হিজড়াদের সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৪৩:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০১৮

প্রথমত, ‘হিজড়া’ মানব সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। এ মানব সম্প্রদায় সম্পর্কে আমাদের নেতিবাচক ধারণাও রয়েছে। ফলে সমাজে অতি কাছে থেকেও হিজড়াদের সম্পর্কে আমাদের আগ্রহের কমতি পরিলক্ষিত হয়। বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান বলছে, ‘হিজড়া’ শব্দটি হিন্দি ভাষা থেকে এসেছে। হিজড়াবিষয়ক একজন গবেষক বলেছেন, ‘হিজড়া’ শব্দ এসেছে ফারসি থেকে। [ড. জোবাইদা নাসরীন : ‘আমাদেরই বুঝদার হতে হবে’, আমাদের সময়, ঢাকার দৈনিক পত্রিকা, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮]

আমরিন খান বলেছেন, ফারসি ভাষায় হিজড়া অর্থ হলো ‘সম্মানিত ব্যক্তি’। মানবাধিকার বাংলাদেশ ২০১৪, আইন ও সালিশ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত আমরিন খানের প্রবন্ধ ‘যৌনগত সংখ্যালঘুর অধিকার’। তবে যে ভাষা থেকেই শব্দটি আসুক না কেন, হিজড়ার আরো অনেক সমার্থক ও পারিভাষিক শব্দ আমাদের সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ছড়িয়ে আছে। যেমন—শিখণ্ডী, খোঁজা, বৃহন্নলা, তৃতীয় লিঙ্গ, উভয় লিঙ্গ, নপুংসক, ইংরেজি ভাষায় ট্রান্সজেন্ডার, হার্মফ্রোডাইট, হিব্রু ভাষায় ইউনাক, আরবি ভাষায় খুনসা ইত্যাদি।

প্রকৃতপক্ষে হিজড়া নারী-পুরুষের বাইরে আরেকটি লিঙ্গবৈচিত্র্যের মানবধারা। যৌন-বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে আমরা ছয় ধরনের হিজড়ার অস্তিত্ব সমাজে পাই। হিজড়া মানববিশেষ লৈঙ্গিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিকশিত হয়, তার লিঙ্গ অনুপযোগী। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিকলাঙ্গ। ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী হিজড়া হচ্ছে সে, যার পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়টিই রয়েছে অথবা কোনোটিই নেই। শুধু প্রস্রাবের জন্য একটি ছিদ্রপথ রয়েছে। একই দেহে স্ত্রী ও পুরুষ চিহ্নযুক্ত অথবা এই উভয় চিহ্নবিযুক্ত মানুষটি হলো হিজড়া। [সূত্র : মাওলানা ইসমাঈল মাহমুদ : ‘প্রসঙ্গ হিজড়া : ইসলামী দৃষ্টিকোণ’, বাতায়ন, ইসলামী গবেষণা সাময়িকী, বসিলা, ঢাকা, মে ২০১৫ সংখ্যা, পৃষ্ঠা ৭৬]

সবচেয়ে ভালো হয়, আমরা যদি তাকে ‘লিঙ্গ প্রতিবন্ধী’ বলি। সব মানুষই নিখুঁত নয়, কারো হাত নেই, কারো পা নেই, কেউ চোখে কম দেখে, কেউ কানে শোনেই না, কেউ কথা বলতে পারে না, কারো বুদ্ধি কম। এদের আমরা প্রতিবন্ধী বলি। হিজড়ারাও এক ধরনের প্রতিবন্ধী, তারা লিঙ্গপ্রতিবন্ধী।

তবে এর মধ্যেও আমরা হিজড়াদের নারী-পুরুষ ভেদ করতে পারি। অনেক হিজড়ার দাড়ি, গোঁফ গজায়, অনেকেই নারী সহবাসে সক্ষম, অনেকেরই স্বপ্নদোষজাতীয় পুরুষ-প্রকৃতি প্রকাশিত হয়। এদের আমরা সহজেই পুরুষ শ্রেণির হিজড়ার মধ্যে ফেলতে পারি। আবার কিছু হিজড়ার মধ্যে স্তন প্রকাশিত হয়, তাদের ঋতুস্রাবও হয়, সহবাসে উপযোগী থাকে, গর্ভসঞ্চারিত হওয়ার মতোও নারী-প্রকৃতি সমানভাবে প্রকাশিত হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা হিজড়া বিষয়টিকে মানুষের জেনেটিক সমস্যা বলে অভিহিত করেছেন। [ডা. আবদুল ওয়াদুদ, যুগান্তর, ঢাকার দৈনিক, ২১ ডিসেম্বর ২০১২]। তবে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করেন, লিঙ্গীয় ভিন্নতা আসলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অংশ নয়। [ডা. জোবাইদা নাসরীন, পূর্বোক্ত সূত্র] নারীর দেহে হরমোনের অসামঞ্জস্যতার কারণে হিজড়া সন্তান জন্মের একটি বড় কারণ। অনেক সময় জন্মের পরও হরমোনের তারতম্যের কারণে নারী-পুরুষ প্রকৃতির মাঝখানে তৃতীয় আরেকটি লিঙ্গের সৃষ্টি হতে পারে। শিশু বয়সে যৌন নিপীড়নের শিকার হলেও কেউ হিজড়া হয়ে যেতে পারে। কোনো সময় আতঙ্ক থেকেও মানুষ নিজেকে অপর লিঙ্গের মতো ভাবতে থাকে।

