সংলাপে ঐক্যফ্রন্টকে যে সকল বার্তা দেবে আওয়ামী লীগ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৫৫:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৮
ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের রাজনীতিতে চলেছে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ আর নানা সমীকরণ। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। যা ‘টক অব দা কান্ট্রি’তে পরিণত হয়েছে। এর পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ-ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ নিয়ে বইছে আলোচনার ঝড়। ইতিমধ্যে ঐক্যফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগের কারা কারা থাকবেন সেটিও নিশ্চিত ঠিক করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেটি ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা এবং সেই দাবির বিষয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বার বার বলা হচ্ছে দাবিটি মানার কোন অবকাশ নেই। বেশির ভাগ দাবিগুলোকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছেন দলটির সিনিয়ন নেতারা। তবে তার পরেও সেই দাবিকে কেন্দ্র করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েই আলোচনা হবে।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী ফোরামের একাধিক নেতা জানান, ঐক্যফ্রন্ট বেশির ভাগ দাবিই অসাংবিধানিক। তবে আমরা চাই সকল অংশগ্রহণমুলক একটি নির্বাচন। সেজন্য তাদের সাথে আলোচনা করবো। সংবিধান সমুন্নত রেখে কিভাবে বিষয়টি সমাধান করা যায় সে বিষয়েই আলোচনা হবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সংলাপে এই মুহূর্তে সংবিধানের বাইরে কোনো আলোচনা করার সুযোগ নেই। ’

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, সংবিধানের পরিপন্থী নয় এমন যেকোনো বিষয় নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। এক্ষেত্রে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, সভা সমাবেশ নির্বিঘ্ন করা, নির্বাচন কমিশন, ইভিএম ব্যবহারসহ নির্বাচন কেন্দ্রিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

সংলাপে আওয়ামী লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে কি বার্তা দিতে চায় জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান জানান, ‘আওয়ামী লীগ বার্তা দিতে চায় এটা খুবই সিম্পল সেটা হলো আওয়ামী লীগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরোপেক্ষ নির্বাচন চায়। এবং সেই নির্বাচনটি নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে অনুষ্ঠিত করুক, সেই জায়গায় নির্বাচনকালীন যে সরকারটি থাকবে সেই সরকার দৈনন্দিন যে রুটিন কাজ আছে সেগুলো করবে। এবং নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্যে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করবে, এটিই আওয়ামী লীগ তার বার্তা দিতে চায়।’

সংলাপের বিষয়ে উভয়পক্ষের প্রস্তুতি শেষ, বাকি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যদের একটি দল সংলাপের উদ্দেশ্যে গণভবন যাবে। এদিকে আওয়ামী লীগও ঠিক করেছেন কারা কারা থাকবেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের ২১ নেতা সংলাপে অংশ নেবেন।