‘শুনেছি আবারও নাকি ভূমিকম্প হতে পারে, ভেবেই গা শিউরে উঠছে’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৫৫:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০১৮
ফাইল ছবি

ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং সুনামির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এখন পর্যন্ত ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের ত্রাণ সহায়তার ঘোষণা এসেছে।

এদিকে দুর্যোগ কবলিত অঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরে আসায় পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তবে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বলছে, আবারও শক্তিশালী মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে দ্বীপটিতে।

দুর্যোগের পর নিজ এলাকায় ফিরে দিশেহারা ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের বাসিন্দারা। ছবির মতো সাজানো দ্বীপটির চিত্র এখন একেবারেই ভিন্ন। তাঁবু টাঙিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন সেখানকার মানুষ। ক্ষুধা, তৃষ্ণা মেটাবার জন্য নেই কোন উপায়।

দুর্যোগের এক সপ্তাহ পর কিছু কিছু অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরে এসেছে। দোকানও খুলেছে কিছু। কিন্তু অর্থ দিয়ে খাবার কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই সেখানকার মানুষের।

দুর্গত অঞ্চলে ইতোমধ্যেই ত্রাণ পৌঁছাতে শুরু করেছে। স্বেচ্ছাসেবীরা দুর্যোগ কবলিত মানুষের মধ্যে এসব ত্রাণ বিতরণ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৮০ লাখ ডলার ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা এসেছে। তবে জাতিসংঘের মতে এই পরিমাণ ত্রাণ সেখানকার মানুষের জন্য মোটেও পর্যাপ্ত নয়।

সংস্থাটি জানায়, ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগের পর মানবিক বিপর্যয় এড়াতে জরুরী ভিত্তিতে ৫ কোটি ডলার সহায়তার প্রয়োজন। এদিকে, বিধ্বস্ত ইন্দোনেশিয়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ পাঠিয়েছেন ব্রিটেনের রানিও।

প্রলয় রূপী দুর্যোগে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা সাড়ে ষোলশ’ পেরিয়ে গেছে। এরই মধ্যে, আবারও ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। এ অবস্থায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার মানুষের মনে।

স্থানীয়রা বলেন, ‘আমরা এখনও আতঙ্কিত। নিজ চোখে যে দৃশ্য দেখেছি তাতে ঘুমাতে পারছি না। এর মধ্যে শুনেছি আবারও নাকি ভূমিকম্প হতে পারে। ভেবেই গা শিউরে উঠছে।’

গেল ২৮শে সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেখা দেয় ভয়াবহ সুনামি। এতে অন্তত ৭০ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৮শ ৫৫টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।