সিইসির হাতে ‘ভোট জালিয়াতি’র প্রমাণ দিয়ে যা বললেন ফখরুল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রকাশিত: ৮:০২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০১৯ | আপডেট: ৮:০২:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০১৯

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় নির্বাচনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিরোধী এ নির্বাচনী জোটের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন ভবনে এসে সিইসির কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির একাদশ জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু প্রমুখ।

স্মারকলিপি দেয়া শেষে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনের নামে জাতির সঙ্গে তামাশা করা হয়েছে। দেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের জয়ীরা শপথ নেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। শপথ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

ঐক্যফ্রন্টের দাবি মানা না হলে পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা পরে জানবেন। এটা তো প্রমাণই হলো ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করেছিলাম, সেটাই সঠিক।

তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। অনতিবিলম্বে নির্বাচন বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জোর দাবি জানিয়েছি।

পরে সাংবাদিকদের স্মারকলিপি পড়ে শোনান মির্জা ফখরুল। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনের আগের রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সহায়তার আওয়ামী লীগের কর্মী ও সন্ত্রাসী বাহিনী ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট কেটে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে।

এর আগে দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে সারা দেশের ২৯৯ আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে প্রার্থীদের কাছ থেকে ‘ভোট কারচুপি’, ‘কেন্দ্র দখল’, ‘ভোট ডাকাতির তথ্য ও অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে অভিযোগ আকারে দেয়া হবে নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন দফতরে। বিদেশি কূটনীতিকদেরও বিষয়গুলো জানানো হবে।

বিদেশি কূটনীতিকদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলা হবে যে, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো সুষ্ঠু ভোট হওয়া সম্ভব নয়। তাই জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি সুষ্ঠু ভোটের দাবি জানাবে বিএনপি ও শরিকরা।