স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

প্রকাশিত: ৪:২৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | আপডেট: ৪:২৭:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
প্রতীকী ছবি

বরগুনা সংবাদদাতা: যৌতুক না দেয়ায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অ’ভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে স্বামীকে যাবজ্জীবন স্বশ্রম কারাদন্ড ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কা’রাদন্ড এবং শশুর শাশুরীকে পাচঁ বছর স্বশ্রম কা’রাদন্ড ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

রবিবার বিকাল চারটায় বরগুনার নারী ও শিশু নি’র্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষনা করেন। রায় ঘোষনার সময় দন্ডপ্রাপ্ত আসামী শাহ আলম ও তার বাবা কদম আলী সরদার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামী রিজিয়া বেগম অনুপস্থিত ছিল। দন্ড প্রাপ্ত আসামীদের বাড়ী বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার দক্ষিন তক্তাবুনিয়া গ্রামে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আমতলী উপজেলার কুলাউড়া গ্রামের দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর স্ত্রী রাবেয়া বেগমের মা জয়নব বিবি ২০০৪ সালের ১৬ নভেম্বর আমতলী থানায় মৌখিক অ’ভিযোগ করেন, তার কন্যা রাবেয়াকে তিন বছর আগে ওই জামাতার কাছে বিয়ে দেয়। জামাতা ও তার শশুর শাশুরী যৌতুকের জন্য তার মেয়ে রাবেয়াকে প্রায়ই নির্যাতন করে।

১৬ তারিখ রাতে রাবেয়ার স্বামী শাহ আলম তার বাড়ীতে এসে বলে আপনার মেয়ে খুব অসুস্থ্য। রাত অনুমান ৯টার সময় রাবেয়ার মা তার জামাতার সঙ্গে তার বাড়ীতে গিয়ে মেয়েকে মৃ’ত্যু অবস্থায় পায়। জয়নব বিবি শাহ আলমের মায়ের কাছে জানতে চায় তার মেয়ে কি ভাবে মারা গেল। তখন শাহ আলমের মা রিজিয়া বেগম বলেন, বিকালে সে বাহিরে চারা গাছে পানি দিতে ছিল।

এমন সময় রাবেয়া চিৎকার দিয়ে বলে আম্মা আমার বুকটা জ্বলে যাচ্ছে। একটু পরে রাবেয়া মা’রা যায়। এই ঘটনায় আমতলী থানার উপপরির্দশক (এসআই) মো. লুৎফর রহমান বাদী হয়ে ২০০৫ সালের ৬ মার্চ ওই তিজনকে আসামী করে একটি হ’ত্যা মা’মলা দায়ের করেন। তদন্তকারী তদন্ত শেষে ২৭ জুন ওই তিনজন আসামীর বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ পত্র দাখিল করেন।

আদালতে মোট ১১ জন সাক্ষী দেয়। এর মধ্য মেডিকেল অফিসার সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, রাবেয়াকে শ্বাসরোধ করে হ’ত্যা করার আলামত পাওয়া গেছে। রায় ঘোষনার সময় আদালত মন্তব্য করেন। রাবেয়াকে তার স্বামী শাহ আলম, শশুর কদম আলী সরদার ও শাশুরী শ্বাসরোধ করে হ’ত্যা করেন।

শাহ আলমের বাবা ও মা তার ছেলেকে বাচাঁনোর জন্য হ’ত্যা কান্ডটি অন্যদিকে নেয়ার চেষ্টা করে কতগুলো বানোয়াট সাক্ষী দেওয়ানো হয়। সেই সব সাক্ষী দিয়ে কোন ফলাফল আসেনি আসামীদের।

আদালতে উপস্থিত দন্ডপ্রাপ্ত আসামী শাহ আলম বলেন, হুজুর রাবেয়াকে আমি হ’ত্যা করিনি। আমি নির্দোষ। আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি অনেক দিন জেল খেটেছি। বাড়ীতে আমার কেহ নেই। শাহ আলমের বাবা কদম আলী সরদার বলেন, এই রায়ের বি’রুদ্ধে আমরা হাই কোর্টে যাব। আমাদেরকে মিথ্যা মা’মলায় সাজা দেয়া হয়েছে।