এই অন্য লিঙ্গের মতো ভাবতে পারা যদি নারী-প্রকৃতি হয়ে ওঠে, তখন হিজড়া একটা সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এইডস ও অন্যান্য যৌনবাহী রোগের ধারক হিসেবে পতিতার মতো হিজড়াদেরও গুনে থাকেন। বিশেষ করে নারী প্রকৃতির হিজড়ারা এ ক্ষেত্রে প্রধান সন্দেহের তালিকায় থাকে।

অথচ বাংলাদেশে হিজড়াদের সংখ্যা খুব বেশিও নয়। যদিও হিজড়ারা মনে করে, সারা দেশে হিজড়া সম্প্রদায়ের সংখ্যা দেড় লাখ। রাজধানী ঢাকায় আছে ১৫ হাজারের মতো হিজড়া। [প্রথম আলো, ঢাকার দৈনিক, ৩১ আগস্ট ২০১৩] অন্য একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে, সারা দেশে হিজড়াদের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ হাজারের মতো। কিন্তু ডেমোগ্রাফি সূত্র অনুযায়ী ঢাকার হিজড়ার সংখ্যা ২৫ হাজারের মতো। [যুগান্তর, ২১ ডিসেম্বর ২০১২]

হিজড়ারা কেন নারীরূপ সাজতে ভালোবাসে? প্রকৃতপক্ষে মানব-প্রকৃতির সবাই সাজতে ভালোবাসে। মেয়েরা একটু বেশি সেজে থাকে। হিজড়া নারী প্রকৃতি বা পুরুষ প্রকৃতি যা-ই হোক—সবাই দল ধরেই সাজগোজ করতে ভালোবাসে। এমনিতে হিজড়াদের একটা অংশ ভিক্ষাবৃত্তি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, বকশিশ, তোলা ইত্যাদি সামাজিক অপকর্মে রত আছে। এ কাজগুলো নারী সেজে করলে সুবিধা বেশি হয়ে থাকে বলে তাদের মনে একটা সুবিধাবাদ কাজ করে। যেহেতু আমাদের দেশে নারীরা এসব বৃত্তি ও পেশা বেছে নেয় না, সেহেতু হিজড়ারা সুযোগটি গ্রহণ করে। এতে প্রকৃতপক্ষে ‘নারীসমাজ’ অপমানিত হয়। হিজড়াদের নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হওয়ার এটি একটি বড় কারণ।

এসব প্রতারণামূলক কাজ পছন্দ করে না—এমন হিজড়াও সমাজে আছে। সমাজে প্রতিষ্ঠিত, শিক্ষিত হিজড়ারা এসব থেকে মুক্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকার একটি সুন্দর হিজড়াসমাজ গড়ে তোলার জন্য নানা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০১২ সাল থেকে হিজড়াশিশুদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি চালু করেছে। বাংলাদেশ আইন কমিশন সুপারিশকৃত ‘বৈষম্য বিলোপ আইন ২০১৪’ প্রণয়ন করেছে। জাতীয় সংসদেও তা গুরুত্ব পেয়েছে। এ আইনের ৪ নম্বর ধারা ও উপধারায় লিঙ্গ প্রতিবন্ধীদের জন্ম, পরিবার, উত্তরাধিকার বিষয়ে বৈষম্য বিলোপ করার কথা উল্লিখিত হয়েছে। সংবিধানের ১৯, ২৭, ২৮, ২৯ অনুচ্ছেদেও সব নাগরিকের সমতা, সমান সুযোগ ও সব ধরনের বৈষম্য বিলোপের বিধানাবলি লিপিবদ্ধ রয়েছে। মনে রাখতে হবে, হিজড়ারা পুরুষ নাকি নারী, এ প্রশ্নের উত্তরের চেয়েও জরুরি হলো তারা মানুষ। আমাদের সভ্যসমাজের মতোই মানবমণ্ডলী তারা। সুতরাং সব মৌলিক অধিকার তাকে দিতে হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিজড়াদের জন্য পঞ্চাশের বেশি বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠন রয়েছে। তাদেরও রয়েছে নানা রকম প্রকল্প ও কর্মসূচি। সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে মিলে এসব সংস্থা ও সংগঠন বাস্তবসম্মত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সমাজসেবা কমপ্লেক্সে ২০১৬ সালে হিজড়াদের রূপচর্চা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা বিউটি পার্লার ব্যবসাটা করতে পারে। [সূত্র : কালের কণ্ঠ, ঢাকার দৈনিক, ১৪ জুলাই ২০১৬] আমরা আগেই বলেছি, হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা নারী পরিচয় দিতে বেশি ভালোবাসে এবং সাজগোজ করা তাদের প্রধান শখ। সুতরাং আমরা বলতে পারি, নারী হিজড়াদের জন্য এ কার্যক্রম বাস্তবমুখী।

