সাব্বির ইস্যুতে হাসলেন সাকিব

প্রকাশিত: ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৪৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
ফাইল ছবি

আফতাব আহমেদ, নাজিম উদ্দিন, জিয়াউর রহমান হয়ে হালের লিটন, সৌম্য, সাব্বির। গায়ের সাথে তকমা লেগেছে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিষ্টের। শেষ পর্যন্ত অবশ্য প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ সবাই। বিশেষ করে সাব্বির রহমানের দলে জায়গা পাওয়াটা কেবল পাওয়ার হিটিংয়ে দলকে দ্রুত রান এনে দেওয়ার জন্যই, কিন্তু ব্যর্থতার বৃত্তে আঁটকে আছেন, দলে সুযোগও পাচ্ছেন নিয়মিত। নির্বাচকরাই কি তবে ভুল করছেন বারবার নাকি সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়েরাই মাঠে খেলতে পারছেনা?

আফগানিস্তানের বিপক্ষে রোববার(১৫ সেপ্টেম্বর) ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক সাকিবকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় এমনই প্রশ্নে। পুরো সংবাদ সম্মেলনে বিমর্ষ সাকিব যে একবার হেসেছেন সেটি সাংবাদিকের করা এই প্রশ্নের পরই।

না হেসেও উপায় কি? সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবি সভাপতি বেশ ফলাও করে গণমাধ্যমে বলে আসছেন সৌম্য, লিটন টেস্টের জন্য নয় তারা টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতেও যখন টানা ব্যর্থ হন তখন আসলে ওঠে প্রশ্ন, নির্বাচনেই আসলে সমস্যা?

ঘরোয়া লিগ ও বিপিএলে দুর্দান্ত পাওয়ার হিটিংয়ের পসরা সাজিয়ে তবে ডাক পেলেন জাতীয় দলে। অভিষেকটাও হয়েছে টি-টোয়েন্টির মত মারকুটে খেলায়, যথারীতি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। মাঝেমধ্যে দুই একটা ইনিংসে নামের যথার্থতা প্রমাণ করতে চেষ্টা করলেও টানা বাজে ফর্মে আবারও আড়ালেই থেকে যান সাব্বির রহমান। লিটন কুমার দাসকে টেকনিক্যালি দেশের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন ভাবা হয়, ঘরোয়া লিগ নিয়মিত ফলো করা যে কেউই বলবে কতটা মসৃন লিটনের ব্যাটিং স্টাইল। কিন্তু প্রায় ৫ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেও রাখতে পারছেননা প্রতিভার ছাপ।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে গতকাল(১৫ সেপ্টেম্বর) ৩২ রানে চার উইকেট হারানোর পর ক্রিজে আসা সাব্বিরের জন্য নায়ক হওয়ার মঞ্চ ছিল প্রস্তুতই। ৯০ বলে ১৩৩ রান সাব্বির, রিয়াদের মত ব্যাটসম্যান ক্রিজে থাকায় অসাধ্য কিছু ছিলনা। ড্রেসিংরুমে অপেক্ষায় ছিলেন মোসাদ্দেক, আফিফ হোসেন ফলে বিপর্যয় কাটিয়ে ভালো কিছু করার সুযোগ ছিল সাব্বিরে ব্যাটে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করে রিয়াদ কিছুটা এগিয়ে দিলেও সাব্বির ফিরেছেন ২৭ বলে ২৪ রানের দৃষ্টিকটু ইনিংস খেলে, দল হেরেছে শেষ পর্যন্ত ২৫ রানে।

এমন বিশেষজ্ঞ তকমা লাগানো ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থ হওয়ার দায়ভার আসলে কে নিবে? সাংবাদিকের করা প্রশ্নে হাসি দিয়ে পরিস্থিতি সামালের চেষ্টা সাকিবের, পরক্ষণেই বললেন, “আসলে দেখেন একটা খেলোয়াড় যখন নেওয়া হয় তখন বিশ্বাস করা হয় ওই খেলোয়াড় দলে অবদান রাখবে, সাহায্য করবে। অনেক সময় এটা হয় অনেক সময় হয়না।”

“খারাপ করলে সমালোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমাদের উচিত তাদের সমর্থন দিয়ে ফর্মে ফেরানো। আসলে টুর্নামেন্ট চলাকালীন এসব নিয়ে কথা না বলা ভালো, টুর্নামেন্টটা যদি আমরা ভালোভাবেও শেষ করি আমাদের অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করতে হবে।”