সদরঘাট-মিরপুর রিকশা ভাড়া ১৫০০ টাকা!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২১ | আপডেট: ১:০০:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২১
প্রতীকী ছবি

ঢাকায় ফেরা মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরে যানবাহনের ভাড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকেই। ঢাকার বিভিন্ন বাস, লঞ্চ টার্মিনাল থেকে বাসায় ফিরতে তাদের রিকশা ভাড়া গুনতে হয়েছে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা।

অনেকেই আবার লঞ্চ টার্মিনাল থেকে হেঁটেই বাসায় ফিরেছেন। মাঝ রাস্তায় এসে অনেকেই ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে রিকশা ভাড়া করে গন্তব্যে পৌঁছেছেন।

বরিশাল থেকে ভোর ৬টায় সদরঘাটে লঞ্চ টার্মিনালে নামেন রাকিব। তার বাসা রাজধানীর নতুনবাজারে। তার কাছে সদরঘাট থেকে নতুনবাজারের রিকশা ভাড়া চাওয়া হয় ১২০০ টাকা। কিন্তু তিনি পরে হেঁটেই মালিবাগ পর্যন্ত আসেন।

পরে মালিবাগ থেকে ৩০০ টাকায় রিকশা ভাড়া করে নতুনবাজারে আসেন। রাকিব জানান, বরিশাল থেকে সদরঘাটের লঞ্চ ভাড়া হলো ৪০০ টাকা। আর ঢাকায় ফিরে বাসায় যাওয়ার জন্য রিকশা ভাড়া চাওয়া হয় তিনগুণ বেশি।

গার্মেন্টকর্মী আয়শা খাতুন। গ্রামের বাড়ি বরিশাল। ঈদ করতে ঢাকা ছাড়েন। গতকাল ভোর ৬টায় তিনি লঞ্চ থেকে সদরঘাটে নামেন। সদরঘাটে নেমে দেখেন যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছে হাজার হাজার মানুষ।

কিন্তু যানবাহন হাতেগোনা। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে মিরপুরে যাওয়ার জন্য তিনি ও তার এক সহকর্মী রিকশাচালকের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে দরদাম শুরু করেন। তার কাছে রিকশা ভাড়া চাওয়া হয় দেড় হাজার টাকা।

তিনি বলেন, ৪০০ টাকা লঞ্চ ভাড়া দিয়ে ঢাকায় এসেছি। কিন্তু এখন সদরঘাট থেকে মিরপুরের যাওয়ার জন্য রিকশা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ১৫০০ টাকা। কিন্তু তার কাছে ১৫০০ টাকা না থাকায় তিনি অনেকটা বিপাকে পড়েন।

গতকাল সকালে আয়শা খাতুনের মতো অনেকেই ভাড়া নিয়ে বিপাকে পড়েন। গতকাল লকডাউন শুরু হওয়ায় গণপরিবহনসহ সব (রিকশা ও জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া) ধরনের পরিবহন বন্ধ থাকায় দক্ষিণাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চের হাজার হাজার যাত্রী ঘরে ফেরা নিয়ে বিপাকে পড়েন।

বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ বিভিন্ন রুট থেকে ছেড়ে লঞ্চগুলো ভোর ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে সদরঘাটে এসে পৌঁছায়। যাত্রীর তুলনায় রিকশার সংখ্যা কম হওয়ায় রিকশাচালকরা কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দাবি করেন।

ফলে সদরঘাট ও ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় লাগেজ ও ব্যাগ নিয়ে শত শত যাত্রী যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করেন। অপেক্ষাকৃত যারা অর্থবিত্তের মালিক তারা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলে যেতে পারলেও নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষ বিপাকে পড়েন।

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যাদের বাসা তাদের কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ শেয়ারে ভ্যান ভাড়া করে গন্তব্যে যান। কেউ কেউ আবার পরিবার ও আত্মীয়দের ফোন করে এলাকা থেকে ভ্যান ও রিকশা ভাড়া করে সদরঘাটে পাঠায়।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সদরঘাট থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ। কেউ লাগেজ ও ব্যাগ থাকায় শিশু ও নারীদের নিয়ে পায়ে হেঁটে আসছেন। কেউ ভ্যান আবার কেউ রিকশায় গাদাগাদি করে ছুটছেন। অসংখ্য পরিবারকে রাস্তার পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে।