সালাম না দেয়ায় চবিতে ভর্তিচ্ছুকে অমানবিক র‌্যাগ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ৫:৫৬:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮

চট্টগ্রাম বিশ্বববিদ্যালয়ে সোহরাওয়ার্দী হলে ভর্তিচ্ছুকে জামা খুলে র‌্যাগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মানসিকভাবে নির্যাতিত ওই ছাত্র ডি ইউনিটের পরীক্ষা ভালোভাবে দিতে পারেননি।

ওই ভর্তিচ্ছুর বড়ভাই আশিক ইমরান এনিয়ে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। এতে তিনি লিখেছেন, সোহরাওয়ার্দী হলের ১৪০ নং রুম থেকে র‌্যাগ দিতে আমার ছোট ভাইকে ধরে নিয়ে যায় ছাদে। তার অপরাধ ছিল সিনিয়ররা রুমে ডুকছে তাদেরকে কেন দাড়িয়ে সালাম দিলো না। ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে হলের সন্ত্রাসীদের এমন অভয়ারণ্য পরিবেশ বুঝতে না পারার তার এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হলো। তাকে র‌্যাগ এর সময় জিজ্ঞাসা করা হলো পরীক্ষা কেমন দিয়েছে। সে বললো আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে। ওরা বলতে লাগলো তুই আলহামদুলিল্লাহ বললি কেন? তুইতো শিবির। রাত ৯ টা থেকে ১২.৩০ পর্যন্ত র‌্যাগ এর এক পর্যায়ে তাকে জামা খুলতে বলা হয়। মেরে রক্তাক্ত করা হয়। মানসিকভাবে টর্চারের শিকার হয়ে সে ‘ডি’ ইউনিট এর পরীক্ষাও ভালোভাবে দিতে পারেনি। ক্যাম্পাসে এসব গুন্ডাদের বিরুদ্ধেও সাধারণ ছাত্রদের রুখে দাঁড়াতে হবে। নয়তো মনে রাখবে কাল হয়তো আপনার ভাইয়ের বেলায় ও এমন ঘটবে।

এদিকে ক্যাম্পাসলাইভের পক্ষ থেকে সোহরাওয়ার্দী হলের ১৪০ নং কক্ষের শোয়েবকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমার পরীক্ষা চলছে। তাও শিবলু ভাইয়ের কথায় ওই ভর্তিচ্ছুসহ কয়েকজনকে আমি রাতে জেগে আমার রুমে থাকতে দিয়েছি। আমার রুমে বাইরে থেকে কয়েকজন ছাত্র এসে ওই ভর্তিচ্ছুকে র‌্যাগ দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে আমি বেশ লজ্জার মাঝে পড়েছি।

শিবলু ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, কয়েকজন ভর্তিচ্ছু কোথাও থাকার জায়গা না পেয়ে আমার কাছে আসে। অামি তাদেরকে শোয়েবের কাছে পাঠাই রাখার জন্য। রাতে শোয়েব আমাকে ফোন করে জানায় ভর্তিচ্ছুদের একজন বড়ভাইদের সঙ্গে বেয়াদবি করেছে। আমি বললাম তাকে বুঝিয়ে বলো বেয়াদবি না করতে। পরে শুনি তাকে র‌্যাগ দেয়া হয়েছে। তবে কারা র‌্যাগ দিয়েছে সেটা জানি না। শোয়েব খুবই ভালো ছেলে বলে আমি জানি। সে র‌্যাগের সঙ্গে কোনভাবেই জড়িত নয়। আসলে মানুষের উপকার করলেই বিপদে পড়তে হয়। ওদের থাকার ব্যবস্থা করেছি এখন আমার নাম জড়ানো হচ্ছে। এসময় তিনি আরো বলেন, আমি ভর্তিচ্ছুদের রাখার জন্য বলেছি। আমি কি তাকে র‌্যাগ দেয়ার কথা বলতে পারি এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি। তিনি বলেন, অামি ভর্তিচ্ছুদের হলে পাঠিয়ে নিজেই লজ্জার মাঝে পড়েছি।