‘সাত মাসের’ চেষ্টায় পাওয়া বিশ্ব তোলপাড় করা আলোকচিত্র!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৩৩:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০১৯
সংগৃহীত

খুঁটির মাথায় জুড়ে দেয়া ছোট এক ফালি কাঠে তিন শব্দের সতর্কীকরণ নির্দেশনা, ‘মাছ ধরা নিষেধ’। এমন কড়া নির্দেশনা কার জন্য সেটা লেখা নেই। তাই ধরে নেয়া যায়, মানুষ কিংবা পাখি-সবার জন্যই পুকুরের মালিকের এই আইন!

কিন্তু সেই সাইনবোর্ডের ওপরই ঠোঁটে মাছ নিয়ে দাঁড়িয়ে মাছরাঙাটি। তার আয়েশি ভাবটা যেন এমন, এসব নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা সে করে না! ফেসবুকেই জেনেছি বিরল মুহূর্তের ছবিটি তুলেছেন আলোকচিত্রী ফিরোজ আল সাবাহ।

ফিরোজ আল সাবাহকে আদর করে ঘনিষ্ঠজনেরা বলেন, ভীষণ সুন্দর পাগল, সুন্দরের পাগল। পাগল না হলে, একটা ছবি তোলার জন্য টানা সাত মাস লেগে থাকা যায় না। জি, সাত মাস! সাত মাসের চেষ্টায় মাছরাঙার এই নিয়ম ভাঙার ছবিটি তুলেছেন সাবাহ!

এই সাত মাস রোজ বিকেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে থেকেছেন। তারপর এক কুরবানির ঈদের দিনে ছবিটি তুলতে পেরেছেন সাবাহ। শুধু মাছরাঙার ছবিই নয়, তাঁর তোলা প্রতিটি ছবির পেছনে অনবদ্য গল্প জড়িয়ে আছে। খেকশেয়াল পরিবারের ছবি তুলতে গিয়ে ওই পরিবারের একজন হয়ে গিয়েছিলেন। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়ার ছবি তুলেছেন।

ছবির মতো তার নিজের জীবনেরও আছে এক পাগলামীর গল্প। শুধু ছবি তুলবেন বলেই ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হননি। পঞ্চগড়ের গ্রামের বাড়ি বোদা উপজেলায়। সেখানেই থাকেন।

 

পাখির-প্রাণির আর প্রকৃতির ছবি তোলেন। ছোটখাট একটা ব্যবসা করেন আর নিজেদের জমিজমা দেখাশোনা করেন। ছবি তুলায় তার শখ। পাখির ছবি তুলেছেন প্রায় ২৯০ প্রাজাতির।
খুব ছোটবেলায় মামার ক্যামেরায় ছবি তোলায় হাতেখড়ি। তারপর নবম শ্রেণিতে থাকতে নোকিয়া মোবাইল। এখন সঙ্গী ক্যাননের ইওএস ৭ডি ক্যামেরাটি।

আলোকচিত্র: ফিরোজ আল সাবাহ