সেই মোজাম্মেলকেই এখন চেনে না বিএনপি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৮ | আপডেট: ৯:২১:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৮
ফাইল ছবি

যার আবেদনে বিএনপির গঠনতন্ত্রের সাত ধারা বাতিলের উদ্যোগ আটকে গেছে, তিনি নিজেকে বিএনপি কর্মী দাবি করেছেন। তবে বিএনপির ওই থানার কোন নেতারা এই নামে কোনো কর্মীকে চিনেন না বলে জানিয়েছেন।

মোজাম্মেল হোসেন নামে ওই ব্যক্তি নিজেকে কাফরুল বিএনপির কর্মী দাবি করে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন। বিএনপির গঠনতন্ত্রের সাত ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন তিনি।

ওই ধারা অনুযায়ী দণ্ডিত অথবা সামাজিকভাবে দুর্নীতিবাজ হিসেবে স্বীকৃত কেউ বিএনপির সদস্য হতে পারবেন না। এই ধারা বাতিল না হলে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়বে। কারণ, খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় এবং তারেক রহমান দুর্নীতির দুটি এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ডিত।

গত ৮ ফেব্রুয়রি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার আগে আগে বিএনপি সেই সাত ধারা বাদ দিয়ে নির্বাচন কমিশনে সংশোধিত গঠনতন্ত্র জমা দেয়। ফলে দণ্ডিতদের নেতা করা যাবে না- এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া থেকে বেঁচে যাওয়ার আশায় ছিল দল।

তবে নয় মাস পর হঠাৎ করে মোজাম্মেলের আবেদনের ভিত্তিতে উচ্চ আদালত থেকে রায় এসেছে, আগামী এক মাসের মধ্যে এই আবেদন নিষ্পত্তি করতে হবে। ফলে আপাতত সেই সাত ধারা বাতিল করে জমা দেয়া গঠনতন্ত্র গ্রহণ করা যাবে না। ফলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আর বিএনপির সদস্য থাকতে পারবেন কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

উচ্চ আদালতের রায়ের পর জানা যায়, সাত ধারা সংশোধনের সিদ্ধান্তে সংক্ষুদ্ধ হয়ে নির্বাচন কমিশনে চ্যালেঞ্জ করেন মোজাম্মেল হোসেন। নিজেকে ঢাকা মহানগর উত্তরের কাফরুল থানা বিএনপির কর্মী পরিচয় দিয়ে এই আবেদন করেন তিনি।

ঢাকা মহানগর উত্তরের নতুন কমিটি হওয়ার পর কাফরুলে এখনো নতুন কমিটি হয়নি বলে জানা গেছে। তবে মহানগরের নেতাদের কাছে প্রস্তাবিত কমিটি জমা দেয়া আছে।

প্রস্তাবিত কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে নাম থাকা রফিকুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, মোজাম্মেল হোসেন বলে আমাদের কোনো কর্মী আছেন বলে তো জানা নেই। আর আমাদের দলের কোনো সাধারণ কর্মী শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেন আবেদন করবেন?’

মোজাম্মেল হোসেনের হয়ে উচ্চ আদালতে লড়েছেন আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন মেহেদী। তার কাছ থেকে মোজাম্মেলের পুরো পরিচয় বের করা যায়নি তিনি ফোন না ধরায়।