হ্যাট্রিক বিজয়ী এমপি আবু জাহিরকে মন্ত্রী চান জেলাবাসী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০১৯ | আপডেট: ৮:২১:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০১৯

মোঃ মামুন চৌধুরী,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির। তিনি ২০০৮ সালে নৌকা নিয়ে হবিগঞ্জ-৩ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ ও সর্বশেষ একাদশ নির্বাচনেও একই আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে হ্যাট্রিক বিজয় পান। তাই তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান হবিগঞ্জ জেলাবাসী। তৃণমূল থেকে জোরালোভাবে এ দাবী ওঠেছে।

সূত্র জানায়, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এমপি আবু জাহিরের মন্ত্রীত্বের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন ভাবে সরব হয়ে ওঠেন সচেতন মহলসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই এমপি আবু জাহিরকে মন্ত্রী করার দাবি জানিয়ে পোস্টারিং করা হয়েছে হবিগঞ্জ শহরে।

ফেসবুকে অনেকেই লিখেছেন, ‘এমপি আবু জাহির জেলার উন্নয়নের রুপকার। গত ১০ বছরে হবিগঞ্জে যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তার হাত ধরেই। বিশেষ করে হবিগঞ্জ-৩ আসনে যে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তা ছিল কল্পনাতীত। স্বাধীনতার পর সার্বিকভাবে এত উন্নয়ন চোখে পড়েনি কখনো। ১ম বার এমপি নির্বাচিত হবার পর থেকে চষে বেড়াচ্ছেন গ্রাম থেকে গ্রাম। নির্মাণ ও সংস্কার করেছেন অগণিত রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির ও মাদ্রাসা। সব সময়ই চেষ্টা করেছেন কোন না কোন ভাবে জনগনের কাছে থাকার। যে কারনে আবু জাহির নামটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘পরিশ্রমী এমপি’ হিসেবে পরিচিত। ফলে পরপর তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে হ্যাট্রিক গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, লাখাই ও হবিগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবী বলভদ্র ব্রিজ, হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়াম, স্বপ্নের মেডিকেল কলেজ, শায়েস্তাগঞ্জকে উপজেলায় উন্নীতকরণ, বৃন্দাবন সরকারী কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু, একই কলেজের সুপরিসর একাডেমিক ভবন নির্মাণ, আধুনিক জুডিসিয়াল ভবন নির্মাণ, বিকেজিসি ও হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ডাবল শিফট চালু, হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালকে ২৫০শয্যায় উন্নীত করণ ও প্রস্তাবিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এমপি আবু জাহিরের অনন্য অবদান।

দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, এমপি আবু জাহির তিলে তিলে কর্মী থেকে নেতা হয়েছেন। তার বলিষ্ট নেতৃত্বের কারনেই জেলায় আরও বেশী সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়েছে আওয়ামী লীগ। যে কারনে হবিগঞ্জ এখন দেশবাসীর কাছে দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ হিসেবে খ্যাত। তারা মনে করেন, জেলার সার্বিক উন্নয়নের ধারা এবং দলীয় অবস্থান সুসংহত রাখতে এমপি আবু জাহিরকে মন্ত্রী করা সময়ের দাবী।

উল্লেখ, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮শত ২৭ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় তার নিকটতম প্রতিদ্ব›িদ্ব ছিলেন বিএনপি মনোনীত আবু লেইছ মোঃ মুবিন চৌধুরী। তিনি পেয়েছিলেন ৫৭ হাজার ২শত ৬০ ভোট। তাদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ৯০ হাজার ৫শত ৬৭। যা ছিল বৃহত্তর সিলেটে ভোটের ব্যবধানে সর্বোচ্চ।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি দ্বিতীয়বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রাপ্ত ভোট ছিল ৯৮ হাজার ১শত ৫৫। সে সময় তার নিকটতম প্রতিদ্ব›িদ্ব ছিলেন জাতীয় পার্টির আলহাজ্ব আতিকুর রহমান আতিক। তিনি পেয়েছিলেন ২০ হাজার ৮শত ৩৭ ভোট। তাদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ৭৭ হাজার ৩শত ১৮।

সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি তৃতীয়বারের মত হ্যাট্রিক বিজয় অর্জন করেন।
প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮ শত ৭৩। এবার তার নিকটতম প্রতিদ্ব›িদ্ব ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব জি কে গউছ। তিনি পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৭৮ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ২৫ হাজার ৭শত ৯৫।