সমাবর্তনে, মা-বাবার উৎসবটাও কম নয়

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৫৮:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০১৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজ শনিবার (৬ অক্টোবর) ৫১তম সমাবর্তন। ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এ সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সভাপতিত্ব করবেন। রেকর্ড সংখ্যক গ্র্যাজুয়েটদের অংশগ্রহণে প্রাণের উচ্ছ্বাসের মেতে উঠবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে গাউন পরিয়ে দিচ্ছেন। ঠিক করে দিচ্ছেন মাথার টুপি। কেউ কেউ আবার সেলফি তুলতে ব্যস্ত। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) জুড়ে এমনই দৃশ্য। ঢাবি ক্যাম্পাস জুড়ে শুধু কালো আর কালো। ২১ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর গোটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার জীবনের অন্যতম মাইলফলক অর্জন করতে যাচ্ছেন ২১ হাজার ১১১ জন গ্র্যাজুয়েট। এক দিনের মহড়া শেষে মূল সমাবর্তন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত তারা। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সঙ্গে আসা অভিভাবকরাও সন্তানদের আনন্দে আনন্দিত।

পুরো ক্যাম্পাস ছেয়ে গেছে সমাবর্তনের ব্যানার-ফেস্টুনে। সকাল ৭টা থেকেই ঢাবি ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। আবেগাপ্লুত অনেক বাবা-মা সন্তানের সাফল্যে অশ্রুও ফেলছেন।

কেউ কেউ আবার বাবা-মা’কে গাউন ও টুপি পরিয়ে ছবি তুলছেন। টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর গাউন-টুপি পড়ে ছবি তুলছেন শিক্ষার্থীরা।

সাভারের রাজাবাড়ী থেকে এসেছেন ঢাবির ফিন্যান্স বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বাবা রশিদ মুনতাসির। ছেলে যখন ঢাবিতে ভর্তি হয়েছিল তখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনেকটা শঙ্কায় ছিলেন তিনি।

ঢাবিতে ভর্তি হয়ে রাজনীতিতে জড়ায় কি না? পাস করে বের হতে পারে কি না? তবে বাবার এমন সব শঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে সফলতার সঙ্গে গ্র্যাজুয়েট শেষ করেছেন ছেলে গোলাম শাহরিয়ার মোর্শেদ।

পড়াশোনা শেষ করে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি পদে চাকরি করছেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে। ছেলের এমন সাফল্যে বাবা রশিদ বলেন, ‘টিভিতে দেখতাম, কালো জামা আর টুপি পড়ে শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পুরষ্কার নিচ্ছে। খুব শখ ছিল নিজের ছেলেকে এই জামায় দেখতে। স্বপ্ন পূরণ হলো। এখন একটাই কামনা, ছেলে যাতে সাফল্যের উচ্চ শিখরে পৌঁছতে পারে।’

ঢাবির ভাষাতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মুক্তা আক্তারের অভিভাবক টঙ্গী থেকে সমাবর্তনে এসেছেন। আবেগাপ্লুত হয়ে কাছে তিনি বলেন, ‘গত ৭ দিন ধরে আমার বাসায় উৎসব চলছে। উৎসব থাকবে আরও ৩ দিন। সন্তান জন্ম দেয়ার পর থেকেই বাবা-মা সন্তানকে সফল হিসেবে দেখতে চায়। আমার সন্তানকে সমাবর্তন নিতে দেখে আমি খুবই খুশি।’

সমাবর্তন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের খেলার মাঠে একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২১ হাজার ১১১ জন গ্র্যাজুয়েট সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছেন। যা ঢাবির ইতিহাসে সর্বাধিক গ্র্যাজুয়েট। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৯৬টি স্বর্ণপদক, ৮১ জনকে পিএইচডি এবং ২৭ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সভাপতিত্বে সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা থাকবেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। এ ছাড়া ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের রেজিস্ট্রেশনকৃত গ্র্যাজুয়েটরা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজ ভেন্যু থেকে সরাসরি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।