথা ড. কামাল হোসেনের গণফোরামের।

ঐক্যফ্রন্টের শরীক গণফোরামের দুই নির্বাচিত সংসদ সদস্য শপথ নিতে চান। তাদের মতে সংসদের বাইরে শুধু নয় সংসদের ভেতরে থেকেও সরকারের সমালোচনা করা প্রয়োজন। এই যুক্তিতে শপথ নিতে চান তারা।

সিলেট-২ আসনে ঐক্যফ্রন্টের শরীক গণফোরামের নির্বাচিত প্রার্থী মোকাব্বির খান বলেন, আমি আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণের মতামত সংগ্রহ করেছি। তারা আমাকে তাদের সিদ্ধান্ত এবং পরামর্শ জানিয়েছে। এখন আমি আমার পার্টি গণফোরামের মিটিংয়ে তা উপস্থাপন করবো। এরপর গণফোরাম যে সিদ্ধান্ত নিবে তা ঐক্যফ্রন্টের মিটিংয়ে জানানো হবে। পরে ঐক্যফ্রন্টের মিটিংয়ে সকলের সম্মিলিত মতামতে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটাই হবে।

নির্বাচনী এলাকার জনগণ কি পরামর্শ দিয়েছেন, তাদের চাওয়া কি এমন প্রশ্নে মোকাব্বির খান বলেন, এটা আপাতত বলা যাচ্ছে না। আমি মিটিংইয়েই তা উপস্থাপন করবো। সূত্র জানিয়েছে নেতাকর্মীরা তাকে শপথ গ্রহণের জন্যই পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্যদিকেশপথ নেওয়ার চাপ রয়েছে মৌলভাবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে জয়ী গণফোরামের প্রার্থী সুলতান মনসুরের উপর। কুলাউড়া উপজেলা গণফোরামের আহ্বায়ক মতাহির আলম চৌধুরী বলেন, এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সুলতান মনসুরের এমপি হিসেবে শপথ নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে মানুষ ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছেন। তাদের আমানত রক্ষার দায়িত্ব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির। এমপি হিসেবে শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের দায়িত্ব তার ওপর।

এ প্রসঙ্গে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন। দু’একদিনের মধ্যে ঢাকায় যাব। সবার সঙ্গে কথা হবে। তারপর সবকিছু বলতে পারব। তবে সূত্র জানিয়েছে শপথ গ্রহণের পক্ষেই সুলতান মনসুর। নির্বাচনে জিততে অনেক চড়াই-উৎসার পার হতে হয়েছে তাকে। নেতাকর্মীরা পরিশ্রম করেছেন হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এই অবস্থায় নির্বাচিত হয়েও শপথ না নিলে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়তে পারেন। এতে ভবিষ্যতে মাঠ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।

গণফোরামের দুই প্রার্থী শপথ নেওয়ার পক্ষে হলেও দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। বগুড়া-৪ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমি দল থেকে এখনও কোন সিদ্ধান্ত পাইনি। দল থেকে আমাকে যে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে আমি তা মেনেই সামনে কাজ করে যাবো।”

তবে শেষ মুহূর্তে বিএনপির সমর্থন পাওয়া বগুড়া-৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী রেজাউল করিম বাবলুর কোন মন্তব্য জানা যায়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হারুনুর রশিদও দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানও।