‘সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ সংবিধানের ভেতরে রয়েছে’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৫১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ৪:৫১:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৮
ছবি: সংগৃহীত

সাংবিধানের ১৮তম সংশোধনী করা বর্তমানে জনগণের দাবি উল্লেখ করে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক কমরেড সাইফুল হক বলেছেন, ‘সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ সংবিধানের ভেতরে রয়েছে।’

আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৭টায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে বসবেন। ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা আগে বাম জোটের এই সমন্বয়ক বলেন, এখন পর্যন্ত ১৭ বার সংবিধানের সংশোধনীয় আনা হয়েছে। সরকার চাইলে সংবিধানের সংশোধনী আনা সম্ভব। যা সংলাপে আমরা সরকারের কাছে তুলে ধরবো।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভোটাধিকার নিশ্চিতের পদযাত্রা পূর্বক সমাবেশে সাইফুল হক আরো বলেন, সংলাপের মিমাংশা না হওয়ার আগে নির্বাচন কমিশন তফসিলের তারিখ ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও সংলাপের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন। অথচ তার আগে কিভাবে তফসিল ঘোষণা হবে?

সংলাপের ফলপ্রসূ সমাধান না আসা পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা স্থগিত রাখার আহ্ববান জানান বাম জোটের সমন্বয়ক।

সংলাপ চলাকালীন অবস্থায় বাম নেতাদের বিরুদ্ধে হামলা মামলা চলছে এমন অভিযোগ এনে সাইফুল বলেন, সংলাপের মধ্যদিয়ে সমাধানের সৎইচ্ছা দেখাতে চাইলে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে মামলা হয়নি, মামলা হয়েছে নাসকতা, মাদক, জঙ্গি এসব কারণ দেখিয়ে। তাই রাজবন্দিদের তালিকা চাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কৌশলী বক্তব্য।

একই সমাবেশে সিপিবি সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশ আজ ভয়ংকর বিপদের মুখে। এ দেশে ভোট অধিকারের আন্দোলন নতুন নয়। দুটি দল (বিএনপি-আওয়ামী লীগ) বিরোধীদলে থাকলে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। আবার তারাই ক্ষমতায় গেলে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার সবচেষ্ঠা করে। তাই দেশের জনগন তাদের চিরদিন বিরোধীদলে দেখতে চায়।

সরকার শুধু সংবিধানের কথা বলে। সংবিধানে বলা আছে কোন সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় না। সে কথা কেন সরকার বলছে না? প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে। তাই সরকারের বক্তব্য সংবিধান বিরোধী।

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি যে বক্তৃতা দিচ্ছেন। এমন বক্তব্য আইয়ুব খান, জিয়াউর রহমান ও এরশাদের মুখ থেকে শুনেন নাই। তারপরেও কিভাবে বলেন, আপনার সৎইচ্ছার ওপর আস্থা রাখতে।? এতোদিন যে অপরাধ করেছেন, তাতে দায় মুক্তির অধ্যাদেশ করে মুক্তি পাবেন না। আওয়ামী দুঃশাসনের নজির মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। মানুষ এর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ব্যালট ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু সেই অধিকার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে।

সংলাপ হচ্ছে আবার আন্দোলন করবেন প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, এই প্রশ্নের জবাব আপনি আপনার পিতার কাছ থেকে শিখে নেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু সংলাপ করেছেন ইয়াহিয়ার সাথে পাশপাশি ঘরে ঘরে দুর্গো গড়ে তোলার আহ্ববান জানিয়েছেন।

নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার আহ্ববান জানিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি বলেন, নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো সরকারের আজ্ঞাবহ। এদের পরিচালনায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই আন্দোলন করে ভোটাধিকার আদায় করতে হবে।

তিনি বলেন, জনগনের চাপে সরকার আজ সংলাপ করছে। সংলাপে ভোটাধিকার বাস্তবায়নের সঠিক নির্দেশনা না আসলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

পদযাত্রা পূর্বক সমাবেশ থেকে জানানো হয়েছে, সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরার হবে। নির্বাচনের পূর্বে সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। ইভিএম ব্যবহার বাতিল ও না ভোটের বিধান চালু রাখা।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে মতিঝিল ঘুরে আবার পল্টনে এসে শেষ হবে। সমাবেশের সমাপতিত্ব করেন কমরেড সাইফুল হক।