হাইস্কুল পাস করে ভারতীয় কারাগারে, স্নাতকোত্তর শেষে পাকিস্তানে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৪৯:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৮
সংগৃহীত

বারানসী সেন্ট্রাল জেলের সিনিয়র সুপারিনটেন্ডেন্ট অম্বরিশ গৌড় জানিয়েছেন, বারানসীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন জালাল। ভারতীয় বিমানবাহিনীর অফিসের সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিল ক্যান্টনমেন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ম্যাপ।

হাতে সন্দেহজনক নথিপত্র থাকায় ভারতীয় পুলিশ আটক করেছিল পাকিস্তানি নাগরিক জালালউদ্দিনকে। এর পর দীর্ঘ ১৬ বছরের কারাগারে আটক ছিলেন তিনি। এ সময় তাকে একটি লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে।

তাকে যখন কারাগারে ঢোকানো হয়, তখন তিনি ছিলেন মাত্র হাইস্কুল পাস। অবশেষে স্নাতকোত্তর শেষে কারামুক্ত হলেন জালালউদ্দিন।

তিনি আদতে পাকিস্তানের সিন্ধুপ্রদেশের বাসিন্দা। কিন্তু ১৭ বছর আগে উত্তরপ্রদেশের বারানসীতে দেখা গিয়েছিল জালালউদ্দিনকে। সেই সময় তার হাতে ছিল বেশ কিছু সন্দেহজনক কাগজপত্র।

তখন তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টের আওতায় বেশ কিছু দিন মামলা চলার পর আদালতের রায়ে ১৬ বছরের জেল হয় তার। ঠাঁই হয় বারানসীর কেন্দ্রীয় কারাগারে।

জেলে থাকাকালীনই লড়াই শুরু জালালউদ্দিনের। জেলে বসেই ফের একবার প্রথাগতভাবে পড়াশোনায় নিজেকে ডুবিয়ে দেন তিনি। অম্বরিশ গৌড় বলেন, গ্রেফতারের সময় হাইস্কুল পাস ছিলেন জালালউদ্দিন। এর পর জেল থেকেই ভর্তি হন ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে। জেল থেকেই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের পড়া শুরু।

করেসপন্ডেন্স কোর্সের মাধ্যমে সেসব পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি জালালউদ্দিন। অম্বরীশ গৌড়ের ভাষ্য, জেলে থাকাকালীন ইলেকট্রিশিয়ানের একটি কোর্সও করেছেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলোতেও আগ্রহ জালালউদ্দিনের।

অম্বরিশ গৌড় বলেন, গত তিন বছর ধরেই জেল ক্রিকেট লিগের আম্পায়ারিং করেন জালাল উদ্দিন। চলতি মাসেই জালালউদ্দিনের সাজা শেষ হয়েছে। রবিবার জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিনি। এবার ঘরে ফেরার পালা!