শেকৃবিতে শিক্ষক সংকট, সেশন জটের আশংকায় শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ৭:১৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৪২:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০১৮
ফাইল ফটো

কায়েস ইবনে জুবায়ের,শেকৃবি প্রতিনিধি: রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) তিনটি অনুষদে মোট ৭৫৬ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন ৩৭ জন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৯ মাসেও সম্পন্ন হয়নি শিক্ষক নিয়োগ। একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা। নির্ধারিত সময়ে গ্রাজুয়েশন করা নিয়ে দুঃশ্চিতা শিক্ষার্থীদের মাঝে। নানাবিধ অজুহাতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা পিছায়, ফলে সেমিষ্টার দীর্ঘায়িত হয়েছে, দাবী শিক্ষকবৃন্দের।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ফিশারিজ এন্ড এ্যাকুয়াকালচার অনুষদের ৬টি বিভাগ মিলে শিক্ষক রয়েছেন ২ জন, এনিম্যাল সাইন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ১০টি বিভাগে বর্তমানে মোট শিক্ষক রয়েছেন ১৪ জন, এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদে ৫টি বিভাগে মোট শিক্ষক আছেন ২১ জন। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টির কৃষি অনুষদে ৪ বছর মেয়াদী বি এসসি কের্সে ৫টি ব্যাচ চলমান যার মধ্যে প্রথম বর্ষ ২ মাস, দ্বিতীয় বর্ষ ৫ মাস, তৃতীয় বর্ষ সাড়ে ৫ মাস, চতুর্থ বর্ষ ৮ মাস এবং শেষ বর্ষ ১১ মাস পিছিয়ে রয়েছে। এছাড়া এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদে ৪ বছর মেয়াদী বিবিএ এবং বি এসসি কোর্সে ৫টি ব্যাচ চলমান যার মধ্যে প্রথম বর্ষ দেড় মাস, দ্বিতীয় বর্ষ ২ মাস, তৃতীয় বর্ষ ১০ মাস, চতুর্থ বর্ষ ১০ মাস এবং শেষ বর্ষ ১১ মাস পিছিয়ে রয়েছে। এনিম্যাল সাইন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদে ৫ বছর মেয়াদী বি এসসি কোর্সে প্রথম বর্ষ ২ মাস, দ্বিতীয় বর্ষ ৩ মাস, তৃতীয় বর্ষ সাড়ে ৫ মাস, চতুর্থ বর্ষ ৪ মাস এবং পঞ্চম বর্ষ ২ মাস পিছিয়ে। এবং ২০১৭ সালে যাত্রা করা বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন অনুষদ ফিশারিজ এন্ড একুয়াকালচারে ৪ বছর মেয়াদী বি এসি কোর্সে প্রথম বর্ষ ২ মাস, দ্বিতীয় বর্ষ ৩ মাস একাডেমির নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।

সদ্য দায়িত্ব পাওয়া কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিমের সাথে কথা হলে তিনি বাংলাদেশ টুডে’কে জানান, “এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাই না। কিছুদিন পর আপনারাই ফল পাবেন আমি আমার দায়িত্ব কতটা পালন করতে পেরেছি।”

এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মিজানুল হক কাজল বলেন, “অামার অনুষদে দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষক সংকট। ২০১৪ সালের পর এই অনুষদে কোন শিক্ষক নিয়োগ হয়নি বরং উচ্চশিক্ষার জন্য অনেকে দেশের বাইরে গেছেন। আমি তাই বলে উচ্চশিক্ষা অর্জনে বিদেশ যাওয়ার বিরোধিতা করছি না। আমরা যেখানে ৩২ জন শিক্ষক ছিলাম সেখানে এখন ২১ জন আছি অন্যদিকে অনুষদে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। আগে আমাদের ১টি ডিগ্রী ছিল এখন ২টি ডিগ্রী। শিক্ষক স্বল্পতা থাকার পরও একটি দিনও ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ যায়নি। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছি একাডেমিক ক্যালেন্ডার ঠিক রেখে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে। পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্ব, মেকআপ পরীক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা পিছানো সেমিষ্টার পিছিয়ে যাবার কারণ বলে আমি মনে করি।”

এনিম্যাল সাইন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, “সেমিষ্টার দীর্ঘায়িত হবার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো, শিক্ষার্থীরা নানা অজুহাতে বিভিন্ন সময় পরীক্ষা পিছায়। এছাড়া লম্বা ছুটি শুরুর আগে ও পরে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা দেয় না। অনুষদটি ১০টি বিভাগে ২৪ জন শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও উচ্চশিক্ষার জন্য কয়েকজন দেশের বাহিরে থাকায় ৩৮০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বর্তমানে আমরা মাত্র ১৪ জন শিক্ষক রয়েছি যা খুবই নগণ্য। তাই যথাসময়ে ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ার পেছনে শিক্ষক স্বল্পতা অনেকটা দায়ী।আর সেই স্বল্পতার জন্য যথেষ্ট অান্তরিকতা ও উদারতা থাকার পরও সবকিছু সামাল দিয়ে স্বল্প সময়ে পরীক্ষার নম্বর জমা দিতে কিছু শিক্ষকের জন্য রীতিমত কষ্টকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার কোনো সেমিষ্টারে কারও ফেল আসলে তাদের জন্য ১ম মেকআপ, ২য় মেকআপের জন্য সেমিষ্টার দীর্ঘায়িত হয়ে যায়। নতুন নিয়োগের আগ পর্যন্ত শিক্ষক স্বল্পতা কাটিয়ে উঠতে উপাচার্য মহোদয় প্রয়োজন অনুযায়ী খন্ডকালীন শিক্ষক নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। আমাদের প্রতিটি বিভাগে অন্তত ৮/১০ জন শিক্ষক না হলে অনুষদকে পূর্ণাঙ্গ বলা যায় না। নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এই চাহিদা অনেকটা পূরণ হবে আশা করি। ধারাবাহিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালমান থাকলে একদিন পরিপূর্ণ অনুষদ হিসেবে আত্নপ্রকাশ করবে এটি। শূণ্য জটে শিক্ষার্থীদের গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার জন্য আমরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি। সেইসাথে শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার আহবান থাকবে, কোন ক্লাস-পরীক্ষা ঠিকমত না হলে তা ডিন অফিসকে সরাসরি জানালে সেক্ষেত্র কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, “নিয়োগ সম্পন্নের আগে এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলবো না।”

বেশকিছু শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারা বলেন, “প্রতি সেমিষ্টারের শুরুর দিকে তেমন ক্লাস হয় না এবং ক্লাসরুমের সংকটের কারণে মাঝেমধ্যেই ক্লাস হয় না। আবার ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশে অনেক দেরি হয় যা সেমিষ্টার পিছিয়ে যাবার একটি কারণ। এখন সঠিক সময়ে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা নিয়ে আমরা দুঃশ্চিতায় আছি। অতিসত্বর প্রশাসন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নিয়োগ নিশ্চিত করে শিক্ষক সংকট লাঘবে এবং চলমান জট শূন্য কোটায় নিতে সচেষ্ট হবেন বলে আমরা আশা করি।”