স্ত্রীকে গণধর্ষণ, মামলা করায় হাত-পা ভেঙ্গে দিলো আসামিরা!

প্রকাশিত: ৭:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ | আপডেট: ৭:১২:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

গৌতম চন্দ্র হালদার, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: কলাপাড়ায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ আসমা বেগমের স্বামী মো. ছিদ্দিকের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় সময় বাড়ীর কাছে একটি চায়ের দোকানে বসেছিলে সিদ্দিক।

এ সময় মামলার আসামিরা ৭-৮ জনের একদল চাপাতির উল্টোদিক, হকিস্টিক ও রড দিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। এতে তার দুই পা এবং এক হাত ভেঙ্গে যায়।

এছারা তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত হয়েছে। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কলাপাড়া হাসপাতালে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ৩টায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।

মহিপুর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গণধর্ষণ মামলার আসামি শ্রমিক লীগ নেতা শাকিল মৃধার নেতৃত্বে ছিদ্দিকের ওপর হামলা চালানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

অভিযুক্ত শাকিল গংদের চাপলি বাজারে একটি টর্চার সেল রয়েছে। পুলিশ বুধবার বেলা ১১টার দিকে শাকিলের এক সহযোগী আবুল খায়েরকে (২৪) গ্রেফতার করেছে।

এছাড়া ধর্ষণ মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি মামুন খলিফার বাড়ি থেকে চাপাতি, রড ও ভাঙ্গা হকিস্টিক জব্দ করেছে পুলিশ। জখম হওয়া ছিদ্দিক গণধর্ষণ মামলার বাদী। শাকিল সম্মেলনবিহীন কমিটি শ্রমিকলীগের মহিপুরের সাধারণ সম্পাদক। ত্যাগী নেতাকর্মীদের ভাষায় পকেট কমিটি।

পশ্চিম চাপলী গ্রামে স্বামী ছিদ্দিককে মারধর করে বেধে রেখে স্ত্রী আসমা বেগমকে ১৫ এপ্রিল রাতে বিলে নিয়ে সকাল পর্যন্ত গণধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ১৭ এপ্রিল পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শাহআলম মাঝিকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন ছিদ্দিক।

মহিপুর থানায় ২৩ এপ্রিল মামলাটি রেকর্ড হয়। মহিপুর পুলিশ এ মামলায় রবিউল ও মামুনকে গ্রেফতার করে। পহেলা জুলাই মহিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহবুবুল আলম সাত জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

ধুলাসার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী জানান, এ মামলার প্রধান আসামি শাহআলম মাঝিসহ অধিকাংশের দলের পদ-পদবী নেই। হঠাৎ নব্য হাইব্রিড হিসেবে নিজেদের জাহির করে দলের পরিচয়ে এমনসব অপকর্ম করছে। এরা এলাকায় ত্রাসসহ চাদাবাজি করে বেড়ায়।

এদের কারণে ধুলাসারে এখন দলের ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে। এচক্রের নব্য হাইব্রিড সকলকে আইনের আওতায় ছাড়াও দলের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্নের দাবি উঠেছে। মহিপুর থানার ওসি সোহেল আহাম্মদ জানান, বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।