২০১৫ সালের ৩০ মার্চ ঢাকার বেগুনবাড়িতে যখন একদল জঙ্গি একজনকে হত্যা করে দৌড়ে পালাচ্ছিল, সাধারণ মানুষ যখন দর্শকের মতো উত্সুক হয়ে ঘটনাটি দেখছিল, তখন একজন হিজড়া দুজন জঙ্গিকে ধরে ফেলে। এ নিয়ে সারা দেশ উত্ফুল্লে ফেটে পড়েছিল। সে ছিল একজন নারী হিজড়া, নাম ছিল তার লাবণ্য।

এ প্রেক্ষাপটে প্রশাসন তাদের অধিকতর কাজে লাগাতে উদ্যোগী হয়। কেউ কেউ ট্রাফিক পুলিশের চাকরিও পায়। আমাদের সুপারিশ, নারী হিজড়াদের আনসার ও ভিডিপিতেও নেওয়া যায়, কারণ সেখানে প্রচুর পরিমাণে নারী আনসার ও ভিডিপি রয়েছে।

বাংলাদেশে প্রচুর হিজড়া আছে, যারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়েছে। তাদের হিজড়া পুনর্বাসনে কাজে লাগানো যায়। ভারতের বাংলা প্রদেশের কৃষ্ণনগর কলেজের অধ্যক্ষ মানবী বন্দ্যোপাধ্যায় একজন নারী হিজড়া। [মাহমুদুজ্জামান বাবু : আজন্ম পাপ এবং ‘হলদে গোলাপ’, প্রথম আলো, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬]

হিজড়াদের জন্য আবাসন প্রকল্প চালু করলে একটি নতুন সম্ভাবনা তাদের জীবনে জেগে উঠবে। তাদের চিকিৎসাসুবিধা দিতে হবে অন্য প্রতিবন্ধীদের মতোই বিনা মূল্যে, আর এতে নারী হিজড়াদের অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। তাদের সুস্থ বিনোদনে নিয়ে আসতে হবে, যাতে নারী হিজড়াদের অবৈধ কাজে কেউ ব্যবহার করতে না পারে।

হিজড়ারা যাতে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম না করে, তার জন্য তাদের আদব-কায়দা প্রশিক্ষণও দেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন একজন প্রতিবেদক। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রশিক্ষণে কোনো কর্মকর্তা অধিবেশনে প্রবেশ করলেই হিজড়ারা বলে উঠত—‘এই বেডা কেডা।’ প্রশিক্ষণের কয়েক দিনের মধ্যেই প্রশিক্ষককে তারা বলতে শুরু করে, ‘স্যার।’ [সূত্র : কালের কণ্ঠ, ১৪ জুলাই ২০১৬] এভাবে তাদেরও পরিবর্তন সম্ভব, সেটি যেকোনো বিষয়েই হোক।

আরেকটি ঘটনা লক্ষ করুন। মিয়ানমারে যখন রোহিঙ্গাদের গণহারে হত্যা করা হচ্ছিল, তখন ঢাকায় হিজড়া সম্প্রদায় প্রতিবাদ মিছিল করে। কয়েক শ হিজড়া মিছিল করে এবং মানববন্ধনও করে। এ সময় বক্তৃতা করেন আনোরি হিজড়া, রূপা হিজড়া, নাসিমা হিজড়া, সুইটি হিজড়া, সীমা হিজড়া। দেখুন, এরা সবাই নারী। তারা সবাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিল। [বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখুন, আমাদের সময়, অনলাইন সংস্করণ, ২৭ নভেম্বর ২০১৬] হিজড়ারা যে কত সচেতন নাগরিক, এসব ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দেয়।

