সংলাপে ‘রাজনীতিক সংকটের বরফ‘ গলবে কি?

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৫৫:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৮
সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে সরকার আর বিরোধী জোটের বৈঠকের তাগিদ দিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক মহলও। অবশেষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত সংলাপ। যে দুর্গে দরজা বন্ধ ছিল, সেই দুর্গ থেকেই ডাক এসেছে বৈঠকে বসার। অবশেষে ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে বসছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

রাজনীতির অশনিসংকেত ঘিরে থাকা জাতি আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছে ‘সংলাপ’ আলোচনাতে। ক্ষমতাসীন দলের অনীহা থাকলেও আলোচনার আবেদন উঠেছে সর্বমহল থেকে।
‘সংলাপ’র পাশাপাশি আলোচনা হচ্ছে এখন এর ফলাফল নিয়েও।





দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা রাজনীতির ‘বরফ’ সংলাপের মাধ্যমে কী গলবে, না-কি জট আরও বাঁধবে? আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে কী হতে পারে আগামীর নির্বাচনে- এমন প্রশ্নও এখন জনমনে।

এই বিশ্লেষক বলেন, সংলাপ ফলপ্রসূ হবে কি-না তা নির্ভর করবে অংশগ্রহণকরীদের আন্তরিকতার ওপর। যেসব এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার অনেক কিছুই সাংবিধানিক। সংবিধান পরিবর্তনের ব্যাপার আছে। আবার অনেক বিষয় আছে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জড়িত।

‘হঠাৎ সংলাপ প্রসঙ্গে সরকারের ইউটার্ন’- এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আরও অপেক্ষা করতে হবে। কী হবে, তা আলোচনা থেকেই বেরিয়ে আসবে। বৈশ্বিক রাজনীতি পরিবর্তন হয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশে নির্বাচন হয়েছে, তেমন প্রশ্ন ওঠেনি। ২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে বিশ্বমহলে প্রশ্ন আছে। ধারণা করা যেতেই পারে, সরকার সংলাপের জন্য আন্তর্জাতিক মহল থেকেও অবগত হচ্ছেন।





এবার সংলাপ অর্থবহ না হলে বিপদ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন সাখাওয়াত হোসেন। সংলাপ প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, সংলাপ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার আপাতত কোনো কারণ নেই। কারণ, আমরা আগেও এমন সংলাপ দেখেছি। অর্থবহ আলোচনা হয়েছে- এমন নজির আছে বলে আমার জানা নেই। এমনকি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও সংলাপের আলোচনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়।

তবে সংলাপের ব্যাপারে আশাবাদী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, জনগণ ক্ষমতার মালিক। কিন্তু রাজনীতির মধ্য দিয়েই জনগণকে ক্ষমতাবঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। আমরা জনগণের রাষ্ট্র জনগণকে ফিরিয়ে দিতে আন্দোলন করছি। এ আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।





সংলাপের ফলাফল প্রসঙ্গে বলেন, আমরা আমাদের দাবি আর লক্ষ্য ঘোষণা করেছি। সময় বদলে গেছে। মানুষ এখন হিংসার রাজনীতি করতে চায় না। এই উপলব্ধি থেকে ক্ষমতাসীন দল সংলাপে ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে আমি মনে করি।

সংলাপের ফলাফল প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, রুটি ভাগাভাগির জন্যও সংলাপ হতে পারে। আমরা ইতোপূর্বে বহু সংলাপ, আলোচনা দেখেছি। তাতে গণমানুষের লাভ হয়নি। বরং বৈষম্য বেড়েছে। সংলাপের স্বার্থকতা নির্ভর করে মূলত ক্ষমতাসীনদের আন্তরিকতার ওপর। সরকার চাইলে একদিনের মধ্যেই চলমান সংকট নিরসন করতে পারে।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, সংলাপে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার, সভা–সমাবেশ করার সুযোগ দেওয়া ও বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার না করার ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্টকে আশ্বস্ত করা হবে। এমনকি ভোটের সময় আইন অনুযায়ী সেনা মোতায়েনের ব্যাপারেও ঐক্যফ্রন্টকে আশ্বস্ত করা হবে। তবে সংবিধান সংশোধন করতে হবে, এমন দাবি আওয়ামী লীগ মানবে না। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আলোচনায় সেভাবে প্রাধান্য পাবে না বলেই বলছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।