সালিশে গিয়ে কিশোরীকে বিয়ে: সেই চেয়ারম্যানের বরখাস্তের আদেশ স্থগিত

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২১ | আপডেট: ৭:৩৮:অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২১

পটুয়াখালীর বাউফলে প্রেমের সালিশ করতে গিয়ে কিশোরীকে (১৫) বিয়ে করা আলোচিত চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারকে এবার বরখাস্ত করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর বাউফলে প্রেমের সালিশ করতে গিয়ে কিশোরীকে বিয়ে করা আলোচিত চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারকে বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এক মাস অথবা নিয়মিত আদালত খোলা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।

এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের আদেশে শাহীন হাওলাদারকে বরখাস্ত করা হয়। আদেশে বলা হয়েছিল, সালিশ করতে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করেছেন।

এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগের বরখাস্তের আদেশটি স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার। সেই আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার বরখাস্ত স্থগিতের আদেশ দেন।

কোর্টে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

আইনজীবী মাহবুব শফিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ২৯ জুন যে বরখাস্তের আদেশটি দিয়েছিল সেটি একমাস অথবা নিয়মিত কোর্ট খোলা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। উনাকে বরখাস্তের কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল উনি অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে বিয়ে করেছেন। আমরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেয়া ২০১১ সালের একটি জন্মসনদ দেখিয়ে বলেছি, মেয়েটির জন্ম ২০০৩ সালে।

সে অনুসারে মেয়েটির বয়স ১৮ বছর তিন মাসের মতো। ফলে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করার অভিযোগটি ঠিক না। তাছাড়া মেয়েটির আগের বিয়ে, ডিভোর্সের কাগজপত্র দেখিয়েছি। আদালত সন্তুষ্ট হয়ে বরখাস্তের আদেশটি স্থগিত করেছেন।

এর আগে স্থানীয় হাফেজ রমজানের সাথে একই এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে নাজনিন আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে উভয়ের পরিবারে টানা-হেঁচড়া চলছিল। গত ২৪ জুন নাজনিন ও রমজান বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ খবর নাজনিনের বাবা নজরুল ইসলাম কনকদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে জানান। পরে ২৫ জুন সকালে ছেলে-মেয়েসহ তাদের পরিবারের সকলকে সালিশের জন্য চেয়ারম্যান তার আয়লা এলাকার বাড়িতে হাজির হতে বলেন।

এক পর্যায়ে নাজনিন, রমজান ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সবাই চেয়ারম্যানের বাড়িতে উপস্থিত হলে সেখানে সালিশি বৈঠক শুরু হয়। সেখানেই এক পর্যায়ে নাজনিনকে বিয়ে করেন চেয়ারম্যান।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার হলে পরদিন সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান নাজনিনের কাছ থেকে তালাকনামায় স্বাক্ষর করে নাজনিনকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়। পরে নাজনিনের সাথে তার প্রেমিক রমজানকে আবার বিয়ে করিয়ে দেয় চেয়ারম্যান ও তার লোকজন।