শেখ হাসিনার ‘গুডবুকে’র নেত্রীরা আসছে সংরক্ষিত আসনে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০১৯ | আপডেট: ১১:৩৬:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০১৯
ফাইল ছবি

টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগ নতুন মন্ত্রিসভার মতোই একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনেও নতুন মুখের চমক উপহার দেবে । সংসদ নেতা শেখ হাসিনার ‘গুডবুকে’ থাকা নেত্রীরা দশম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়ন পাচ্ছেন।

এর মধ্যে রয়েছে জেলা কোটা, এক/এগারো ও ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নারী নেত্রীসহ দলের দুর্দিনে হাল ধরা তৃণমূলের ত্যাগী পরিবারগুলো।

আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। গত ১ জানুয়ারি গেজেট হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের। এ হিসাবে আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের ভোট করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি)।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন রয়েছে। সাধারণত সংসদের আসনের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত এই মহিলা আসনে রাজনৈতিক দল বা জোটগুলো তাদের নির্ধারিত আসনের জন্য একক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় তারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হন।

নির্বাচিতদের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের পরবর্তী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে দল বা জোটগুলো বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের জোটের অবস্থান নির্বাচন কমিশনকে জানানোর নিয়ম রয়েছে।

সে অনুযায়ী একাদশ সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানে আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে দলগুলোকে ইসিতে জোটের তথ্য দেবে। ইসি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তালিকা প্রস্তুত করবে।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যদের জন্য কোনও নির্ধারিত নির্বাচনি এলাকা নেই। তারা কেবল দলীয় বা জোটের সদস্য হিসেবে পরিচিত হবেন। এক্ষেত্রে দল বা জোটের প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে মহিলা আসন বণ্টিত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে আগে যেসব জেলা সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সেসব জেলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলেই দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা দল মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করবো।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘বিষয়টি এখনো আমাদের দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টির দেখভাল করছেন। তিনি নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় চমক দিয়েছেন। আশা করি, সংরক্ষিত মহিলা আসনেও চমক উপহার দেবেন।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যেসব জেলা থেকে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত মহিলা আসনে কেউ সংসদ সদস্য ছিলেন না, সেসব জেলায় মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ বা সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রীসহ দলের দুর্দিনে ভূমিকা রাখা আওয়ামী পরিবারের সদস্যরা ঠাঁই পেতে যাচ্ছেন। এছাড়া দলীয় সমমনা পেশাজাবীরাদের মূল্যায়িত করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে ৩০ জানুয়ারি। সব কিছু দ্রুত শেষ হলে এ অধিবেশনেই সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরা যোগ দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
Add Image