২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ মন্ত্রিসভা তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে হিজড়াদের স্বীকৃতি দেয়। ২০০৮ সাল থেকেই বাংলাদেশে হিজড়ারা ভোটার। তাদের এ রাজনৈতিক অধিকার রাষ্ট্র মেনে নিয়েছে। আমাদের দেশে তাই নারী আছে, পুরুষ আছে, তৃতীয় লিঙ্গও আছে। মুসলিম শরিয়া আইন অনুযায়ী হিজড়ারা মা-বাবার সম্পত্তির ভাগ পাবে। তাদের বঞ্চিত করা আইনের বরখেলাপ হবে। তবে তারা উত্তরাধিকার সম্পদে নারী হিসেবে পাবে নাকি পুরুষ হিসেবে পাবে, তা-ও শরিয়ায় নিশ্চিত করা আছে। যে হিজড়া নারী বা পুরুষ প্রকৃতির, সে নারী বা পুরুষের মানদণ্ডেই উত্তরাধিকার সম্পদ পাবে, আর যে নারী নাকি পুরুষ, এর কোনোটিই চিহ্নিত করা যায় না, সে তার প্রস্রাবের পথের অবস্থা অনুযায়ী ভাগ পাবে। [সূত্র : সুনানে বায়হাকি, হাদিস নম্বর : ১২২৯৪]

‘নপুংসক’ অর্থ ধরে কাউকে ‘হিজড়া’ বলে গালি দেওয়া যাবে না। কাউকে ‘মন্দ নামে ডাকা গুনাহ’। [পবিত্র কোরআন, সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১১] মনে রাখতে হবে, যারা লিঙ্গপ্রতিবন্ধী, তারা আমাদের সভ্যসমাজেরই কারো না কারো সন্তান। আগে আমাদের দেশে শারীরিক অন্য প্রতিবন্ধীদের বোঝা মনে করা হতো, এখন এরা গৌরবের এবং মর্যাদার সঙ্গে বড় হচ্ছে।

লিঙ্গপ্রতিবন্ধীরাও ঠিক এমনই একটি ধারা, তাদেরও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে দিতে হবে। পরিবারের অন্য সদস্যদের মতোই তারা বড় হবে, শিক্ষা লাভ করবে, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে। তাদের নিয়ে একসঙ্গে চলতে সমাজে লজ্জার কিছু নেই। আমাদের নবী (সা.) যখন আরব ভূমিতে আগমন করলেন, তখন আরবের ঘরগুলোতে কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়া লজ্জার ছিল। কিন্তু ইসলাম যখন কন্যাসন্তানের মর্যাদা ঘোষণা করল, তখন কন্যাসন্তানই সমাজে হয়ে উঠল মর্যাদাশালী। লিঙ্গপ্রতিবন্ধিতা নিয়ে জন্মানোয় লজ্জার কিছু নেই, তাকে সুষ্ঠুভাবে, আলাদা যত্ন নিয়ে লালন-পালন করাই হবে গৌরবের। শিশু লিঙ্গপ্রতিবন্ধীকে প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা দিলে তার প্রতিবন্ধিতা সেরে ওঠার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। সুতরাং এদিকটাও দেখতে হবে।

সব শেষে একজন হিজড়ার গল্প দিয়ে লেখাটা শেষ করছি। একজন নারী হিজড়া ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে এমন করে : ‘আমি যে মায়ের গর্ভে জন্মেছিলাম, তার কাছে আমি থাকতে পারিনি কিংবা সে আমাকে রাখতে পারেনি। আমার জরায়ু নেই; কিন্তু আমার একটি মেয়ে আছে। সুতরাং মা হতে হলে জরায়ু থাকতে হবে এমন কথা নেই’। [ড. জুবাইদা নাসরিন তাঁর বন্ধু এক নারী হিজড়ার স্ট্যাটাসটি উদ্ধৃত করেছেন, দেখুন আমাদের সময়, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮] এ ঘটনাটি হিজড়াদের সম্পর্কে আমাদের মনের চোখ খুলে দিতে যথেষ্ট। আশা করি, হিজড়া সম্পর্কে আমাদের মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হবে। (অসমাপ্ত)

লেখক : ড. মোহাম্মদ হাননান
গ্রন্থকার ও গবেষক
drhannapp@yahoo.com